উৎসবের রঙে সাজছে...
অন্যান্য

বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন একেবারে বিনা ফিতে? তিন দিনের সুযোগে লুকিয়ে আছে যে শর্ত

বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন একেবারে বিনা ফিতে? তিন দিনের সুযোগে লুকিয়ে আছে যে শর্ত
লেখা বড়/ছোট করুন:

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে ইচ্ছুক একজন শিক্ষার্থী কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে আবেদন করলে শুধু আবেদন ফিতেই বড় অঙ্কের খরচ হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যে এই সপ্তাহে সেই খরচ সাময়িকভাবে সরানোর উদ্যোগ চলছে। ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ‘ফ্রি অ্যাপ্লিকেশন ডেজ’ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া সরকারি এবং কিছু বেসরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় আবেদন ফি মওকুফ করছে। তবে শিরোনামে ‘বিনা ফিতে আবেদন’ শুনে সবাই আবেদন করতে পারবেন, কিংবা ভর্তি ও পড়াশোনা বিনা খরচে হবে—এমন ধারণা করা ভুল।

কলোরাডোর উচ্চশিক্ষা দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী সুযোগটি মূলত ওই অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দাদের জন্য, যাঁরা অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের স্নাতক পর্যায়ের ডিগ্রি, অ্যাসোসিয়েট ডিগ্রি, সার্টিফিকেট বা অন্য যোগ্য কর্মসূচিতে আবেদন করছেন। প্রতিষ্ঠানভেদে ফি মওকুফের পদ্ধতি ভিন্ন হতে পারে। কোথাও আবেদনপত্রে নির্দিষ্ট বিকল্প বেছে নিতে হয়, কোথাও আলাদা নির্দেশনা মানতে হয়। তাই আগ্রহী ব্যক্তির প্রথম কাজ নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নির্দেশনা দেখা; শুধু আবেদন পোর্টালে ঢুকলেই ফি স্বয়ংক্রিয়ভাবে শূন্য হবে ধরে নেওয়া নিরাপদ নয়।

এই কর্মসূচি কেন গুরুত্ব পাচ্ছে, তা আগের বছরের তথ্যেই বোঝা যায়। রাজ্য সরকারের হিসাবে ২০২৫ সালে তিন দিনে ৭১ হাজার ৫০৪টি আবেদন জমা পড়েছিল এবং আবেদনকারীদের মোট ২৪ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি ফি সাশ্রয় হয়েছিল। আবেদনগুলোর ৩৬ শতাংশ এসেছে পরিবারে প্রথম প্রজন্মের সম্ভাব্য কলেজশিক্ষার্থীদের কাছ থেকে, আর ৪৯ শতাংশ এসেছে বর্ণগতভাবে বৈচিত্র্যময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে। তবে জমা পড়া আবেদনের সংখ্যা মানে সমসংখ্যক আলাদা মানুষ নয়; একজন একাধিক প্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে পারেন। এই পার্থক্য ফলাফল বোঝার জন্য জরুরি।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কলোরাডো পাবলিক রেডিও কর্মসূচিটির কথা তুলে ধরেছে এমন শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে, যাঁরা একাধিক কলেজে আবেদন করতে চান। ফি কমানো তাঁদের সামনে পছন্দের পরিসর বাড়াতে পারে। কিন্তু আবেদনের অন্য ব্যয় রয়ে যায়: পরীক্ষার প্রস্তুতি, প্রয়োজনীয় নথি, যাতায়াত, সময় এবং পরে টিউশন ও থাকার খরচ। শুধু প্রথম দরজাটি খুলে দিলেই দীর্ঘ শিক্ষাজীবনের সব আর্থিক বাধা দূর হয় না। কর্মসূচির সাফল্য বিচার করতে ভর্তি, আর্থিক সহায়তা এবং শেষ পর্যন্ত ডিগ্রি অর্জনের তথ্যও প্রয়োজন।

রাজ্য দপ্তর আগ্রহীদের আগে থেকে প্রবন্ধ, নম্বরপত্র ও সুপারিশপত্র প্রস্তুত রাখতে বলেছে। অনেক আবেদনব্যবস্থায় খসড়া আগে সংরক্ষণ করা যায়, কিন্তু ফি মওকুফ পেতে নির্ধারিত ২০ থেকে ২২ অক্টোবরের মধ্যে জমা দেওয়ার শর্ত আছে। আর্থিক সহায়তার সুযোগ খুঁজতে প্রযোজ্য হলে ফেডারেল বা রাজ্যভিত্তিক সহায়তা আবেদনও আলাদা করে করতে হবে। আবেদন ফি মওকুফ অর্থ ভর্তি নিশ্চিত হওয়া নয়; প্রতিটি কলেজ নিজস্ব নির্বাচনী নিয়ম মেনে সিদ্ধান্ত নেবে।

সব কলেজের নিয়ম এক রকমও নয়। কলোরাডোর কিছু কমিউনিটি কলেজ এবং কারিগরি প্রতিষ্ঠানে বছরের সব সময় আবেদন ফি লাগে না। আবার কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ীভাবে নির্দিষ্ট শিক্ষার্থীদের জন্য ফি তুলে দিয়েছে। ফলে তিন দিনের প্রচারকে পুরো উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার একমাত্র সুযোগ ভাবার প্রয়োজন নেই। নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নাম, আবেদনের স্তর এবং বাসিন্দা হওয়ার শর্ত মিলিয়ে দেখা দরকার। অঙ্গরাজ্যের বাইরে থাকা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা এই সাধারণ রাজ্যবাসীর সুবিধা পাবেন কি না, সেটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিয়ম না দেখে ধরে নেওয়া যাবে না।

বাংলাদেশি পাঠকের জন্য ঘটনাটি আরেকটি প্রশ্ন তোলে: আবেদন ফি কি উচ্চশিক্ষার সুযোগের প্রথম অদৃশ্য বাধা? শিক্ষার্থী যখন নিশ্চিত নন কোথায় সুযোগ পাবেন, তখন প্রতিটি নতুন আবেদন খরচের সিদ্ধান্ত হয়ে দাঁড়ায়। সীমিত সময়ের মওকুফ কিছু মানুষকে অতিরিক্ত বিকল্প যাচাই করার সাহস দিতে পারে। তবে ভালো সিদ্ধান্ত নিতে কোর্সের মান, মোট খরচ, বৃত্তি, কাজের সুযোগ এবং পড়াশোনা শেষে সম্ভাব্য ঋণ একসঙ্গে তুলনা করতে হয়।

তিন দিনের এই কর্মসূচি এখন চলছে; এর ২০২৬ সালের চূড়ান্ত আবেদনসংখ্যা এখনো জানা নেই। পরে কত আবেদন জমা পড়ল, কতজন ভর্তি হলেন এবং প্রথম প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা কতটা লাভ পেলেন, সেই তথ্যই বাস্তব ফল দেখাবে। আপাতত স্পষ্ট বিষয়টি হলো: ফি মওকুফ একটি দরজা খুলেছে, কিন্তু সেই দরজা দিয়ে কারা প্রবেশ করতে পারবেন এবং এরপর তাঁদের পথ কতটা সহজ হবে, সেটিই বড় প্রশ্ন।

আপনার প্রতিক্রিয়া কেমন?

শেয়ার করুন:

মন্তব্য (0)

আপনার মন্তব্য লিখুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!