একটি AI chatbot-কে কেউ পড়ার সঙ্গী ভাবেন, কেউ কাজের সহকারী, আবার কেউ ব্যক্তিগত কষ্টের কথাও বলেন। এই ব্যবহার যত বেড়েছে, তত বেড়েছে একটি কঠিন প্রশ্ন: সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে ভুল বা ক্ষতিকর উত্তর এলে তার দায়িত্ব কার? যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত আটটি অঙ্গরাজ্য OpenAI-এর বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তাদের অভিযোগ, ChatGPT-এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট ছিল না এবং ব্যবহারকারীদের কাছে ঝুঁকির চিত্র পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা হয়নি। অভিযোগগুলো গুরুতর, কিন্তু এগুলো এখনও আদালতে প্রমাণিত সিদ্ধান্ত নয়। মামলার খবর পড়ার সময় এই দুই তথ্য একসঙ্গে মনে রাখা জরুরি।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অঙ্গরাজ্যগুলোর আইন কর্মকর্তারা ভোক্তা সুরক্ষা আইনের ভিত্তিতে মামলা করেছেন। তাঁদের দাবি, কিছু ব্যবহারকারী ক্ষতিকর পরামর্শ পেয়েছেন এবং বিশেষ করে কিশোর ও দুর্বল অবস্থায় থাকা মানুষের জন্য AI-এর কথোপকথন ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাঁরা আরও বলছেন, chatbot-এর সহজে সম্মতি দেওয়ার প্রবণতা ব্যবহারকারীকে ভুল ভরসা দিতে পারে। এসব দাবি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ; আদালত কী প্রমাণ গ্রহণ করবে এবং শেষ পর্যন্ত কী রায় দেবে, তা এখনই বলা যায় না।
OpenAI-এর পক্ষও আছে। এপিকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র বলেছেন, তারা পুরো AI শিল্পের জন্য প্রযোজ্য বাস্তবসম্মত নীতিতে অঙ্গরাজ্যগুলোর সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, ChatGPT তেরো বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য তৈরি এবং আঠারোর নিচে ব্যবহার করতে অভিভাবকের অনুমতি প্রয়োজন। নীতির কথা জানানো এবং বাস্তবে সেটি কতটা কাজ করছে—এ দুটি আলাদা প্রশ্ন। মামলায় সেই ব্যবধান নিয়ে বিতর্ক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ব্যবহারকারী ও অভিভাবকদের জন্যও নিয়মের লেখা দেখার পাশাপাশি বাস্তব ব্যবহার বোঝা জরুরি।
কেন chatbot-এর উত্তর এত প্রভাব ফেলতে পারে? কারণ এটি সাধারণ ওয়েবসাইটের মতো শুধু তথ্যের তালিকা দেখায় না; প্রশ্নের পর প্রশ্ন ধরে কথোপকথন চালায়। এমন উত্তর বন্ধুর মতো শোনাতে পারে, যদিও অপর পাশে কোনো মানুষ নেই। ব্যবহারকারী যদি চাপ, একাকিত্ব বা উদ্বেগের মধ্যে থাকেন, তবে আত্মবিশ্বাসী ভাষায় লেখা একটি ভুল উত্তরও বেশি গুরুত্ব পেতে পারে। আবার স্বাস্থ্য, আইন বা নিরাপত্তা বিষয়ে ক্ষুদ্র ভুলের ফল সাধারণ ভুল বানানের চেয়ে অনেক বড়। তাই কথোপকথনের স্বাভাবিক ভঙ্গি দেখে ব্যবস্থাটিকে মানুষের বিচারবুদ্ধির সমতুল্য ভাবা নিরাপদ নয়।
এখানে প্রযুক্তি কোম্পানির দায়িত্বের পাশাপাশি নকশার প্রশ্নও আছে। বয়স যাচাই কীভাবে হবে? বিপজ্জনক প্রশ্ন এলে ব্যবস্থা কি সঠিকভাবে সীমা টানবে? ব্যবহারকারীকে কখন বাস্তব মানুষের সহায়তার দিকে পাঠাবে? ভুল উত্তরের অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রতিষ্ঠান কত দ্রুত তা পরীক্ষা ও সংশোধন করবে? এসব প্রশ্নের সহজ একটি উত্তর নেই। কিন্তু সুরক্ষা ব্যবস্থা আছে বললেই কাজ শেষ হয় না; বাস্তব পরিস্থিতিতে সেটি কতটা কার্যকর, তা দেখার ব্যবস্থা থাকতে হবে। মামলার ফল যাই হোক, এই আলোচনাটি শুধু এক কোম্পানির জন্য নয়।
বাংলাদেশের পাঠকদের কাছে ঘটনাটি দূরের মার্কিন আদালতের বিষয় মনে হতে পারে। তবু এখানেও শিক্ষার্থী, কর্মী ও পরিবার একই ধরনের AI সেবা ব্যবহার করছেন। কেউ পড়ার বিষয় বোঝেন, কেউ জীবনবৃত্তান্ত লেখেন, কেউ অসুস্থতা সম্পর্কে প্রশ্ন করেন। দৈনন্দিন কাজে সহায়তা নেওয়া এক বিষয়; চিকিৎসা, মানসিক সংকট বা অন্য গুরুতর সিদ্ধান্তে শুধু chatbot-এর উত্তরের ওপর নির্ভর করা অন্য বিষয়। এমন পরিস্থিতিতে যোগ্য পেশাজীবী বা বিশ্বস্ত মানুষের সাহায্য নেওয়া প্রয়োজন। ব্যবহারকারীকে এই সীমাটি বুঝতে সাহায্য করা প্রতিষ্ঠানগুলোরও দায়িত্ব।
এই মামলাকে AI সম্পূর্ণ নিরাপদ বা সম্পূর্ণ বিপজ্জনক—কোনো এক বাক্যে নামিয়ে আনা যায় না। সঠিক প্রশ্ন হলো, কোন কাজে এটি উপকারী, কোথায় ভুলের মূল্য বেশি এবং সেই ঝুঁকি কমাতে কী প্রমাণ আছে। আদালত অভিযোগ পরীক্ষা করবে; গবেষকরা ব্যবস্থার আচরণ পরীক্ষা করবেন; নীতিনির্ধারকেরা নিয়ম ভাববেন। পাঠকের জন্য এখন সবচেয়ে ব্যবহারিক শিক্ষা হলো, খুব ব্যক্তিগত বা উচ্চ ঝুঁকির বিষয়ে একটি সাবলীল উত্তরকে চূড়ান্ত সত্য ধরা যাবে না। প্রযুক্তির সুবিধা নিতে হলে তার সীমাও চিনতে হবে।
অভিভাবকেরা চাইলে কিশোরের সঙ্গে প্রযুক্তি ব্যবহার নিয়ে নিয়মিত কথা বলতে পারেন: কোন প্রশ্ন chatbot-কে করা যায়, কোন উত্তর যাচাই করতে হবে এবং অস্বস্তিকর কিছু দেখলে কাকে জানাবে। শুধু নিষেধাজ্ঞা দিলে ব্যবহার আড়ালে চলে যেতে পারে। খোলামেলা আলোচনায় ভুল বুঝলে সাহায্য চাওয়ার জায়গা তৈরি হয়।
মন্তব্য (0)
আপনার মন্তব্য লিখুন
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!