উৎসবের রঙে সাজছে...
অন্যান্য

সুন্দরবনের বনদস্যু ‘নানা ভাই’ বাহিনীর ১২ সদস্যের আত্মসমর্পণ

সুন্দরবনের বনদস্যু ‘নানা ভাই’ বাহিনীর ১২ সদস্যের আত্মসমর্পণ
লেখা বড়/ছোট করুন:

ডেস্ক রিপোর্ট: সুন্দরবনের বনদস্যু ‘নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়লসহ ১২ সদস্য অস্ত্র ও গুলি জমা দিয়ে কোস্টগার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কোস্টগার্ডের মোংলা সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে তারা আত্মসমর্পণ করে।

আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে রয়েছেন—নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমত (৩৬), সাইফুল্লাহ মোড়ল (৩৯), এখলাছুর রহমান (৩৮), রবিউল ইসলাম (৩৫), মফিজুল ইসলাম (৩৫), আজিম উদ্দিন গাজী (৩৭), আব্দুর রহমান শেখ (৩৬), শফিকুল ইসলাম (৫৩), মিন্টু গাজি (৩৯), আজিজুল গাজী (৩৫), শাহজাহান মালী (৩৫) ও আজিজুর রহমান (৪৫)। দলের সবাই খুলনা ও বাগেরহাট জেলার রামপাল থানার বাসিন্দা।

কোস্টগার্ড সূত্র জানায়, নানা ভাই বাহিনীর সদস্য হিসেবে তারা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতিসহ সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল।

আত্মসমর্পণকালে তারা একটি এইট শুটার, একটি সিক্স শুটার, একটি ফোর শুটার, একটি সাইড হেমার, একটি বোল্ট অ্যাকশন পিস্তল, দুটি এমথ্রী গ্যাস গান, দুটি ৭.৬৫ এমএম পিস্তল, দুটি ওয়ান শুটার, দুটি এয়ার গান, ২১২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৯ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ২০ রাউন্ড ৭.৬৫ এমএম পিস্তল বল, ৫ রাউন্ড ৮ এমএম তাজা গোলা, ৪১৩ রাউন্ড এয়ারগান গোলা, চারটি পিস্তল ম্যাগাজিন, দুটি এয়ারগান ম্যাগাজিন ও চার্জারসহ ছয়টি ওয়াকি-টকি কোস্টগার্ডের কাছে জমা দেয়।

কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের নির্বাহী কর্মকর্তা কমান্ডার মো. মানসুরুন মাহদীন জানান, সুন্দরবনে সক্রিয় সকল বনদস্যু বাহিনী নির্মূল ও উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ এ পর্যন্ত ২৯ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়। এ সময় দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা মোট ৪২ জেলেকে উদ্ধার করে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

তিনি আরও জানান, এর আগে সুন্দরবনের কুখ্যাত বনদস্যু ছোট সুমন বাহিনী, বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী ও ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীসহ মোট ৩৭ জন দস্যু অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্টগার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করে। জব্দকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আত্মসমর্পণকারী ডাকাতদের পুনর্বাসনসহ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


আপনার প্রতিক্রিয়া কেমন?

শেয়ার করুন:

মন্তব্য (0)

আপনার মন্তব্য লিখুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!