উৎসবের রঙে সাজছে...
জাতীয়

শরীয়তপুরে চুরির অপবাদে তরুণীকে নির্যাতনের ঘটনায় গ্রেপ্তার ২

শরীয়তপুরে চুরির অপবাদে তরুণীকে নির্যাতনের ঘটনায় গ্রেপ্তার ২
লেখা বড়/ছোট করুন:

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে চুরির অপবাদ দিয়ে এক তরুণীকে গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় তিন ঘণ্টা আটকে রেখে মারধর, গলায় জুতার মালা পরানো ও মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর ইউনিয়নের ছৈয়ালকান্দি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) নির্যাতনের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় আসে। ভিডিওতে দেখা যায়, ভুক্তভোগী তরুণীকে একটি গাছের সঙ্গে বাঁধছেন অভিযুক্ত মনির মোল্লা। পরে স্থানীয় কয়েকজন নারী তাকে আঘাত করেন এবং তার গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেন। নির্যাতনের একপর্যায়ে তার মাথার চুলের কিছু অংশ কেটে ফেলা হয়।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর এলাকার বাসিন্দা ফারুক ব্যাপারী নদীভাঙনে গৃহহীন হয়ে প্রায় ১৮ বছর আগে ভেদরগঞ্জের সখিপুর এলাকায় বসবাস শুরু করেন। তিন মাস আগে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে ছৈয়ালকান্দি এলাকায় ফৌজিয়া সরদারের বাড়িতে ভাড়া ওঠেন তারা। পরিবারটির অভিযোগ, বাড়ির পাশের একটি মুদি দোকানের মালিক মনির হোসেন মোল্লা প্রায়ই ফারুক ব্যাপারীর ১৮ বছর বয়সী মেয়েকে উত্ত্যক্ত করতেন।

মঙ্গলবার সকালে ওই তরুণী তার ১২ বছর বয়সী বোন ও ৮ বছর বয়সী ভাইকে নিয়ে দোকানে গেলে মনির তাকে কুপ্রস্তাব দেন। তরুণী বিষয়টি বাবা-মাকে জানাবেন বলে প্রতিবাদ করলে তার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ তোলা হয়। প্রথমে তিন ভাইবোনকে পাশের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যানটিনে আটকে রাখা হয়। পরে তাদের ভাড়া বাসার মালিকের একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর মনির হোসেন, বাড়ির মালিক ফৌজিয়া সরদার এবং তার স্বজন আফসানা বেগম ও নিশি আক্তার মিলে তরুণী ও তার ছোট বোনকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ।

নির্যাতনের শিকার ওই তরুণী বলেন, ‘মনির আমাকে সব সময় উত্ত্যক্ত করত। ওই দিন সে আমাকে খারাপ প্রস্তাব দিলে আমি রাজি হইনি। পরিবারকে বলে দেয়ার কথা বললে সে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা চুরির অপবাদ দিয়ে আটক করে। আমাদের তিন ভাইবোনকে দীর্ঘ সময় আটক রাখার পর আমাকে জোর করে ঘর থেকে বের করে গাছের সঙ্গে বেঁধে বেধড়ক পেটানো হয়। এ সময় আমার গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেয়া হয়। আমার পছন্দের চুলের কিছু অংশ কেটে ফেলে তারা।’

তরুণীর মা অভিযোগ করে বলেন, ‘মনির মোল্লার খারাপ প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় চুরির অপবাদ দিয়ে আমার মেয়ের ওপর অমানুষিক অত্যাচার করা হয়েছে। নির্যাতনের ঘটনার পর অভিযুক্তদের স্বজনের হুমকির কারণে আমরা এলাকা ছাড়তে বাধ্য হই। বর্তমানে আমরা সখিপুর থানা থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরের একটি গ্রামে আশ্রয় নিয়েছি।’

শুক্রবার দুপুরে সখিপুর এলাকায় সরেজমিন গিয়ে অভিযুক্ত মনির মোল্লার সঙ্গে কথা বলে চ্যানেল 24-এর প্রতিবেদক। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি নির্যাতন করেননি দাবি করে ওই তরুণীর বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ আনেন। তিনি দাবি করেন, তিনি শুধু বাড়িওয়ালার নির্দেশে তরুণীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে দিয়েছেন। অপর দুই অভিযুক্ত ফৌজিয়া বেগম ও আফসানা সরদারের বাড়ি গিয়ে তাদের পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে ভুক্তভোগীর মা ফাতেমা বেগম বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৪ থেকে ৫ জনকে আসামি করে সখিপুর থানায় মামলা করেন। মামলার পর রাতেই অভিযান চালিয়ে আফসানা সরদার ও আমির নামে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসাইন জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ ওই তরুণী ও তার পরিবারকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে। অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, বাকিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আপনার প্রতিক্রিয়া কেমন?

শেয়ার করুন:

মন্তব্য (0)

আপনার মন্তব্য লিখুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!