উৎসবের রঙে সাজছে...
অন্যান্য

যেভাবে ‘রোহিঙ্গা’ থেকে ‘বাঙালি’!

যেভাবে ‘রোহিঙ্গা’ থেকে ‘বাঙালি’!
লেখা বড়/ছোট করুন:

মিয়ানমার সরকার সম্প্রতি (৩ সেপ্টেম্বর) রাখাইন পরিস্থিতি নিয়ে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সহিংসতার কারণে স্থানীয় এথনিক বাসিন্দারা অন্য অঞ্চলে চলে গেছে এবং উত্তর রাখাইনের 'বাঙালিরা' বাংলাদেশে চলে গেছে। বিবৃতিতে 'রোহিঙ্গা' শব্দটি ব্যবহার না করে তাদের 'বাঙালি' আখ্যা দিয়ে দেশটির পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের অস্তিত্ব অস্বীকার করা হয়েছে।

ঐতিহাসিকভাবে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের একটি এথনিক গ্রুপ হিসেবে স্বীকৃত। ১৭৯৯ সালে ব্রিটিশ ভূগোলবিদ ফ্রান্সিস বুকানন তার প্রবন্ধে উল্লেখ করেন, আরাকানে (বর্তমান রাখাইন) দীর্ঘদিন ধরে মুসলিম জনগোষ্ঠী বসবাস করত, যারা নিজেদের 'রুইঙ্গা' বা আরাকানের স্থানীয় বাসিন্দা বলে পরিচয় দিত।

১৮২৩ সালে বার্মা ব্রিটিশ শাসনে আসার পর কৃষিকাজের জন্য বাঙালি ও ভারতীয়দের আসার উৎসাহ দেওয়া হলেও তাদের ভাষা রোহিঙ্গাদের থেকে আলাদা ছিল। ১৯৪৮ সালের নাগরিকত্ব আইনে আরাকানিজ, বার্মিজ, চিন, কাচিন, কারেন, কায়াহ, মন, শানসহ ১৮২৩ সালের আগে বার্মায় বসবাসকারী গোষ্ঠীগুলোকে জাতিগোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, কিন্তু 'রোহিঙ্গা' শব্দটি উল্লেখ না থাকলেও তাদের অনেকেই নাগরিকত্ব পায়। ১৯৪৯ সালে রোহিঙ্গারাও নাগরিক আইডেন্টিফিকেশন কার্ড পায় এবং ১৯৫১-১৯৬০ সালের নির্বাচনে ভোট দিয়ে সংসদে প্রতিনিধি পাঠায়।

১৯৬২ সালে সামরিক জান্তা ক্ষমতা দখলের পর নাগরিকত্ব নীতিতে পরিবর্তন আনা হয়; ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইনে ১৩৫টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীকে স্বীকৃতি দিলেও রোহিঙ্গাদের বাদ দেওয়া হয়, ফলে তারা স্থায়ীভাবে রাষ্ট্রহীন ও নাগরিকত্বহীন হয়।

বাংলাদেশের ক্যাম্পে বসবাস করা ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা নিজেদের মিয়ানমারের নাগরিক দাবি করে এবং দেশে ফিরে নাগরিকত্ব পেতে চায়। বিভিন্ন সময় উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনো একজনও প্রত্যাবাসিত হননি, কারণ রাখাইনের পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয় এবং কার্যকর উদ্যোগও নেই। যতদিন রোহিঙ্গারা নাগরিকত্ব না পায়, তাদের প্রত্যাবাসন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।


আপনার প্রতিক্রিয়া কেমন?

শেয়ার করুন:

মন্তব্য (0)

আপনার মন্তব্য লিখুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!