ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও শিল্পপতি গৌতম আদানির সম্পর্ক নিয়ে তৈরি একটি বিতর্কিত প্রামাণ্যচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্ট। আদানি গ্রুপের ফ্ল্যাগশিপ প্রতিষ্ঠান আদানি এন্টারপ্রাইজেসের করা মানহানির মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই অন্তর্বর্তী আদেশ দেন।
হটমেইলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা সাবির ভাটিয়া প্রকাশিত ৩৬ মিনিটের ওই প্রামাণ্যচিত্রের নাম 'দ্য ফ্রেন্ডশিপ ফাইলস'। আদালতের নির্দেশে ইউটিউব, এক্স ও মেটার ইন্সটাগ্রামকে প্রামাণ্যচিত্রটির বিভিন্ন পোস্ট সরিয়ে ফেলতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে ভিডিওটি আর ছড়িয়ে না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সাবির ভাটিয়াকে। এই অন্তর্বর্তী আদেশ ২০২৭ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
আদালত তার আদেশে বলেছেন, "বিতর্কিত ভিডিওটি কোনো সংবাদ প্রতিবেদন বা কার্যবিবরণী নয়। এটি একটি নাটকীয় বর্ণনা, যার শিরোনামে প্রকাশ্যেই চুরির অভিযোগ রয়েছে এবং যার বর্ণনা ও দৃশ্যগুলোকে সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।"
আদানি এন্টারপ্রাইজেস আদালতকে জানিয়েছে, তারা সরকারি নীতি বা ব্যবসায়িক একচেটিয়াকরণের বিরুদ্ধে গঠনমূলক সমালোচনা ঠেকাতে চায় না। তবে তাদের অভিযোগ, সাবির ভাটিয়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছেন এবং ভিডিওটিতে মিথ্যা বিষয়বস্তু রয়েছে।
প্রামাণ্যচিত্রটি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লক্ষাধিকবার দেখা হয়েছে। এতে মোদি ও আদানির সম্পর্কের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে, যাদের দুজনেরই জন্ম গুজরাটে। এছাড়া ২০১৯ সালে আদানির ছয়টি বিমানবন্দরের দরপত্র জেতার বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, যেখানে অভিযোগ করা হয়েছে সরকারি নিয়ম পরিবর্তন করে তার প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়া হয়েছিল।
আদানি গ্রুপ এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। অন্যদিকে ভারত সরকারের দাবি, সব নিয়মকানুন যথাযথভাবে মেনে চলা হয়েছে এবং কোনো পক্ষপাতিত্ব করা হয়নি।
সাবির ভাটিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, মামলায় তার বিরুদ্ধে ৫০ কোটি রুপি (প্রায় ৫২ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার) ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। তিনি লেখেন, "সত্য আমার পক্ষে আছে।" তার দাবি, এই প্রামাণ্যচিত্র আদানি এন্টারপ্রাইজেসকে বিচলিত করেছে এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ে আঘাত করেছে।
এর আগে গত ১৯ অক্টোবর মহারাষ্ট্র পুলিশ সাবির ভাটিয়াকে একটি নোটিশ পাঠিয়ে ভিডিওটি সরানোর নির্দেশ দেয়। পুলিশের দাবি ছিল, ভিডিওটিতে "গুরুতর ভিত্তিহীন অভিযোগ" করা হয়েছে। মহারাষ্ট্রে মোদির দলের জোট সরকার ক্ষমতায় রয়েছে।
মন্তব্য (0)
আপনার মন্তব্য লিখুন
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!