ফোনে কল দিয়ে কেউ উত্যক্ত করছে? হুমকি দিচ্ছে? তার বিরুদ্ধে কিভাবে আইনগত একশন নিবেন?
________________________________
আয়েশা সোনিয়া
আইনজীবী, মানবধিকার কর্মী,
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
মোবাইল ফোনে নারীদের উত্ত্যক্ত বা হয়রানি করা একটি শাস্তিযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ। কোনো নারী মোবাইল ফোন, মেসেজ বা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে হয়রানির শিকার হলে দ্রুত আইনি ও প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
ইদানীং প্রায় মোবাইল ফোনে নারীদের হয়রানি বা উত্যক্ত করার জন্য সিন্ডিকেট মাঠে বিরাজমান। প্রচুর এই ধরনের অভিযোগ আসছে প্রতিনিয়ত। কর্মজীবী নারী থেকে সাধারণ ছাত্রী কেউ এর আওতার বাইরে না।
মাঝে মাঝে আমরা নারীরা বিভিন্ন সিন্ডিকেট, মাফিয়া চক্রের নজরে আসি। এতে জড়িত থাকে হয়ত আপনার কাছের কেউ? আপনার ফোন নাম্বার গোপনে ছড়িয়ে দিয়ে তারাও সেই অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে আইন আদালত যেহেতু দুর্বল পরিস্থিতি বিরাজমান এই সাইবার ক্রিমিনাল সিন্ডিকেট গুলা আবার মাথা চাড়া দিয়েছে। তারা গ্রুপলি আপনাকে হয়রানি করে বিপুল অর্থ টার্গেট করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। আর তাদের টার্গেটে থাকে বিত্তশালী নারী, কর্মজীবী নারী কিংবা কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা।
তাই, এই সমস্যায় পড়লে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত প্রমাণ সংরক্ষণ করুন, সকল তথ্য, স্ক্রিনশট রের্কড করুন
এবং আইনগত পদক্ষেপ নিন।
৯৯৯: প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সহায়তা দ্রুত নিন।
১০৯ হেল্পলাইন: নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকা ১০৯ নম্বরে কল করে আইনি পরামর্শ ও সাহায্য চাইতে পারেন।
জিডি বা মামলা: নিকটস্থ থানায় উত্যক্তকারীর মোবাইল নম্বর ও প্রমাণসহ সাধারণ ডায়েরি (GD) বা মামলা করুন।
বিটিআরসি (BTRC): ফোনে বারবার উত্যক্ত করা হলে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (BTRC)-এ লিখিত বা তাদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে পারেন।
সাইবার পুলিশ সেন্টার: ফেসবুক, ইমো বা হোয়াটসঅ্যাপে উত্যক্ত, কুরুচিপূর্ণ মেসেজ বা ব্ল্যাকমেইল করা হলে সিআইডি-র সাইবার পুলিশ সেন্টারে (Cyber Police Centre) যোগাযোগ করুন। ফেসবুক পেজ Cyber Support for Women CPS-এর মাধ্যমে নারীরা সরাসরি সাহায্য পেতে পারেন
প্রমাণ রাখুন: ক্ষতিকর বা উত্যক্তকারী মেসেজ, কল লগ এবং অডিও রেকর্ড ডিলিট না করে প্রমাণ হিসেবে স্ক্রিনশট বা ব্যাকআপ রাখুন।
তাৎক্ষণিক ও প্রযুক্তিগত পদক্ষেপকল রেকর্ড করুন:
হ্যারাসমেন্ট বা হুমকির প্রমাণ হিসেবে ফোনকলটি রেকর্ড করে রাখুন। নম্বর ব্লক করুন: স্মার্টফোনের বিল্ট-ইন ব্লক অপশন বা 'Truecaller' অ্যাপ ব্যবহার করে নম্বরটি ব্লক করুন।অচেনা নম্বর এড়িয়ে চলুন: বারবার অচেনা নম্বর থেকে কল আসলে কিছুদিনের জন্য অপরিচিত নম্বরের কল ধরা বন্ধ রাখুন।
ব্যক্তিগত সতর্কতা অপরিচিত কলে সাড়া না দেওয়া: বারবার অচেনা নম্বর থেকে কল এলে রিসিভ করা বন্ধ রাখুন।
তথ্য গোপন রাখুন: ফোনে অচেনা কাউকে নিজের নাম, ঠিকানা, কর্মস্থল বা পরিবারের কোনো ব্যক্তিগত তথ্য দেবেন না।উত্তেজিত না হওয়া: ফোনের ওপাশে থাকা ব্যক্তির কথায় উত্তেজিত বা ভয় না পেয়ে শান্তভাবে কল কেটে দিন। আপনার ভয় বা রাগ তাকে আরও বেশি হ্যারাস করতে উৎসাহিত করতে পারে।
সব কথার শেষ কথা পুরো চক্রটি আপনার এই সামান্য পদক্ষেপে আইনের চক্রে ধরা খেয়ে যেতে পারে। তাই ব্ল্যাকমেইল কিংবা হয়রানি পুলিশকে জানাতে, লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে ভুলবেন না। কারন এরা একা না এদের পিছে কাজ করে একটা বড় ক্রিমিনাল সিন্ডিকেট।
মন্তব্য (0)
আপনার মন্তব্য লিখুন
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!