উৎসবের রঙে সাজছে...
খেলাধুলা

‘লাইন-লেংথ আর প্রসেস ধরে রাখার ফল এই সাফল্য’

‘লাইন-লেংথ আর প্রসেস ধরে রাখার ফল এই সাফল্য’
লেখা বড়/ছোট করুন:

সংযুক্ত আরব আমিরাতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে এক ঐতিহাসিক সকালে বল হাতে ঝড় তুলেছেন হাসান মাহমুদ। প্রথম বাংলাদেশি পেসার হিসেবে টেস্টে হ্যাটট্রিকের অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি। একইসঙ্গে ক্যারিয়ারের চতুর্থ টেস্ট ‘ফাইফার’ তুলে নেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে দ্রুততম ৫০ উইকেটের রেকর্ড গড়েছেন হাসান। রোমাঞ্চকর এই অর্জন শেষে দিনশেষে নিজের বোলিং ভাবনা, ফিল্ড পজিশনিং এবং অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষকের ভূমিকা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন ২৭ বছর বয়সী এই পেসার।

রোববার (১১ অক্টোবর) আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে তৃতীয় দিন শেষে ৩২৯ রানের লিড নিয়ে চালকের আসনে বাংলাদেশ। দিনশেষে বিসিবির পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় নিজের বোলিং কৌশল নিয়ে হাসান বলেন, ‘ওরকম নির্দিষ্ট কোনো প্ল্যান ছিল না। তবে আমার কাছে মনে হয়েছে যে আমি যদি প্রসেসটা সবসময় বজায় রাখি—প্রথম ইনিংসে হয়তো আমার ওরকম উইকেট ছিল না, কিন্তু আমি নিজেকে সেভাবেই প্রিপেয়ার করেছিলাম। লাইন, লেংথ এবং প্রসেস মেইনটেইন করব, আর সেটাই করেছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ, তাতেই সাকসেসফুল হয়েছি।’

৪ উইকেটে ২১১ রান নিয়ে তৃতীয় দিনে ব্যাটিং শুরু করেছিল আফগানিস্তান। তবে হাসান ও এবাদতের বোলিং তোপে আর মাত্র ২৯ রান যোগ করতেই ২৪০ রানে অলআউট হয়ে যায় আফগানিস্তান। সকালের কন্ডিশন কাজে লাগানো প্রসঙ্গে হাসান বলেন, ‘সকালবেলা যখন বোলিং শুরু করি আমি দেখেছিলাম যে উইকেটে অনেক মুভমেন্ট ছিল। সো আমার প্ল্যান ছিল যে আমি টপ অফ বল করব এবং আমি সুইং করাব। নতুন বল যত ব্যাটসম্যানকে খেলানো যায় ওই চেষ্টা করব। স্ট্রেট বোলিং করার চেষ্টা করেছি। আলহামদুলিল্লাহ আমি সাকসেস আর কি।’

শুধু নিজের স্পেল নয়, অন্য প্রান্ত থেকে সতীর্থ পেসার এবাদত হোসেনের বোলিংয়েরও প্রশংসা করেন হাসান, ‘সকাল থেকে আমাদের বোলিং পার্টনারশিপটা খুব ভালো হয়েছে। এবাদত ভালো স্টার্ট করছে। তারপরে অপর পাশ থেকে আমি বোলিং করেছি। তারপরে ফার্স্ট সেশনে ওদেরকে অল আউট করে দেই। তো আমার মনে হয় এটা আমাদের জন্য খুবই প্লাস পয়েন্ট যে আমরা ভালো একটা লিড নিয়েছি দিনের শেষে। এবং ইনশাআল্লাহ কালকে আমরা যত সম্ভব আরও রান করার চেষ্টা করব এবং ওদেরকে বড় একটা টার্গেট দিব।’

আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংসের ৮৩তম ওভারে টানা তিন বলে উইকেট নিয়ে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন ২৭ বছর বয়সী হাসান। ওভারের তৃতীয় বলে ইসমত আলমকে বোল্ড করে ফেরান তিনি। পরের বলেই কায়েস আহমেদের ব্যাটের কানায় লেগে স্লিপের দিকে যাওয়া বলটি দারুণ ক্ষিপ্রতায় তালুবন্দী করেন উইকেটরক্ষক লিটন দাস। এরপর ওভারের পঞ্চম বলে জিয়া-উর-রেহমানকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন এই পেসার। আম্পায়ার প্রথমে আউট না দিলেও রিভিউ নিয়ে সফল হয় বাংলাদেশ। হাসানও পেয়ে যান হ্যাটট্রিক।

অথচ দলীয় রিভিউ শেষ হয়ে যাওয়ার ভয়ে শুরুতে কিছুটা ইতস্তত করলেও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও উইকেটরক্ষক লিটন দাসের ইতিবাচক মানসিকতাতেই রিভিউ নেয় বাংলাদেশ। হাসান মাহমুদের মতে, ‘বল সরাসরি প্যাডে লেগেছিল এবং একদম সোজা ছিল। আমি লিটনের সাথে কথা বলি, ও বলল—হ্যাঁ, এটা হয়তো উইকেটে হিট করবে, বলটা ব্যাকফুটে ছিল। আমরা প্রথম ইনিংসে দু-একটা রিভিউ হারিয়েছিলাম, তাই সবাই ডিআরএস নিয়ে একটু ভাবছিল। তবে রিভিউ নেওয়ার পুরো কৃতিত্ব অধিনায়ক শান্ত ও লিটন দাসকে দিতে হবে।’

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানিয়ে হাসান বলেন, আগামী দিনে ঘরের মাঠে হতে যাওয়া বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচ এবং আসন্ন দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের দিকে চোখ রাখছেন তিনি, যেখানে দেশের জন্য এই ধারা বজায় রাখতে চান।


আপনার প্রতিক্রিয়া কেমন?

শেয়ার করুন:

মন্তব্য (0)

আপনার মন্তব্য লিখুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!