আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বহুল প্রতীক্ষিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার মাত্র একদিন আগে এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। ইউক্রেনের ওডেসা সমুদ্রবন্দরে নোঙর করে রাখা একটি চীনা মালবাহী বাণিজ্যিক জাহাজে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রুশ সামরিক বাহিনী। বেইজিং ও মস্কোর মধ্যকার কৌশলগত সম্পর্কের মাঝে এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মহলে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
ইউক্রেনের উপ-প্রধানমন্ত্রী ওলেক্সান্ডার কুব্রাকভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ওডেসা বন্দরে অবস্থানরত 'অপটিমা' (Optima) নামের একটি বেসামরিক মালবাহী জাহাজে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। হামলার শিকার হওয়া এই জাহাজটি সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসের পতাকাবাহী হলেও এটি মূলত একটি চীনা কোম্পানির মালিকানাধীন বাণিজ্যিক জাহাজ।
ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় জাহাজটিতে কর্মরত ৬০ বছর বয়সী এক বিদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া হামলায় আরও পাঁচজন বিদেশি ক্রু গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এই হামলার পর পরই ইউক্রেনের উপ-প্রধানমন্ত্রী ওলেক্সান্ডার কুব্রাকভ রাশিয়ার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ক্রেমলিন মূলত আন্তর্জাতিক খাদ্য সরবরাহ চেইন এবং কৃষ্ণ সাগর অঞ্চলের মুক্ত বাণিজ্যকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাধাগ্রস্ত করতে চাচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এই ধরনের আগ্রাসী হামলা বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত।
তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে হামলার টাইমিং নিয়ে। কারণ, এই হামলার ঠিক পরদিনই রুশ ও চীনা রাষ্ট্রপ্রধানদের বৈঠকে বসার কথা ছিল। যেখানে দুই দেশের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হওয়ার এজেন্ডা নির্ধারিত রয়েছে। এমন এক স্পর্শকাতর সময়ে চিনের নিজস্ব জাহাজে রাশিয়ার এই হামলা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে কোনো প্রভাব ফেলবে কিনা, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। অবশ্য এই হামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত মস্কো বা বেইজিংয়ের কোনো আনুষ্ঠানিক যৌথ প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য (0)
আপনার মন্তব্য লিখুন
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!