পাইকারি ও খুচরা উভয় পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। বুধবার (৩ জুন) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন মূল্যহার ঘোষণা করে সংস্থাটি। আগামী ১ জুন থেকে বাড়তি দাম কার্যকর হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান, পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট (কিলোওয়াট ঘণ্টা) বিদ্যুতের গড় দাম ৭ টাকা থেকে ১ টাকা ৩৯ পয়সা বাড়িয়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে পাইকারি পর্যায়ে দাম প্রায় ২০ শতাংশ (১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ) বৃদ্ধি পেয়েছে। খুচরা পর্যায়েও বাড়ছে দাম। আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প খাতের গ্রাহক পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় মূল্য ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫২ পয়সা বাড়িয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা করা হয়েছে। এ হিসাবে গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ দাম বাড়ল।
এর আগে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে গত ২০ ও ২১ এপ্রিল দুই দিনব্যাপী গণশুনানি করে বিইআরসি। ওই শুনানিতে ভোক্তা, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন সংগঠনের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও নতুন দাম নির্ধারণ করেছে কমিশন। সেই শুনানিতে দেশের ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি বিদ্যুতের খুচরা মূল্য বাড়ানোর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে। তারা উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যয় বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে ইউনিটপ্রতি ৮৫ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ২ টাকা ১০ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়। প্রস্তাবিত দামের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে আবাসিক গ্রাহকদের ওপর। শুধু বিদ্যুতের দামই নয়, বাড়ানো হয়েছে বিদ্যুৎ সঞ্চালন মাশুলও। আগে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ সঞ্চালনে মাশুল ছিল ৩১ দশমিক ৩৫ পয়সা। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এটি ৭ দশমিক ৫১ পয়সা বাড়িয়ে ৩৮ দশমিক ৮৬ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সর্বশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাহী আদেশে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় পাইকারি পর্যায়ে ৫ শতাংশ ও গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ৮ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়েছিল। এখন নতুন করে আবারও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ফলে নিম্ন-মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে শিল্প খাত–সবার ওপরই চাপ বাড়বে। ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলি বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে।
মন্তব্য (0)
আপনার মন্তব্য লিখুন
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!