ইউক্রেনের একজন জ্যেষ্ঠ গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাশিয়ায় ইতোমধ্যে উত্তর কোরিয়ার ৮ হাজার ৫০০ সেনাসহ নতুন একটি ড্রোন ইউনিট মোতায়েন রয়েছে, যারা ইউক্রেনের ভেতরের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে পারে। রাশিয়ায় আরও সেনা ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পাঠানোর পরিকল্পনাও রয়েছে পিয়ংইয়ংয়ের।
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা বিভাগের উপপ্রধান মেজর জেনারেল ভাদিম স্কিবিতস্কি সিএনএনকে জানান, ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে উত্তর কোরিয়া মস্কোর সামরিক অভিযানে সহায়তার জন্য সেনা পাঠিয়ে আসছে। সেপ্টেম্বরে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বৈঠকে আরও ৫০ হাজার সেনা পাঠাতে বলা হতে পারে।
বর্তমানে মোতায়েন সেনাদের বেশিরভাগই রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে রয়েছে, যেখানে প্রায় এক হাজার প্রকৌশলী ও মাইন অপসারণকারী এবং ৪০০ ড্রোন পরিচালনাকারী রয়েছে। এসব ড্রোন ইউক্রেনের ভেতরের লক্ষ্যবস্তু পর্যবেক্ষণ ও হামলায় ব্যবহার করা হতে পারে।
ইউক্রেন গত বছরের অক্টোবরে প্রথম সতর্ক করেছিল যে উত্তর কোরিয়ার সেনারা তাদের ভূখণ্ডে আক্রমণকারী ড্রোন ব্যবহার করছে। প্রথমবার প্রায় ১০ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল এবং তারা ব্যাপক হতাহতের শিকার হয়।
উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও পাঠাচ্ছে। স্কিবিতস্কি বলেন, গত বছরের আগস্টের আগে অন্তত ১৫০টি কে এন-২৩ বা কে এন-২৪ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনে ব্যবহারের জন্য পাঠানো হয়েছিল এবং আরও ১২০টি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল। এসব ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা কিয়েভের জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে, কারণ মার্কিন প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থার সরবরাহ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে।
রাশিয়াকে জনবল ও গোলাবারুদ সরবরাহের বিনিময়ে উত্তর কোরিয়া রুশ এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চেয়েছে এবং ইতিমধ্যে একটি প্যান্টসির-১ ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা পেয়েছে।
মন্তব্য (0)
আপনার মন্তব্য লিখুন
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!