উৎসবের রঙে সাজছে...
আন্তর্জাতিক

পারমাণবিক অস্ত্র চায় না ইরান: অবস্থান স্পষ্ট করলেন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী

পারমাণবিক অস্ত্র চায় না ইরান: অবস্থান স্পষ্ট করলেন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী
লেখা বড়/ছোট করুন:

ইরান পারমাণবিক অস্ত্রের দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে বিশ্ব মহলে গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। তেহরানের খতিবও তার বক্তব্যে পারমাণবিক অস্ত্র সম্পর্কিত নীতি পর্যালোচনা করতে ইরানিরা দাবি জানাচ্ছেন বলে উল্লেখ করেছেন এবং তার সপক্ষে তিনিও বিস্তর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তবে পারমাণবিক অস্ত্রের ক্ষেত্রে পশ্চিমা দেশগুলোর দ্বৈত নীতির সমালোচনা করে ইরান কোনো পারমাণবিক অস্ত্র চায় না বলে জানিয়েছেন দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী।

বুধবার (৪ নভেম্বর) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহেরের প্রতিবেদনে বলা হয়, উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ের ইনস্টিটিউট ফর পলিটিক্যাল অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের প্রধান সাঈদ খাতিবজাদেহ বলেন, ইসরায়েলের অঘোষিত পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারকে উপেক্ষা করে ইরানে পরিদর্শক পাঠানো পুরো পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) কার্যকারিতার জন্য একটি বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যেকোনো যৌক্তিক মানদণ্ডেই ইসরায়েলের গণবিধ্বংসী অস্ত্র রাখার কোনো নৈতিক বা আইনগত ভিত্তি নেই। অথচ পশ্চিমা সরকারগুলো এমন একটি শাসনব্যবস্থার পারমাণবিক অস্ত্রের কথা উল্লেখ করতেই অস্বীকার করে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে এই কূটনীতিক বলেন, প্রেসিডেন্ট একটি ছোট বাক্যে পুরো বৈপরীত্যটি তুলে ধরেছেন। আর তা হলো—"পারমাণবিক বোমা রয়েছে ইসরায়েলের হাতে, অথচ পরিদর্শকরা এসেছেন ইরানে।"

তিনি বলেন, এই দ্বিমুখী নীতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে যখন দেখা যায় যে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার আইনগত অধিকার রয়েছে, সেখানে পরিদর্শক পাঠানো হচ্ছে; অথচ কোনো ধরনের আইনগত কাঠামোর বাইরে গড়ে তোলা ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে সবাই সম্পূর্ণ নীরব। এছাড়া যে শাসনব্যবস্থা কখনোই 'পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি'-তে যোগ দেয়নি, তাকে ওয়াশিংটন ও ইউরোপীয় দেশগুলো পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে। অন্যদিকে যে সরকার কখনোই এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যায়নি, তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ইরান যখন নিজেকে রক্ষা করে, তখন তা কেবল তাদের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও জনগণের সুরক্ষার জন্যই নয়, বরং আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের সনদের মৌলিক নীতিগুলো রক্ষার জন্যও করে। ইরানের এই আত্মরক্ষা মূলত সেই সব রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে, যারা নিজেদের আইনের ঊর্ধ্বে মনে করে। এটি ইসরায়েল ও তাদের অবৈধ পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের বিরুদ্ধে।


আপনার প্রতিক্রিয়া কেমন?

শেয়ার করুন:

মন্তব্য (0)

আপনার মন্তব্য লিখুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!