নেপাল-চীন সীমান্তে ভয়াবহ বন্যায় নিহতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে—নেপালে ৬৭৫ জন এবং চীনে অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে; নিখোঁজ প্রায় ৩ হাজার। সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য: ৫ হাজার মিটারের বেশি উচ্চতায় হিমবাহের অংশ ধসে পড়ার পর বরফ, পাথর, কাদা ও পানির বিশাল স্রোত প্রায় ১০০ কিলোমিটার পথ ছুটে নেপালের একাধিক এলাকা তছনছ করে ভারতের বিহার পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
২৬ আগস্ট সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে এই বিপর্যয়ের সূত্রপাত হয়। প্রথমে ৪.৪ মাত্রার ভূমিকম্পের কম্পন ধরা পড়ে। ইউএসজিএস জানায়, লাংটাং জাতীয় উদ্যানে হিমবাহ-সংশ্লিষ্ট ভূমিধস থেকেই ভূকম্পন তরঙ্গ তৈরি হয়েছিল, যা ৫.২ মাত্রার ভূমিকম্পের সমান শক্তি নির্গত করেছে। তবে ভারতের রিমোট সেন্সিং সেন্টার ও ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্টের বিশ্লেষণে ভিন্ন তথ্য এসেছে।
স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, পাহাড়ের হিমবাহের কিছু অংশ নেপালের দিকে ধসে পড়ে এবং ধ্বংসাবশেষ তিব্বতের দিকে নদীর গতিপথ আটকে দেয়। পরে আটকে থাকা পানি প্রবল বেগে বেরিয়ে লেহেন্দে খোলা, ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদীপথ ধরে প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকায় ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। নেপালের পানিবিদ্যা বিভাগ জানিয়েছে, ঘটনার দিন মাত্র ৩০ মিনিটে ত্রিশূলী নদীর পানি ৯ মিটার বেড়ে গিয়েছিল—একে স্থলভাগে সুনামি বলা যায়।
সেই স্রোত ১০টির বেশি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করে দেয়, যা নেপালের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার ১২ শতাংশের বেশি। চীনের সীমান্তবর্তী গিরং বন্দর পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। উজানে নতুন জলাধার হ্রদ তৈরি হয়েছে এবং যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে যাওয়ার বড় ঝুঁকি রয়েছে।
পানি ভারতের বিহারের গণ্ডক ব্যারাজে পৌঁছালে ৩৬টি গেট খুলে দেয়া হয়; পানিপ্রবাহ সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫০ হাজার কিউসেকে পৌঁছায়। উত্তরপ্রদেশে সাতটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যা নেপাল থেকে ভেসে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মন্তব্য (0)
আপনার মন্তব্য লিখুন
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!