ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন টানা ২০ দিন পেরিয়েছে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত ও প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় বিচারিক তদন্তের দাবিতে রাজধানী রাঁচিতে বিক্ষোভ চলছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) আন্দোলনকারীরা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
গত ২০ দিন ধরে রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছে ‘জেপিএসসি-জেএসএসসি রিফর্মস মঞ্চ’। তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতা বাড়ানো, কয়েকটি পরীক্ষা বাতিল এবং ঝাড়খণ্ডের বাইরে থেকে অবসরপ্রাপ্ত বিচারক বা সিবিআইয়ের মাধ্যমে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করা।
এদিকে, বুধবার (১২ আগস্ট) ঝাড়খণ্ডের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী রঘুবর দাস অনশনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এক সপ্তাহের মধ্যে সিবিআই তদন্তের দাবি পূরণ না হলে তিনি অনশন শুরু করবেন। পাশাপাশি ২০২৪ সালে আবগারি বিভাগে কনস্টেবল নিয়োগের শারীরিক পরীক্ষার সময় নিহত ১৯ জনের প্রত্যেক পরিবারের জন্য ১ কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এই ইস্যুতে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি) ১ হাজার ২০০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। রাজ্য সরকারের গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি)-এর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। তাদের অভিযোগ, তদন্তকারী দলের সদস্যদের বারবার পরিবর্তন করা হয়েছে।
বিজেপি অভিযোগ করেছে, মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সরকার শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমন করছে। অন্যদিকে কংগ্রেসের অভিযোগ, বিজেপি এই আন্দোলনকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে এবং রাজ্যের বাইরে থেকে কর্মী এনেছে।
এর আগে গত সোমবার বিধানসভা অভিমুখে বিক্ষোভকারীদের মিছিলকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে লাঠিচার্জ, জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয়। পরে এই পদক্ষেপের প্রতিবাদে রাজ্যজুড়ে ধর্মঘটের ডাক দেয় বিজেপি।
অনশনে থাকা জেএলকেএম নেতা দেবেন্দ্রনাথ মাহাতো ও চার শিক্ষার্থী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার পরও মাহাতো আন্দোলনস্থলে ফিরে যাওয়ার অনুমতি চেয়েছেন।
এখন পর্যন্ত সরকার ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছয় দফা আলোচনা হয়েছে, কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন বারবার বলেছেন, তার সরকার নিয়োগ পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ১৪তম জেপিএসসি পরীক্ষা বাতিল করা হবে।
মন্তব্য (0)
আপনার মন্তব্য লিখুন
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!