বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও মানুষকে জায়গা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২৯ অক্টোবর জানিয়েছে, ২০২৭ সালের জন্য সরকারি সহায়তাপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয় আসনের মোট বরাদ্দ ৬ লাখ ২৪ হাজার ৫৯০। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, এটি আগের বছরের চেয়ে ২৩ হাজার বেশি। সংখ্যাটি বড় এবং খবরটি আশাব্যঞ্জক। কিন্তু সব আগ্রহী শিক্ষার্থী কি সত্যিই নিজের পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয় ও বিষয়ে ভর্তি হতে পারবেন? নতুন বরাদ্দের সঙ্গে সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।
সরকারি সহায়তাপ্রাপ্ত আসন বলতে এমন স্থান বোঝায়, যেখানে শিক্ষার্থীর শিক্ষার খরচের একটি অংশ সরকার বহন করে। অস্ট্রেলিয়ার নীতিতে এটি স্থানীয় শিক্ষার্থীর সুযোগ বাড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ উপায়। মোট বরাদ্দ ঘোষণা করা হলেও কোন বিশ্ববিদ্যালয় কতটি আসন পাবে, তার নির্দিষ্ট তালিকা নভেম্বর মাসে প্রকাশ করার কথা। তাই আজকের সংখ্যাকে প্রতিটি ক্যাম্পাসে নিশ্চিত ভর্তি সুযোগ ধরে নেওয়া যাবে না। বিষয়, এলাকা, যোগ্যতা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাস্তব সুযোগ আলাদা হবে।
নতুন ব্যবস্থার নাম ‘ম্যানেজড গ্রোথ’। সম্প্রতি পাস হওয়া উচ্চশিক্ষা আইনের অধীনে সরকার মোট আসনের একটি বরাদ্দ নির্ধারণ করবে, আর অস্ট্রেলিয়ান টারশিয়ারি এডুকেশন কমিশন তা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বণ্টন করবে। সরকারের বক্তব্য, মোট বরাদ্দ পরের বছরে আগের চেয়ে কমানো যাবে না। কমিশন প্রয়োজন দেখলে বাড়তি আসন চাইতেও পারবে। দরিদ্র পরিবার, আঞ্চলিক এলাকা ও দূরবর্তী অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের চাহিদা বিবেচনায় আনার কথাও বলা হয়েছে। এই কাঠামো ন্যায়সংগত প্রবেশাধিকার বাড়াতে পারবে কি না, তা বাস্তব বণ্টনেই বোঝা যাবে।
শিক্ষামন্ত্রী জেসন ক্লেয়ার বলেছেন, আরও শিক্ষক, নার্স, বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলী তৈরি করতে উচ্চশিক্ষার দরজা বড় করা দরকার। সরকারের দীর্ঘমেয়াদি হিসাব অনুযায়ী, নতুন আইনে আগামী দশকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অতিরিক্ত ৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলার বরাদ্দ এবং ২ লাখ ৩০ হাজার নতুন শিক্ষার্থীকে পড়া শুরু করার সুযোগ তৈরি হবে। এগুলো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সরকারি প্রক্ষেপণ; আজই এত শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন, এমন নয়। লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কক্ষ, প্রশিক্ষণ সুবিধা এবং শিক্ষার্থী সহায়তাও প্রয়োজন।
টাইমস হায়ার এডুকেশনের প্রতিবেদনে সমালোচকদের ভিন্ন উদ্বেগ উঠে এসেছে। তাদের মতে, নতুন আসন বাড়লেও স্থানীয় চাহিদার তুলনায় সংখ্যা যথেষ্ট নাও হতে পারে। কেউ কেউ সরকারের ‘রেকর্ড’ দাবিটি যাচাই করা কঠিন বলছেন, কারণ সাম্প্রতিক বছরের পূর্ণাঙ্গ ভর্তি তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি। এ সমালোচনা সরকারি ঘোষণাকে বাতিল করে না; বরং ঘোষণা ও বাস্তব ফলের মধ্যে যে ব্যবধান থাকতে পারে, তা মনে করিয়ে দেয়। কোনো অঞ্চলে আসন বাড়লেই সেখানে পছন্দের বিষয়টি পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন শুধু সংখ্যার খেলা নয়। একটি আসন প্রত্যন্ত অঞ্চলের এমন শিক্ষার্থীর জন্য বড় সুযোগ হতে পারে, যাঁকে পড়তে শহরে যেতে হয়। কিন্তু একই আসন যদি তাঁর চাহিদার বিষয়ে না থাকে বা আবাসন খরচ বহন করা না যায়, তাহলে কাগজে সুযোগ থাকলেও বাস্তবে তা সীমিত। তাই সরকারের ঘোষিত ‘নিডস বেসড ফান্ডিং’ বা চাহিদাভিত্তিক সহায়তার উদ্দেশ্য গুরুত্বপূর্ণ। পিছিয়ে থাকা এলাকার শিক্ষার্থী ভর্তি হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বাড়তি সহায়তা পাবে বলে আইন পাসের সময় সরকার জানিয়েছিল। সেই অর্থ শিক্ষার্থীর থাকা, পরামর্শ ও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কতটা কাজে লাগবে, তাও দেখতে হবে।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমারেখা আছে। ৬ লাখ ২৪ হাজার ৫৯০টি সরকারি সহায়তাপ্রাপ্ত আসনকে বিদেশি শিক্ষার্থীদের নতুন ভিসা বা ভর্তি কোটার ঘোষণা ভাবা ঠিক হবে না। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ফি, ভিসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নিয়ম ভিন্ন। কেউ অস্ট্রেলিয়ায় পড়ার পরিকল্পনা করলে নিজের কোর্সের বর্তমান তথ্য এবং সরকারি ভিসা নির্দেশনা আলাদাভাবে যাচাই করতে হবে। সংবাদটির প্রধান প্রভাব দেশের স্থানীয় উচ্চশিক্ষা নীতিতে।
এখন পরের পরীক্ষাটি নভেম্বরে, যখন প্রতিষ্ঠানভিত্তিক আসন বরাদ্দ বের হবে। তার পর দেখতে হবে কোন শহর ও অঞ্চলে সুযোগ বাড়ল, কোন বিষয়ের চাহিদা পূরণ হলো, এবং নতুন শিক্ষার্থীরা পড়া শেষ করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলেন কি না। ২৩ হাজার নতুন আসন একটি স্পষ্ট ঘোষণা। কিন্তু উচ্চশিক্ষার দরজা কতটা খুলল, তার নির্ভরযোগ্য উত্তর মিলবে শিক্ষার্থীরা বাস্তবে সেই দরজা দিয়ে প্রবেশ করার পর।
মন্তব্য (0)
আপনার মন্তব্য লিখুন
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!