গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হওয়া দুটি বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ২১ ফিলিস্তিনির কঙ্কাল উদ্ধার করেছে গাজার সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধারকারী দল। শনিবার (১৫ আগস্ট) এই উদ্ধার অভিযান শেষে তৃতীয় একটি বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা ৪০ জনের দেহাবশেষ উদ্ধারে তল্লাশি চলছে।
সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে জানান, পূর্ব গাজা সিটির আসকুলা এলাকায় বাতনিজি পরিবারের একটি বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে ১২ জনের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে। পরে পশ্চিম গাজা সিটির কাতিবা এলাকায় গারবিয়াহ পরিবারের বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও নয়জনের দেহাবশেষ পাওয়া যায়।
উদ্ধারকারী দল এখন পূর্ব গাজা সিটির জেইতুন এলাকায় আল-মাগরিবি পরিবারের বাড়িতে কাজ করছে। সেখানে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও ৪০ ফিলিস্তিনির দেহাবশেষ আটকে থাকার খবর পাওয়া গেছে।
মাহমুদ বাসাল উদ্ধারকাজে তীব্র সংকটের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ভারী যন্ত্রপাতি, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, জ্বালানি ও অন্যান্য লজিস্টিক সামগ্রীর অভাবে উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে। বিপুলসংখ্যক ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনে পৌঁছানোও সম্ভব হচ্ছে না। প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান এই মুখপাত্র।
ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মরদেহ উদ্ধারে গাজার সিভিল ডিফেন্স গত ১৯ জুলাই দ্বিতীয় পর্যায়ের অভিযান শুরু করে। গাজা, উত্তর গাজা ও মধ্য গাজার ১৪৭টি ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়িতে অভিযান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এসব স্থাপনার ধ্বংসস্তূপে আনুমানিক ১ হাজার ৭২ ফিলিস্তিনির দেহাবশেষ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রথম পর্যায়ের অভিযানে ৫৪টি ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়ি ও ভবন থেকে ৩৩৩টি মরদেহ ও মানবদেহের অংশ উদ্ধার করা হয়। তবে সীমিত সম্পদের কারণে আরও ২২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার সম্ভব হয়নি।
গাজার সরকারি গণমাধ্যম দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ ফিলিস্তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের অনেকেই ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের নিচে চাপা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হিসাবে, এ পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং ১ লাখ ৭৪ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। নিহত ও আহতদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু। এ ছাড়া গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ।
মন্তব্য (0)
আপনার মন্তব্য লিখুন
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!