উৎসবের রঙে সাজছে...
জাতীয়

দেশের ৭০–৮০% শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে নিরাপত্তা ঝুঁকি

দেশের ৭০–৮০% শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে নিরাপত্তা ঝুঁকি
লেখা বড়/ছোট করুন:

একবিংশ শতাব্দীতে প্রযুক্তি এখন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ। প্রযুক্তির ব্যবহার যেমন দ্রুত বাড়ছে, তেমনি এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন ঝুঁকি। বিশেষ করে সাইবার সিকিউরিটি এখন বিশ্বব্যাপী একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কারণে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের বড় একটি অংশ এই খাতে ক্যারিয়ার গড়ার দিকে ঝুঁকছেন।

অনেকে মনে করেন, সাইবার সিকিউরিটি মানেই কেবল প্রযুক্তি। বাস্তবে এটি তিনটি মূল স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল—মানুষ, তথ্য সুরক্ষার প্রক্রিয়া এবং সেই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের প্রযুক্তি। তথ্য সুরক্ষায় এনক্রিপশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, যেখানে তথ্যকে সাইফার করে গোপন রাখা হয় এবং নির্দিষ্ট প্রাপক তা ডিক্রিপ্ট করে ব্যবহার করেন। এই প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানদণ্ড যেমন Advanced Encryption Standard (AES) ব্যবহৃত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের National Institute of Standards and Technology (NIST) এসব নিরাপত্তা মান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একটি নিরাপদ সিস্টেম গঠনে শুধু একটি প্রযুক্তি নয়, বরং একাধিক উপাদান একসঙ্গে কাজ করে, যাকে বলা হয় “সাইফার সুইট”। এতে ব্যবহৃত অ্যালগরিদম, এনক্রিপশন পদ্ধতি এবং ডিজিটাল সিগনেচারের ধরন নির্ধারণ করা হয়।

তবে এনক্রিপশনের আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো কী জেনারেশন। এই ধাপ দুর্বল হলে পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থাই ঝুঁকির মুখে পড়ে। পাশাপাশি হ্যাশিং একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া, যা তথ্যকে একমুখীভাবে রূপান্তর করে এবং তা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয় না। সফটওয়্যার অথেনটিকেশনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই পদ্ধতির ব্যবহার রয়েছে।

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের প্রায় ৭০–৮০ শতাংশ একাডেমিক প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে নিরাপদ সিকিউরিটি হেডার নেই। শুধু হেডার নয়, এসব ওয়েবসাইটে ব্যবহৃত সাইফার সুইট, এনক্রিপশন পদ্ধতি এবং ডিজিটাল সিগনেচারের শক্তিমত্তাও যাচাই করা জরুরি।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ফলাফল প্রকাশ, তথ্য বিনিময় ও অন্যান্য সেবার জন্য বিভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে নিরাপত্তার মান নিশ্চিত না করলে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট একই ধরনের ডোমেইন কাঠামোর অধীনে থাকায় একটি সাইট হ্যাক হলে অন্যান্য সাইটেও আক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।

এ অবস্থায় প্রয়োজন একটি নির্দিষ্ট নিরাপত্তা মানদণ্ড (baseline) তৈরি করা, যেখানে সিকিউর পারফরম্যান্স ইনডিকেটর ও আন্তর্জাতিক মানসম্মত বেস্ট প্র্যাকটিস অনুসরণ করা হবে। এর মাধ্যমে ধীরে ধীরে সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় সাইবার অবকাঠামোর টেকসই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।


লেখক: Dr. Ziaur Rahman

অধ্যাপক, আইসিটি বিভাগ

Mawlana Bhashani Science and Technology University

আপনার প্রতিক্রিয়া কেমন?

শেয়ার করুন:

মন্তব্য (0)

আপনার মন্তব্য লিখুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!