যুক্তরাষ্ট্রের বিমান প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি বিমান কেনার চুক্তির পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও নথি জনসম্মুখে প্রকাশের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম এম জি সারওয়ার আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন। গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে উদ্দেশ্য করে এই নোটিশ পাঠানো হয়।
জানা গেছে, গত ৩০ এপ্রিল বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি বিমান ক্রয়ের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এতে রয়েছে আটটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স বিমান। আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিমানগুলোর তালিকামূল্য প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
নোটিশে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট ও বৈদেশিক মুদ্রার স্থিতির প্রেক্ষাপটে এত বিপুল অঙ্কের সরকারি অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। একইসঙ্গে বিকল্প প্রস্তাব (যেমন—এয়ারবাসের অফার) উপেক্ষা করে বোয়িংয়ের পক্ষে সিদ্ধান্ত গ্রহণের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
আইনি নোটিশে চারটি দাবি জানানো হয়েছে:
বোয়িং বিমান ক্রয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আর্থিক বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে কিনা বা নতুন কোনো ক্রয়/লিজ পরিকল্পনা আছে কিনা—তা প্রকাশ করতে হবে।
পূর্ণাঙ্গ, স্বচ্ছ ও স্বাধীন যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি, ফাইন্যান্সিয়াল অ্যান্ড পাবলিক-ইন্টারেস্ট অ্যাসেসমেন্ট) সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত নতুন কোনো চুক্তি বা প্রতিশ্রুতি থেকে বিরত থাকতে হবে।
যেকোনো ক্রয় প্রক্রিয়া ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট ২০০৬’ মেনে স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক হতে হবে।
চুক্তির শর্ত, মূল্য, ক্রয়প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য নথি জনসাধারণের জানার জন্য উন্মুক্ত করতে হবে।
নোটিশ প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে গ্রহণযোগ্য ও যুক্তিপূর্ণ জবাব চাওয়া হয়েছে। অন্যথায় সংবিধানের ৪৪ ও ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানের মধ্যে ‘আরেকটি অসাধারণ চুক্তি’ স্বাক্ষরের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সের্হিও গোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, তাঁর মন্তব্য পূর্ববর্তী এই ১৪টি বিমানের চুক্তিকেই নির্দেশ করতে পারে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই ১৪টি বিমানের চুক্তি ছাড়া বোয়িংয়ের সঙ্গে আলাদা আর কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি।
মন্তব্য (0)
আপনার মন্তব্য লিখুন
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!