ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফল নিয়ে অসন্তোষের জেরে নাটোরের লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করার ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এতে ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৪০ থেকে ২০০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। লালপুরের ঘটনায় ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৪০-৫০ জন এবং বাগাতিপাড়ার ঘটনায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ১০০-১৫০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
গত ১২ আগস্ট লালপুরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির নিয়োগের ফলাফল বাতিলের দাবিতে সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে জড়ো হন। একপর্যায়ে ৪০-৫০ জন ইউএনও কার্যালয়ে প্রবেশ করে বিক্ষোভ ও স্লোগান দিতে থাকেন। অভিযোগে বলা হয়, তারা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে মারধর করে শার্ট ছিঁড়ে ফেলেন, আইসিটি কর্মকর্তাকে ধাক্কা দেন, কার্যালয়ের আসবাবপত্র এলোমেলো করেন এবং সিসি ক্যামেরার তার ছিঁড়ে ফেলেন। ইউএনওকে ঘিরে গালিগালাজ ও শারীরিক লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি তার কক্ষে ডিম ছুড়ে মারেন তারা।
বাগাতিপাড়ায় একই দিন সকালে প্রায় শতাধিক লোক উপজেলা পরিষদ ভবনের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ইউএনও কার্যালয়ে যান। তারা ইউএনওর বিরুদ্ধে আপত্তিকর স্লোগান দিতে থাকেন এবং কার্যালয়ের বারান্দার ফুলের টব ও স্টিলের গেট ভাঙচুর করেন। বিক্ষোভকারীদের ছুড়ে মারা প্লাস্টিকের চেয়ার এক সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তার কপালে আঘাত করে। ঘটনা ভিডিও ধারণ করতে গেলে একজন কর্মচারীকে মারধর করে মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ফ্যামিলি কার্ডের ফলাফলে আপত্তি জানাতে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হলেও বিক্ষুব্ধরা তা না করে পুরো ফলাফল বাতিলের দাবিতে চাপ প্রয়োগ করেন। পরে পরের দিন আবারও একই ঘটনা ঘটবে বলে হুমকি দেন তারা।
লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম ও বাগাতিপাড়া থানার এসআই আব্দুর রাজ্জাক মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া উপজেলা প্রশাসন মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসন সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ঘটনা জানিয়ে চিঠি দিয়েছে।
মন্তব্য (0)
আপনার মন্তব্য লিখুন
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!