প্রবীণ সাংবাদিকের ওপর সেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতার হামলা, , মাথায় গুরুতর আঘাত, পাঁচটি সেলাই
পুরান ঢাকার নবাবপুর এলাকায় প্রবীণ সাংবাদিক হাবিবুর রহমান হাবিবের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে সেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতার বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ওয়ারী থানাধীন ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মেহেদী হাসান বাধন ও রাব্বি ভূইয়া নামের ওয়ার্ড পর্যায়ের দুই নেতা এই হামলা চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক হাবিবুর রহমান হাবিব জানান, তার বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে এক মহিলা কাজ করতেন। তিনি বাড়তি টাকা দাবি করায় তাকে কাজ থেকে বিদায় করে দেয়া হয়। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সেচ্ছাসেবক দলের এই দুই নেতাকে তাকে কৌশলে ঘর থেকে বের করে মারধর করে। ঘটনা দেখে মনে হচ্ছে কাজের লোকের ঘটনাটি একটি সাজানো নাটক এবং পরিকল্পনার অংশ।
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়িভাবে মারধরের পাশাপাশি লোহার রড দিয়ে মাথায় একাধিকবার আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং মারধরের একপর্যায়ে ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন।
হামলার সময় তার কাছে থাকা নগদ ৩০ হাজার ১ শত টাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত (মোবাইল এবং মানিব্যাগ) নিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন হাবিবুর রহমান হাবিব। নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করলেও হামলাকারীরা তাকে ঘিরে মারধর চালিয়ে যান।
পরে তার বড় ভাই, ছেলে ও ভাতিজা ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা তার মাথায় পাঁচটি সেলাই দেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করেন।
হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন হামলাকারীরো তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দিয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এদিকে, হাবিবুর রহমান হাবিবের পরিবারের দাবি, ঘটনাটি আকস্মিক নয়; বরং এটি পূর্বপরিকল্পিত হামলা হতে পারে। তাদের ভাষ্য, যে কাজের লোককে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়েছে, তাকে এর আগেও একাধিকবার ওই বাসায় কাজে না আসতে নিষেধ করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও তিনি বারবার সেখানে আসতেন। ফলে পুরো ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে সাংবাদিক হাবিবুর রহমান হাবিবকে টার্গেট করে ঘটানো হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাদের মধ্যে জোরালো সন্দেহ তৈরি হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের ধারণা, তাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই আগে থেকে পরিকল্পনা করে এ হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে।
এছাড়া অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্টের আগে তারা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে সেচ্ছাসেবক দলের রাজনীতি করছেন।
এ বিষয়ে ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা স্থানীয়ভাবে প্রচলিত এসব খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেন। তাদের দাবি, অভিযুক্ত মেহেদী হাসান বাধন ও রাব্বি ভূইয়া ৫ আগস্টের আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে তারা সেচ্ছাসেবক দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। এছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ ও ইশরাক হোসেনের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগও তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে বলে জানান বিএনপির ওই দুই নেতা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মেহেদী হাসান বাধন ও রাব্বি ভূইয়ার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত দুইজন ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিল পদপ্রার্থী জাকির হোসেনের ঘনিষ্ঠ লোক।
ঘটনার পর পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য (0)
আপনার মন্তব্য লিখুন
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!