ভারতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানের পর বেশ কয়েকজন বিশ্বনেতা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে নয়াদিল্লি। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এমন দাবিকে নাকচ করে এসব খবরকে সম্পূর্ণ 'ভুয়া' আখ্যায়িত করেছে। পাশাপাশি এ ধরনের 'বিদ্বেষপূর্ণ' তথ্যের বিরুদ্ধে সতর্কতা জারি করেছে দেশটি।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ডয়েচে ভেলের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফ্যাক্ট-চেকিং ইউনিট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে উল্লেখ করেছে, 'ভুয়া খবরের সতর্কতা! সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের বিদ্বেষপূর্ণ পোস্টের বিষয়ে আমরা সতর্ক করছি!' বিতর্কিত এসব পোস্টের তালিকায় বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম প্রেডিকশন মার্কেট প্ল্যাটফর্ম 'পলিমার্কেট'-এর একটি পোস্টও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
মূলত দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরই এই বিতর্ক শুরু হয়। প্রেসিডেন্ট রামাফোসার কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়, অসুস্থতার কারণে চিকিৎসকের বিশ্রামের পরামর্শ পেয়ে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন থেকে দেশে ফেরার পর সব ধরনের জনসমক্ষ কার্যক্রম থেকে নিজেকে আপাতত সরিয়ে নিয়েছেন তিনি।
তার এই অসুস্থতাকে কেন্দ্র করে সামাজিক ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এরই ধারাবাহিকতায় যাচাইবিহীন কিছু পোস্টে দাবি করা হয় যে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং অসুস্থ বোধ করায় ও জ্ঞান হারিয়ে চিকিৎসার জন্য সম্মেলন শেষ হওয়ার আগেই সম্মেলনস্থল ত্যাগ করেছিলেন। এই দাবিটি প্রথম উত্থাপন করেন 'চায়না ডেমোক্রেসি পার্টি'র চেয়ারম্যান ওয়ানজুন সিয়ে। তবে চীন বা ভারত কোনো দেশের সরকার বা নির্ভরযোগ্য কর্মকর্তা এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেননি।
বেইজিং ও নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সফলভাবে গত ১২-১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করেন তিনি। তবে সম্মেলনের প্রথম দিনে নরেন্দ্র মোদির দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেননি শি জিনপিং।
মন্তব্য (0)
আপনার মন্তব্য লিখুন
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!