উৎসবের রঙে সাজছে...
টেকনোলজি

বাংলাদেশে প্রথমবার নম্বরবিহীন ডেবিট কার্ড! Prime NOW নিয়ে যা জানা জরুরি

বাংলাদেশে প্রথমবার নম্বরবিহীন ডেবিট কার্ড! Prime NOW নিয়ে যা জানা জরুরি
লেখা বড়/ছোট করুন:

MyPrime থাকতেও Prime NOW — Prime Bank-এর নতুন কৌশল কি সত্যিই আলাদা?

গত ২৫শে ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের বেসরকারি ব্যাংকিং খাতে একটি নতুন সংযোজন ঘটে তেমন কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই। Prime Bank PLC তাদের নতুন ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা Prime NOW চালু করে দেয় — অথচ এ নিয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রচারণা চোখে পড়েনি। যে ব্যাংকের কাছে ইতোমধ্যে MyPrime নামে একটি মোবাইল ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্ম ছিল, সেখানে হঠাৎ এই নতুন সেবার আগমন অনেকের মনেই প্রশ্ন তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি নিছক কাকতালীয় নয়। শাখায় না গিয়ে ঘরে বসেই সম্পূর্ণ ব্যাংকিং সম্পন্ন করার ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে পুঁজি করে গ্রাহক আকৃষ্ট করার একটি সুচিন্তিত কৌশল হিসেবেই Prime NOW-কে দেখা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি বেশ কিছু আকর্ষণীয় ফিচার দিয়ে এই সেবা সাজিয়েছে, যা প্রচলিত ব্যাংকিং ধারণাকে কিছুটা হলেও চ্যালেঞ্জ করে।

এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো — বাংলাদেশের প্রথম নম্বরবিহীন ডেবিট কার্ড। ২৮শে ফেব্রুয়ারি Mastercard-এর সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এই কার্ড আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচিত হয়। এরপর ১লা মার্চ ঘোষণা আসে NFC স্টিকার কার্ড-এর, যা ট্যাপ করেই লেনদেন সম্পন্ন করতে দেবে। তিনটি ভিন্ন রঙের কার্ডের মধ্য থেকে পছন্দের রঙটি বেছে নেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে, যা গ্রাহকদের ব্যক্তিগতকৃত অভিজ্ঞতা দেওয়ার দিক থেকে নিঃসন্দেহে একটি নতুন মাত্রা।
Prime NOW সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক — অ্যাকাউন্ট খোলা থেকে শুরু করে টাকা জমা দেওয়া বা তোলা, সব কিছুই অ্যাপের মাধ্যমে সম্পন্ন করা যাবে। অ্যাকাউন্ট মেইনটেন্যান্স চার্জ নেই বলেও জানানো হয়েছে।

অ্যাকাউন্ট খুলতে কী লাগবে?
Play Store বা App Store থেকে Prime NOW অ্যাপ নামিয়ে 'Get Started' অপশনে গেলেই শুরু করা যাবে। নাম, ইমেইল (ঐচ্ছিক), পছন্দের ইউজারনেম, নিজের জাতীয় পরিচয়পত্রের উভয় পাশের ছবি এবং নমিনির এনআইডির ছবি দিয়েই অ্যাকাউন্ট নিবন্ধন সম্পন্ন হয়।

লেনদেনের সীমা ও চার্জ সম্পর্কে যা জানা গেছে
প্রাথমিকভাবে অ্যাকাউন্টে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা রাখা যাবে। পরবর্তীতে আয়ের প্রমাণ ও ইউটিলিটি বিলের কাগজ জমা দিলে এই সীমা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
টাকা জমার ক্ষেত্রে MFS, NPSB এবং অ্যাপের বিল্ট-ইন কার্ড সিস্টেম ব্যবহার করা যাবে। তাছাড়া Prime Bank-এর যেকোনো শাখা বা CRM মেশিনেও নগদ জমা দেওয়ার সুবিধা রয়েছে।
চার্জের বিষয়ে জানা গেছে, প্রথম বছর কার্ড সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাওয়া যাবে। দ্বিতীয় বছর থেকে কার্ড ফি ৬০০ টাকা এবং ভ্যাট প্রযোজ্য। তবে বছরে কমপক্ষে ২৪টি POS বা ই-কমার্স লেনদেন করলে এই ফিও মওকুফ হয়ে যাবে। SMS চার্জ ৩০০ টাকা, তবে অ্যাপে Touch ID চালু রাখলে সেটিও লাগবে না। NPSB এবং BEFTN লেনদেনে আপাতত কোনো চার্জ নেওয়া হচ্ছে না।

সব মিলিয়ে, MyPrime-এর পাশাপাশি Prime NOW-এর আগমন স্পষ্টতই প্রচলিত মোবাইল ব্যাংকিংয়ের বাইরে একটি আলাদা ডিজিটাল-ফার্স্ট অভিজ্ঞতা তৈরির প্রচেষ্টা। এটি কতটা সফল হবে, সেটা নির্ভর করবে বাস্তব ব্যবহারের অভিজ্ঞতা এবং গ্রাহকদের সাড়ার উপর।

আপনার প্রতিক্রিয়া কেমন?

শেয়ার করুন:

মন্তব্য (0)

আপনার মন্তব্য লিখুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!