উৎসবের রঙে সাজছে...
অন্যান্য

সাঈদীর মামলার বাদীর দাফনে আসেনি কেউ, কবর খুঁড়েন স্ত্রী-মেয়ে-বোন

সাঈদীর মামলার বাদীর দাফনে আসেনি কেউ, কবর খুঁড়েন স্ত্রী-মেয়ে-বোন
লেখা বড়/ছোট করুন:

পিরোজপুরে দিনভর উত্তেজনা ও বাধার অভিযোগের পর পুলিশের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় মধ্যরাতে দাফন সম্পন্ন হয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার বাদী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর (৮৭)। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে তার নিজ বাড়িতে দাফন সম্পন্ন হয়। রোববার (২৫ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম।

মানিক পশারী জামায়াত নেতা ও প্রয়াত সংসদ সদস্য মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ও অন্যতম সাক্ষী ছিলেন। তিনি পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিরাপত্তা শঙ্কায় তিনি নিজ এলাকা ছেড়ে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের জামাতার বাড়িতে আশ্রয় নেন। গত দুই মাস ধরে তিনি শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। শনিবার সকাল ১০টার দিকে টুঙ্গিপাড়ায় তার মৃত্যু হয়।

এর আগে শনিবার দুপুর ১২টার দিকে মানিক পশারীর মরদেহ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে নেওয়া হলে স্বজনরা জামায়াতের নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে পড়েন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে পুলিশের সহায়তায় মরদেহ সেখান থেকে সরিয়ে জেলা পুলিশ লাইন্সে নেওয়া হয়। বিকেল ৫টার দিকে সেখানে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এরপর সদর থানা-পুলিশের নিরাপত্তায় মরদেহ রাখা হয়।

পরে রাত ১২টার দিকে সদর থানা-পুলিশ জেলা জামায়াতের নেতাদের সহযোগিতায় মানিক পশারীর মরদেহ তার বাড়িতে পৌঁছে দেয়। রাত ১টার দিকে দাফন সম্পন্ন হয়। এ সময় তার স্ত্রী, সন্তানসহ স্বজনেরা উপস্থিত ছিলেন।

পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মানিক পশারীর মরদেহ দাফনে জেলা জামায়াত ও এর অঙ্গসংগঠনের কোনো নেতা বাধা দেননি। জামায়াতে ইসলামী লাশের রাজনীতি করে না উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, পুলিশকে পূর্ণ সহযোগিতা দিয়ে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

পিরোজপুর সদর থানার ওসি মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, পুলিশের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মানিক পশারীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। কবরের পাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

আপনার প্রতিক্রিয়া কেমন?

শেয়ার করুন:

মন্তব্য (0)

আপনার মন্তব্য লিখুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!