একটি ভর্তি ব্যবস্থায় অধিকাংশ আবেদনকারী প্রস্তাব পেলেও শিক্ষার্থীরা কেন রাস্তায় নামেন? ফ্রান্সে উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম পারকুরসুপ ঘিরে এই আপাতবিরোধী প্রশ্ন সামনে এসেছে। সরকারের হিসাবে ২০২৬ সালে বিপুল সংখ্যক তরুণ কোনো না কোনো ভর্তির প্রস্তাব পেয়েছেন। কিন্তু শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বলছেন, কোন প্রতিষ্ঠান কী যুক্তিতে কাউকে বেছে নেয় তা যথেষ্ট পরিষ্কার নয়; অপেক্ষার তালিকা ও অনিশ্চয়তা তাঁদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে কঠিন করে তোলে। ২৩ অক্টোবর টাইমস হায়ার এডুকেশনের প্রতিবেদনে শিক্ষার্থী, গবেষক ও সরকারের বক্তব্য একসঙ্গে এসেছে। বিতর্কটি শুধু একটি ওয়েবসাইটের নয়; সুযোগের ন্যায্যতা এবং সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যার।
ফ্রান্সের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১৯ অক্টোবর প্রকাশিত হিসাবে, এ বছরের পারকুরসুপ প্রক্রিয়ায় ১০ লাখ ৪৬ হাজার আবেদনকারী অংশ নিয়েছেন এবং প্রায় ২৫ হাজার কোর্স বা প্রশিক্ষণপথে আবেদন করেছেন। উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের ৬ লাখ ৩ হাজার ৯১০ জন শিক্ষার্থী অন্তত একটি ভর্তির প্রস্তাব পেয়েছেন; এটি আবেদন করা ওই শিক্ষার্থী গোষ্ঠীর ৯১ দশমিক ৫ শতাংশ। সরকার বলছে, বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুবিধাও ভূমিকা রেখেছে। এই সংখ্যাগুলো ব্যবস্থার পরিসর দেখায়। কিন্তু কোনো আবেদনকারী তাঁর প্রথম পছন্দ পেয়েছেন কি না, কেন পাননি, কিংবা অপেক্ষার সময় তাঁর অভিজ্ঞতা কেমন ছিল—এসব প্রশ্নের সম্পূর্ণ উত্তর ওই একটি হার দেয় না।
টাইমস হায়ার এডুকেশন জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদে পারকুরসুপকে অস্বচ্ছ বলার স্লোগান দেখা গেছে। গবেষকদের একাংশের যুক্তি, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিজেদের ভর্তি মানদণ্ডে নম্বর, স্কুলের পরিচিতি, শিক্ষকের মূল্যায়ন ও ব্যক্তিগত আবেদনপত্রকে কত গুরুত্ব দেয়, তা আবেদনকারীরা পরিষ্কারভাবে জানতে পারেন না। ফলে একই ফল করা দুই শিক্ষার্থী ভিন্ন সুযোগ পেলে কেন তা ঘটেছে, বোঝা কঠিন হয়। আবার সব প্রতিষ্ঠান একই পদ্ধতিতে সিদ্ধান্ত নেয়—এমনও নয়। তাই প্ল্যাটফর্মের কেন্দ্রীয় প্রযুক্তি এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব বাছাই প্রক্রিয়া আলাদা করে দেখতে হবে।
ফরাসি সমাজবিজ্ঞানী আগনেস ভান জানতেন মতে, সমস্যার মধ্যে আসনের ঘাটতি, জটিল প্রক্রিয়া এবং দৃশ্যমান নয় এমন বাছাইয়ের অনুভূতি রয়েছে। পরিবার যাদের ভর্তি পদ্ধতি বোঝাতে সময়, অভিজ্ঞতা বা ব্যক্তিগত পরামর্শ দিতে পারে, তারা অনেক সময় অপেক্ষার তালিকায় বেশি ধৈর্য ধরে থাকতে পারে। কম সহায়তা পাওয়া শিক্ষার্থী আগে সুযোগ ছেড়ে দিতে পারেন। তবে গবেষক একই সঙ্গে সতর্ক করেছেন, পারকুরসুপ নিজে বৈষম্য বাড়িয়েছে—এমন সরল সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন; এটি কিছু সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীকে আবেদন করতেও উৎসাহিত করেছে। অর্থাৎ ফল মাপতে শুধু প্রতিবাদের স্লোগান বা সরকারের সাফল্যের সংখ্যা—কোনোটিই একা যথেষ্ট নয়।
সরকারি বিবৃতিতেও চাপের কথা অস্বীকার করা হয়নি। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জরিপে অনেক শিক্ষার্থী ভর্তি প্রক্রিয়াকে চাপের বলে মনে করেছেন এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর মানদণ্ড সম্পর্কে আরও স্বচ্ছতা চেয়েছেন। একই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অক্টোবরের শেষের মধ্যে উন্নয়নের সিদ্ধান্ত জানানো হবে। ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত কী হবে তা অনুমান করা যাবে না। কোনো নতুন নিয়ম প্রকাশ হলে দেখতে হবে তা শুধু ওয়েবসাইটে তথ্য বাড়ায়, নাকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সিদ্ধান্তের যুক্তিও আরও ব্যাখ্যাযোগ্য করে।
ভর্তি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অর্থ সব আবেদনকারীর জন্য একই ফল নয়। সীমিত আসনের ক্ষেত্রে বাছাই থাকবেই। কিন্তু আবেদনকারীর জানা উচিত কোন যোগ্যতা মাপা হচ্ছে, অপেক্ষার তালিকা কীভাবে এগোচ্ছে, আর ভুল তথ্য থাকলে সংশোধনের পথ কোথায়। বৃত্তিপ্রাপ্তদের সুযোগ বাড়াতে বিশেষ ব্যবস্থা থাকলে সেটির ফলও প্রকাশ্যে বোঝানো দরকার। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত আসন তৈরি না হলে শুধু ভালো অ্যালগরিদমের প্রতিশ্রুতি হতাশা দূর করবে না। গবেষকদের বক্তব্যে এই কাঠামোগত সমস্যার কথাও এসেছে।
ফ্রান্সের বিতর্ক অন্য দেশের শিক্ষার্থীদের জন্যও পরিচিত। অনলাইনে আবেদন সহজ হতে পারে, কিন্তু সিদ্ধান্তের নিয়ম অদৃশ্য থাকলে বিশ্বাস তৈরি হয় না। আগামী ঘোষণায় সরকার কতটা সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা ও বাস্তব সহায়তা দেয়, সেটিই হবে বড় পরীক্ষা। আপাতত নিশ্চিত তথ্য হলো উচ্চ আবেদনসংখ্যা, অধিকাংশ স্কুলছাত্রের অন্তত একটি প্রস্তাব, এবং স্বচ্ছতা নিয়ে চলমান আপত্তি—এই তিনটি সত্য একসঙ্গে বিদ্যমান।
মন্তব্য (0)
আপনার মন্তব্য লিখুন
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!