দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পর্যটননির্ভর দেশ থাইল্যান্ডে ইসরায়েলি নাগরিকদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) পর্যটনকেন্দ্র ফুকেতে দুটি পৃথক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এসব কর্মসূচিতে ইহুদি ধর্মীয় ও সামাজিক সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হাবাদ কেন্দ্রগুলো বন্ধ এবং ইসরায়েলি পর্যটকদের প্রবেশ ও অবস্থানের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের দাবি জানানো হয়।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, ফুকেতে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভের প্রধান বক্তা ছিলেন থাইল্যান্ডের প্রবীণ গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক কর্মী এবং সাবেক ইয়েলো শার্টস আন্দোলনের নেতা সন্ধি লিমথংকুল। তিনি ইসরায়েলি পর্যটকদের একবার প্রবেশের ক্ষেত্রে থাইল্যান্ডে অবস্থানের মেয়াদ সর্বোচ্চ ১৫ দিন নির্ধারণের দাবি জানান ।
সন্ধির অভিযোগ, ইসরায়েলিরা স্থানীয় ব্যবসার ক্ষতি করছেন। তারা এমন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন, যেগুলো মূলত অন্য ইসরায়েলিদের সেবা দেয়। এর ফলে ইউরোপীয় পর্যটকেরা থাইল্যান্ড থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। থাই সরকারকে ইসরায়েলের প্রতি নতজানু হওয়ার অভিযোগ তুলে দেশটির সঙ্গে সরকারের গোপন চুক্তি রয়েছে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি ।
সন্ধি লিমথংকুল গত ১০ সেপ্টেম্বর ব্যাংককে ইসরায়েলি দূতাবাসের বাইরে শত শত মানুষকে নিয়ে বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ওই কর্মসূচিতেও ইহুদিবিদ্বেষী বিভিন্ন স্লোগান ও ব্যানার দেখা যায়। ‘ইহুদিরা দূর হও’ এবং ‘তোমরা ইহুদিরা থাই সংস্কৃতি বোঝো না, তাই দূর হয়ে যাও’ লেখা ব্যানার প্রদর্শন করেন বিক্ষোভকারীরা। এ সময় তাদের হাতে থাইল্যান্ডের জাতীয় পতাকা দেখা যায় এবং তারা ‘টেকিং ব্যাক থাইল্যান্ড’ স্লোগান দেন ।
এদিকে ফুকেতে অনুষ্ঠিত অপর বিক্ষোভের নেতা সাইচোল নুচোট থাই সরকারের কাছে নাগরিকত্ব পাওয়া ইসরায়েলিদের নাগরিকত্ব বাতিল এবং দেশটির সব হাবাদ প্রতিষ্ঠান বন্ধের দাবি জানান ।
মন্তব্য (0)
আপনার মন্তব্য লিখুন
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!