উৎসবের রঙে সাজছে...
আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধে’ যোগ দেয়া দেশগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে পারবে ইরান?

যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধে’ যোগ দেয়া দেশগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে পারবে ইরান?
লেখা বড়/ছোট করুন:

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের 'অর্থনৈতিক যুদ্ধে' কোনো দেশ যোগ দিলে তাদের বিরুদ্ধেও পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় সহযোগিতা করা দেশগুলোকে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করবে ইরান এবং উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হাত মেলালে তাদের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক স্বার্থে আঘাত করা হবে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপসাগরীয় দেশগুলো এ যুদ্ধে যুক্ত হলে হরমুজ প্রণালির বিকল্প রপ্তানি পথও বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন রেজাই। ফলে দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা, চলমান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

রেজাই রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিকে বলেন, প্রতিবেশী দেশসহ বিশ্বের সব দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের 'অর্থনৈতিক যুদ্ধে' যোগ না দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে ইরান এবং যে দেশ নিষেধাজ্ঞায় অংশ নেবে, তাকে শত্রু বিবেচনা করা হবে। তিনি 'ভূমিকম্পের মতো বড়' পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারিও দেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা ও বেসামরিক এলাকায় ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা এবং আইএইএ ইরানের পারমাণবিক বোমা তৈরির অভিযোগ খারিজ করেছে।

রেজাই ইরানের কৌশলকে তিন ধাপের প্রক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করেছেন—প্রথমে সহযোগী দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা, তারপর সরে দাঁড়ানোর আহ্বান, এবং শেষে ওই দেশের স্বার্থকে লক্ষ্য করে হামলা। তিনি হরমুজের বাইরে বিকল্প রপ্তানি পথ (বাব আল-মান্দেব প্রণালি) বন্ধের ইঙ্গিতও দিয়েছেন।

উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হলেও বিশ্লেষকরা বলছেন, তারা বুঝতে পারছে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি, কারণ দেশটি তাদের কাছেই অবস্থিত। ২০২২ সালে আমিরাত ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করেছিল এবং ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব-ইরান সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়।

১৯৭৯ সাল থেকে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির পর নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলেও ২০১৮ সালে ট্রাম্প চুক্তি থেকে বেরিয়ে যান এবং নিষেধাজ্ঞা পুনরায় আরোপ করেন। বর্তমানে যুদ্ধের মধ্যে ইরান আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে।


আপনার প্রতিক্রিয়া কেমন?

শেয়ার করুন:

মন্তব্য (0)

আপনার মন্তব্য লিখুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!