কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হওয়ার পর জজ মিয়া (৫৫) নামের এক বিএনপি নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বহিষ্কৃত জজ মিয়া উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ সদর আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম গতকাল রাতে বহিষ্কারাদেশে স্বাক্ষর করেন। এতে বলা হয়, জজ মিয়ার বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তার সঙ্গে কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখতে দলের নেতা-কর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে।
স্থানীয় দলীয় নেতা-কর্মীরা বলেন, দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জজ মিয়ার আচরণে পরিবর্তন আসে। তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে খারাপ আচরণ করতেন এবং ক্ষমতার দাপট দেখাতেন। সর্বশেষ তার বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে।
পুলিশ ও শিশুটির পরিবারের সূত্রে জানা যায়, ১৩ আগস্ট সকালে শিশুটি লাকড়ি শুকাতে গেলে জজ মিয়া তার মুখে গামছা পেঁচিয়ে পাশের জঙ্গলে নিয়ে যান এবং সেখানে ধর্ষণ করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে শিশুটিকে উদ্ধার ও জজ মিয়াকে আটক করেন। পরে তাকে শিশুটির বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, গ্রামের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি সালিসের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দিয়ে শিশুটির বাবাকে ৫০ হাজার টাকা দেয়ার কথা বলেন এবং জজ মিয়াকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। এরপর শিশুটির বাবা কুলিয়ারচর থানায় মামলা করেন। মামলা হওয়ার পর জজ মিয়া পলাতক রয়েছেন।
কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীন বলেন, আসামি জজ মিয়াকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
মন্তব্য (0)
আপনার মন্তব্য লিখুন
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!