উৎসবের রঙে সাজছে...
জাতীয়

জানুয়ারিতে নতুন বেতন, বৃহস্পতিবার কাজে ফেরার প্রত্যাশা মালিক-শ্রমিক ও সরকারের

জানুয়ারিতে নতুন বেতন, বৃহস্পতিবার কাজে ফেরার প্রত্যাশা মালিক-শ্রমিক ও সরকারের
লেখা বড়/ছোট করুন:

দ্রুততম সময়ে মজুরি বোর্ডের বৈঠক এবং জানুয়ারি থেকে নতুন বেতন-ভাতা কার্যকরের ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) থেকে পোশাকশ্রমিকেরা কাজে ফিরবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন মালিক, শ্রমিক ও সরকারের প্রতিনিধিরা। আন্দোলনরত শ্রমিকদের কারখানা বন্ধ না করে কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। তাদের প্রত্যাশা, দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে মজুরি বোর্ড নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ করবে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সচিবালয়ে শ্রমিক, মালিকপক্ষ ও সরকারের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক শেষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তারা।

ব্রিফিংয়ে শ্রমিকনেত্রী নাজমা আখতার বলেন, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মজুরি বোর্ড গঠনের মাত্র তিন দিনের মাথায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর আগে তিন মাসেও এমন বৈঠক হয়নি। ডিসেম্বরের মধ্যে মজুরি বোর্ড সুপারিশ দেবে এবং জানুয়ারি থেকে নতুন বেতন-ভাতা কার্যকর হবে। তাই শিল্প টিকিয়ে রাখতে শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক ফাঁদে না পড়ার বিষয়েও শ্রমিকদের সতর্ক করেন।

শ্রমিকনেতা মন্টু ঘোষও কারখানার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে উৎপাদন কার্যক্রম চালু রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পরিস্থিতি বুঝে কারখানা চালু রাখতে হবে। কারখানা ধ্বংস হোক—এমন আন্দোলন কেউ কামনা করেন না।

বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদুল হাসান বলেন, প্রথম বৈঠকেই নতুন মজুরি সুপারিশের সময়সীমা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মজুরি বোর্ড। বোর্ডকে স্বাধীনভাবে ও স্থিরভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। তাহলে দ্রুত নতুন মজুরি কার্যকর করা সহজ হবে।

বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে বিকেএমইএ ও বিজিএমইএ একমত। মজুরি বোর্ড দ্রুত সুপারিশ করলে মালিকপক্ষও তা দ্রুত বাস্তবায়ন করবে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, মজুরি বোর্ড নির্মোহভাবে কাজ করে ডিসেম্বরের মধ্যে একটি যৌক্তিক বেতন কাঠামোর সুপারিশ করবে। শ্রমিক, মালিক ও সরকার একসঙ্গে কাজ করলে পোশাক খাতকে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। বৃহস্পতিবার থেকে সব শ্রমিক কাজে ফিরবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ব্রিফিংয়ে শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী শ্রমিক আন্দোলনের মধ্যে নিহত এক শ্রমিকের প্রতি শোক প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নিহত শ্রমিকের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

শ্রমমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শ্রমিকবান্ধব। শ্রমিকদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে গাজীপুরে ১০০ শয্যার একটি হাসপাতাল নির্মাণের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন তিনি। এক সপ্তাহের মধ্যে হাসপাতাল নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

শ্রমিকদের উদ্দেশে শ্রমমন্ত্রী বলেন, মজুরি নিয়ে আলোচনার জন্য মজুরি বোর্ড রয়েছে। কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই রাস্তায় নেমে যাওয়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

আপনার প্রতিক্রিয়া কেমন?

শেয়ার করুন:

মন্তব্য (0)

আপনার মন্তব্য লিখুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!