উৎসবের রঙে সাজছে...
অন্যান্য

মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র প্রদর্শনের ব্যাখ্যা দিলেন ইশরাক হোসেন

মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র প্রদর্শনের ব্যাখ্যা দিলেন ইশরাক হোসেন
লেখা বড়/ছোট করুন:

ঢাকার গেন্ডারিয়া রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং আত্মরক্ষার্থে ব্যক্তিগত লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র বহন ও প্রদর্শনের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। গত ১৭ অক্টোবরের ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদকে খণ্ডিত ও বিভ্রান্তিকর দাবি করে রোববার (১৮ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।

বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি স্পর্শকাতর ঘটনার মাত্র কয়েক সেকেন্ডের দৃশ্যকে কেন্দ্র করে প্রচারিত ভিডিও, ফটোকার্ড ও খণ্ডিত শিরোনাম থেকে পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপট বোঝা সম্ভব নয়। এ ধরনের উপস্থাপনার মাধ্যমে তার ভূমিকা ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ঢাকা-৬ আসনের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই গেন্ডারিয়ার ঘণ্টিঘর, মুন্সিটেক, করাতিটোলা ও আশপাশের এলাকায় মাদক কেনাবেচা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের বিস্তার নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেয়ে আসছেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে এলাকাটি মাদক সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রধান ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়।

বিবৃতিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত জুন মাসে মাদকসংক্রান্ত একটি সহিংস ঘটনায় তিনজন নিরীহ নাগরিক গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি সরেজমিনে এলাকাটি পরিদর্শন করেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক সমন্বয় সভাও করেন। মাদক নির্মূলে জনবলসংকট দূর করা এবং মাদকের আস্তানাসংলগ্ন স্থানে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট থানাকে আধাসরকারি পত্র (ডিও লেটার) দেওয়া হলেও সেই উদ্যোগ এখনো বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।

ইশরাক হোসেনের দাবি, পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দের যৌথ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাধারণ নাগরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অংশগ্রহণে সমন্বিত সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবেই তিনি ১৭ অক্টোবর গেন্ডারিয়ার ওই এলাকায় যান।

কর্মসূচি চলাকালে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের কারণ ব্যাখ্যা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও তার নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্র থেকে নিরাপত্তাঝুঁকি এবং মাদক কারবারিদের পক্ষ থেকে ভবনের ছাদ থেকে আকস্মিক গুলিবর্ষণের আশঙ্কার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, কর্মসূচি চলাকালে একটি অস্থায়ী মাদকের আস্তানার কাছে পৌঁছালে ৩০ থেকে ৩৫ জন আইনলঙ্ঘনকারী ব্যক্তি হইচই করতে করতে তাদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসে। এ পরিস্থিতিতে সুনির্দিষ্ট হামলার আশঙ্কা এবং জানমালের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তিনি ও তার সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি থেকে নেমে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের জন্য আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন বলে দাবি করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি কেটে যাওয়ার পরপরই অস্ত্রটি যথাস্থানে রাখা হয়। ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং আত্মরক্ষার স্বার্থেই আইনি কাঠামোর মধ্যে তা প্রদর্শন করা হয়েছে।

এদিকে, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরপরই গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশকে অবহিত করা হয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তার দাবি, পরবর্তীতে পুলিশের প্রত্যক্ষ উপস্থিতি ও সহায়তায় সন্দেহভাজন মাদকের আস্তানাগুলোতে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে চার থেকে পাঁচটি অবৈধ ও অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়েছে।

বিবতিতে অভিযানে উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর বিবরণ দিয়ে তিনি জানান, এসব আস্তানা থেকে হেরোইন বা হেরোইনজাতীয় মাদকদ্রব্য, বিদেশি মদ, মাদক সেবনের সরঞ্জাম, বেশ কিছু দেশীয় ধারালো অস্ত্র, মাদক বিক্রির নগদ অর্থ এবং ছিনতাইকৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। এ ছাড়া অপরাধের সঙ্গে হাতেনাতে জড়িত থাকার অভিযোগে ছয়জন মাদক কারবারিকে আটক করে জব্দ করা আলামতসহ গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ঘটনাটি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইশরাক হোসেন বলেন, প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার, দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক কালবেলাসহ কয়েকটি গণমাধ্যম খণ্ডিত তথ্য ও ফটোকার্ডের মাধ্যমে বিকৃত সংবাদ পরিবেশন করেছে। এসব সংবাদে অভিযানের সাফল্য, পুলিশের ভূমিকা, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারের বিষয় এবং ছয়জনকে আটকের তথ্য এড়িয়ে গিয়ে শুধু অস্ত্র হাতে তার অভিযানে অংশ নেওয়ার দৃশ্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রীর মতে, ঘটনার সামগ্রিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা না করে এ ধরনের শিরোনাম প্রকাশ স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পরিপন্থী। তিনি গণমাধ্যমগুলোকে যেকোনো সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট তুলে ধরার আহ্বান জানান।

মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের 'জিরো টলারেন্স' নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাদকের আস্তানা সম্পূর্ণরূপে উপড়ে ফেলা এবং ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত করা জনগণের কাছে তার অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। একটি ঘটনাকে খণ্ডিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচারের মাধ্যমে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন স্তব্ধ করা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।



আপনার প্রতিক্রিয়া কেমন?

শেয়ার করুন:

মন্তব্য (0)

আপনার মন্তব্য লিখুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!