প্রকৃতিতে টিকে থাকার জন্য নানা কৌশল ব্যবহার করে প্রাণীরা। এর মধ্যে শরীরের রং পরিবর্তনের ক্ষমতা অন্যতম। অনেক প্রজাতি পরিবেশের সঙ্গে মিশে যেতে, শিকারির চোখ এড়াতে, সঙ্গী আকর্ষণ করতে বা প্রতিদ্বন্দ্বীকে সতর্ক করতে রং বদলায়। কেউ ধীরে ধীরে, আবার কেউ সেকেন্ডের মধ্যে রং পাল্টায়।
ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে রং বদলায় অনেক প্রাণী। গ্রীষ্মে বাদামি আর শীতে সাদা হয় রক পার্টমিগান পাখি। স্টোটও একই কৌশল ব্যবহার করে। উত্তর গোলার্ধে ২০টির বেশি পাখি ও স্তন্যপায়ী প্রজাতি ঋতুভেদে রং বদলায়। দিনের আলোর পরিবর্তনের সঙ্গে শরীরে হরমোনের তারতম্য ঘটে, যা এই পরিবর্তন ঘটায়।
গিরগিটি ৩০ সেকেন্ডের কম সময়ে রং বদলাতে পারে। এর ত্বকে ক্রোমাটোফোর নামের রঞ্জককোষ ও ইরিডোফোর নামের প্রতিফলক কোষ থাকে। আলোর প্রতিফলন ও রঞ্জকের সমন্বয়েই নানা রং দেখা যায়। অনেকের ধারণা গিরগিটি শুধু পরিবেশের সঙ্গে মেশার জন্য রং বদলায়, কিন্তু বাস্তবে এটি যোগাযোগের জন্যও করে। পুরুষ গিরগিটি উজ্জ্বল রং দেখিয়ে আগ্রাসন বা গাঢ় রং দেখিয়ে অধীনতা বোঝায়।
অক্টোপাস, স্কুইড ও কাটলফিশ রং বদলের 'মাস্টার'। হামবোল্ট স্কুইড প্রতি সেকেন্ডে চারবার পর্যন্ত রং বদলাতে পারে। মধ্য আমেরিকার গোল্ডেন টরটয়েজ বিটল উত্তেজিত হলে সোনালি আবরণ ফেলে দিয়ে লাল রং প্রকাশ করে। ফিডলার ক্র্যাব ২০ মিনিটে নীল রং গাঢ় করে, আর রক গবি মাছ এক মিনিটেরও কম সময়ে রং বদলায় শিকারিদের এড়াতে।
মন্তব্য (0)
আপনার মন্তব্য লিখুন
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!