উৎসবের রঙে সাজছে...
জাতীয়

ব্রহ্মপুত্রে আকস্মিক ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস: চিলমারী ঘাটে ২৫ নৌকা ডুবি, বহু মালামাল নদীগর্ভে

ব্রহ্মপুত্রে আকস্মিক ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস: চিলমারী ঘাটে ২৫ নৌকা ডুবি, বহু মালামাল নদীগর্ভে
লেখা বড়/ছোট করুন:

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার রমনা ঘাটে ব্রহ্মপুত্র নদে আকস্মিক ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের তাণ্ডবে অন্তত ২৫টি নৌকা ডুবে এবং ভেঙে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেল ৪টার দিকে চিলমারীর রমনা ঘাট এলাকায় আঘাত হানে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ। নৌকায় থাকা যাত্রীরা কোনও রকমে সাঁতরে এবং স্থানীয়দের সহায়তায় প্রাণে রক্ষা পেলেও মালামালসহ বহু নৌকা নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। তবে এতে কোনও প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুর থেকেই আকাশ মেঘলা ছিল। কোনও বৃষ্টিপাত না থাকলেও বিকেলের দিকে হঠাৎ করেই ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে তীব্র ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়। মুহূর্তের মধ্যে নদী উত্তাল হয়ে উঠলে ঘাট এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় নৌকায় থাকা যাত্রী, মাঝি ও শ্রমিকরা প্রাণভয়ে দিকবিদিক ছোটাছুটি শুরু করেন এবং অনেকে নদীতে ঝাঁপ দেন।

প্রবল বাতাস ও ঢেউয়ের তোড়ে ঘাটে নোঙর করা ছোট-বড় অন্তত ২০টি নৌকা পানিতে তলিয়ে যায় এবং ৪টি বড় নৌকা ভেঙে চুরমার হয়ে মালামালসহ নদীগর্ভে বিলীন হয়। ক্ষতিগ্রস্ত কোদালকাটি গ্রামের নৌকা মালিক রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি মালামাল ও যাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এমন সময় হঠাৎ শুরু হওয়া জলোচ্ছ্বাসে তার নৌকায় থাকা ৫৬ বস্তা সার, দুটি তেলের ড্রাম ও সুপারির বস্তাসহ যাত্রীদের মালামাল পানিতে ডুবে যায়। অনেক চেষ্টা করেও মাত্র ৩ বস্তা সার উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। আলী হোসেন নামের আরেক নৌকা মালিক জানান, ঘাটে বেঁধে রাখা তার ৬০ হাত দীর্ঘ বড় নৌকাটি জলোচ্ছ্বাসের আঘাতে দুমড়ে-মুচড়ে পানির নিচে তলিয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা মাজু ইব্রাহিম জানান, আকস্মিক এই দুর্যোগে তার ২৫ হাতের একটি নৌকাসহ আশপাশের ২০টি ছোট নৌকা ডুবে যায়। ছোট নৌকাগুলো স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বড় নৌকাগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

চিলমারী রমনা ঘাটের বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা পুতুল রায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিকেল ৪টার কিছু আগে হঠাৎ আনুমানিক ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার গতিবেগে ক্ষণস্থায়ী একটি ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। এতে বিআইডব্লিউটিএ-এর স্পিডবোটসহ চারটি বড় নৌকা ভেঙে ডুবে যায় এবং অন্তত ২০টি ছোট নৌকা তলিয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে এই দুর্যোগে প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়া মালামাল উদ্ধারে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের তৎপরতা এখনও চলমান রয়েছে।

আপনার প্রতিক্রিয়া কেমন?

শেয়ার করুন:

মন্তব্য (0)

আপনার মন্তব্য লিখুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!