উৎসবের রঙে সাজছে...
খেলাধুলা

রাউন্ড ৩২ থেকেই বিদায় নেবে ব্রাজিল, চ্যাম্পিয়ন নেদারল্যান্ডস: জার্মান অর্থনীতিবিদের চমকপ্রদ ভবিষ্যদ্বাণী

রাউন্ড ৩২ থেকেই বিদায় নেবে ব্রাজিল, চ্যাম্পিয়ন নেদারল্যান্ডস: জার্মান অর্থনীতিবিদের চমকপ্রদ ভবিষ্যদ্বাণী
লেখা বড়/ছোট করুন:

ক্রীড়া ডেস্ক: বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর মানেই সেলেসাওদের ঘিরে কোটি ভক্তের উন্মাদনা আর হেক্সা মিশনের নতুন স্বপ্ন। দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে ট্রফি খরায় ভুগতে থাকা ব্রাজিলকে নিয়ে যখন চারদিকে নানা সমীকরণ আর তর্ক-বিতর্ক চলছে, ঠিক তখনই এক জার্মান অর্থনীতিবিদের চাঞ্চল্যকর ভবিষ্যদ্বাণী ফুটবল বিশ্বে হইচই ফেলে দিয়েছে। তার তৈরি বিশেষ গাণিতিক মডেল ও অ্যালগরিদম দাবি করছে, পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল এবার গ্রুপ পর্বের বাধা টপকালেও নকআউটের শুরুতেই অর্থাৎ রাউন্ড ৩২ থেকেই বিদায় নেবে! আর ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম ‘চোকার্স’ খ্যাত নেদারল্যান্ডস এবার ঘরে তুলবে তাদের ইতিহাসের প্রথম সোনালী ট্রফি।

​এই ভবিষ্যদ্বাণীটি একদম উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ এর পেছনে রয়েছেন বিখ্যাত জার্মান বিনিয়োগ বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদ ইওয়াখিম ক্লেমেন্ট। তিনি এর আগে টানা তিনটি বিশ্বকাপের একেবারে সঠিক চ্যাম্পিয়ন দল নির্ধারণ করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। তার ইকোনোমেট্রিক মডেল ২০১৪ সালে জার্মানি, ২০১৮ সালে ফ্রান্স এবং ২০২২ সালে আর্জেন্টিনার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সমীকরণ নিখুঁতভাবে মিলিয়েছিল। টানা তিনবার শতভাগ সফলতার পর এবার ২০২৬ সালের ট্রফি জয়ের জন্য তার অ্যালগরিদম বেছে নিয়েছে ডাচদের। তার মডেল অনুযায়ী, এবার ফাইনালে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বসেরা হবে নেদারল্যান্ডস।

​খেলার মাঠে বল গড়ানোর আগেই একজন অর্থনীতিবিদ কীভাবে চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণ করেন, তা নিয়ে অনেকের কৌতুহল রয়েছে। ক্লেমেন্ট মূলত ৫টি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামকের ওপর ভিত্তি করে তার এই মডেল তৈরি করেন। এগুলো হলো— মাথাপিছু জিডিপি (যা ফুটবল অবকাঠামো ও একাডেমিতে বিনিয়োগের সুযোগ দেখায়), জনসংখ্যা (ফুটবল সংস্কৃতি থাকা দেশের জনসংখ্যা বেশি হলে প্রতিভা খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে), আবহাওয়া (অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরম ফুটবলার তৈরিতে কেমন প্রভাব ফেলে), দলের বর্তমান শক্তি পরিমাপের জন্য ফিফা র‍্যাংকিং এবং স্বাগতিক দেশ হিসেবে ঘরের মাঠের দর্শকদের বাড়তি সমর্থন পাওয়ার সুবিধা।

​ক্লেমেন্টের এই সিমুলেশন বা গাণিতিক হিসাব অনুযায়ী, ব্রাজিলের জন্য এবারের বিশ্বমঞ্চ মোটেও সুখকর হবে না। নকআউট পর্বের শুরুতেই কঠিন প্রতিপক্ষের মুখে পড়ে ছিটকে যাবে সেলেসাওরা। অন্যদিকে, ডাচদের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথটাও সহজ হবে না। তার সমীকরণ বলছে, নেদারল্যান্ডসকে ট্রফি জিততে হলে নকআউট পর্বে একে একে মরক্কো, কানাডা এবং কোয়ার্টার ফাইনালে শক্তিশালী ফ্রান্সের বাধা টপকাতে হবে। এরপর সেমিফাইনালে স্পেনকে হারিয়ে তবেই ফাইনালে পৌঁছাবে তারা।

​তবে ব্রাজিল সমর্থকদের এখনই পুরোপুরি আশাহত হতে নিষেধ করেছেন ক্লেমেন্ট নিজেই। ফুটবলে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ভাগ্যের গুরুত্ব মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, "আমার এই গাণিতিক মডেলে প্রায় ৪৫% থেকে ৫০% নির্ভর করে স্রেফ ভাগ্যের ওপর। দুই দলের শক্তি যখন কাছাকাছি থাকে, তখন সেদিনের ভাগ্যই ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ করে। পরপর তিনবার আমার মডেল মিলে গেছে দেখে আমার কাছে কোনো জাদুকরী ক্রিস্টাল বল আছে—এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই।"

​এখন দেখার বিষয়, ক্লেমেন্টের এই অ্যালগরিদম কি ‘চারে চার' করে ফুটবল জগতকে আবারও চমকে দেবে, নাকি মাঠের লড়াইয়ে সব গাণিতিক সমীকরণ ওলটপালট করে ব্রাজিল তাদের অধরা হেক্সা মিশন পূর্ণ করবে!

আপনার প্রতিক্রিয়া কেমন?

শেয়ার করুন:

মন্তব্য (0)

আপনার মন্তব্য লিখুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!