উৎসবের রঙে সাজছে...
আন্তর্জাতিক

পাকিস্তানের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান পাচ্ছেন জিন্নাহর অসুস্থতা গোপন রাখা দুই ভারতীয় চিকিৎসক

পাকিস্তানের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান পাচ্ছেন জিন্নাহর অসুস্থতা গোপন রাখা দুই ভারতীয় চিকিৎসক
লেখা বড়/ছোট করুন:

পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলি জিন্নাহর গুরুতর অসুস্থতার তথ্য গোপন রাখায় দেশটির সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার ‘নিশান-ই-ইমতিয়াজ’-এর জন্য মনোনীত হয়েছেন মুম্বাইয়ের দুই পার্সি চিকিৎসক।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) পাকিস্তানের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগবিষয়কমন্ত্রী এবং পুরস্কার কমিটির প্রধান আহসান ইকবাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ড. জল রতনজি প্যাটেল ও রেডিওলজিস্ট ড. জল ধায়ভো-কু—এই দুই চিকিৎসককে মরণোত্তর এই সম্মাননা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান সরকার।

১৯৪৬ সালে দুই চিকিৎসক জিন্নাহর এক্স-রে পরীক্ষা করে জানতে পারেন যে তার যক্ষ্মা রোগের অবস্থা গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং তিনি আর মাত্র এক থেকে দুই বছর বাঁচতে পারেন। তারা এই তথ্য কঠোর পেশাগত গোপনীয়তার মধ্যে রাখেন।

আহসান ইকবাল বলেন, ‘পুরস্কার কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে, নিশান-ই-ইমতিয়াজের জন্য এই দুই অসাধারণ ডাক্তারকে মনোনীত করার সুযোগ পেয়ে আমি সম্মানিত বোধ করছি। তারা কায়েদে আজম মুহাম্মদ আলি জিন্নাহর মরণাপন্ন অসুস্থতার গোপনীয়তা বিশ্বস্ততার সঙ্গে রক্ষা করেছিলেন।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘সংকটময় মুহূর্তে সম্পূর্ণ পেশাগত গোপনীয়তা বজায় রেখে এই ডাক্তাররা এক নীরব কিন্তু অসাধারণ সেবা প্রদান করেছেন। তাদের পেশাগত শপথের প্রতি এই বিশ্বস্ততা অনিচ্ছাকৃতভাবে পাকিস্তান সৃষ্টিকে সম্ভব করে তুলেছিল।’

ইকবালের মতে, এই তথ্য প্রকাশ্যে এলে ভারত ভাগ ও পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার সময়সূচি ভিন্ন হতে পারত। ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেন পরে স্বীকার করেছিলেন, তিনি যদি জিন্নাহর অসুস্থতার মাত্রা সম্পর্কে জানতেন, তাহলে হয়তো তিনি দেশভাগ বিলম্বিত করতেন এবং ইতিহাসের গতিপথ বদলে যেত।

জিন্নাহ ১৯৩০-এর দশক থেকেই যক্ষ্মা রোগে ভুগছিলেন। সেই সময়ে যক্ষ্মা একটি অত্যন্ত প্রাণঘাতী রোগ ছিল, যার কার্যকর কোনো চিকিৎসা ছিল না। তিনি নিজের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ও নেতৃত্বের ক্ষতি হতে পারে—এই আশঙ্কায় নিজের অসুস্থতার ভয়াবহতা জনসমক্ষে গোপন রেখেছিলেন। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাজনের সময় তার স্বাস্থ্যের বেশ অবনতি ঘটে এবং বিভাজনের এক বছরের কিছু বেশি সময় পর, ১৯৪৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান।

আপনার প্রতিক্রিয়া কেমন?

শেয়ার করুন:

মন্তব্য (0)

আপনার মন্তব্য লিখুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!