মার্কিন গোয়েন্দা প্রধান, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের স্পষ্ট সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেই ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাদের সতর্কতা ছিল—এই সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট তৈরি করতে পারে এবং ইরানে আরও কট্টরপন্থি নেতৃত্বের উত্থান ঘটাতে পারে। তবুও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কথায় শেষ পর্যন্ত অভিযান শুরু করেন ট্রাম্প।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর কয়েক দিন আগে ওভাল অফিসে বৈঠকে তৎকালীন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড ট্রাম্পকে জানান, ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করলে সেখানে আরও কঠোরপন্থি ও পারমাণবিক অস্ত্রে ইচ্ছুক শাসন ব্যবস্থা আসতে পারে, তেহরান দ্রুত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলা চালাবে।
তবে নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে জানিয়েছিলেন, ইরান কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে—এটি পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করার ও ‘শান্তিদূত’ হিসেবে ভাবমূর্তি গড়ার বিরল সুযোগ। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স কূটনৈতিক পদ্ধতির পক্ষে ছিলেন, কিন্তু প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারা ‘নির্ণায়ক’ হামলার বিকল্প তুলে ধরেন। ট্রাম্প উদ্বেগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, সামরিক বাহিনী সমস্যা ‘সামলে নিতে পারবে’।
যুদ্ধের পর ট্রাম্প প্রথমে সন্তুষ্ট ছিলেন; তবে জ্বালানি দাম বাড়ায় ও যুদ্ধ অচলাবস্থায় পড়ায় সৌদি আরব ও কাতার কূটনৈতিক সমাধানের চাপ দেয়। জনমত জরিপে ৮০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক যুদ্ধ শেষ করার চুক্তির পক্ষে ছিলেন। জুনে অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেন ট্রাম্প। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার ৬০ দিনের সময়সীমা ১৭ আগস্ট শেষ হয়েছে। এখন ট্রাম্প প্রশাসন ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি নৌ অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞায় ইরানকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে।
মন্তব্য (0)
আপনার মন্তব্য লিখুন
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!