দিল্লির কর্ণাট প্লেস থেকে পদযাত্রা শেষে রামলীলা ময়দানে 'মোদি হটাও, জ্ঞানেশ কুমার হটাও' স্লোগানে মহাসমাবেশ করেছিল ইন্ডিয়া জোট। ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী এবার পাল্টা কর্মসূচি পালন করেছে বিজেপি। হায়দরাবাদে 'গণতন্ত্র বাঁচাও' আন্দোলনে নেমেছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। অন্যদিকে কলকাতায় পদযাত্রা করেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন, শুভেন্দু অধিকারী ও শমীক ভট্টাচার্য।
জানা যায়, সোমবার (২ নভেম্বর) হায়দরাবাদে পৌঁছান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেখানে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার রোড শো করার পর সমাবেশে ভাষণ দেন তিনি। বক্তব্যে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশের বিষয়টি তুলে ধরে ইন্ডিয়া জোটের নেতা রাহুল গান্ধী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একযোগে নিশানা করেন শাহ।
রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি। অমিত শাহ বলেন, "বছরে মাত্র তিন-চার মাস ভারতে থেকে, তারপর বিদেশে চলে গেলে নির্বাচনে জেতার আশা করা যায় না। রাহুলের উচিত আরও বেশি সময় দেশে থাকা, সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং তাদের সমস্যার সমাধানে কাজ করা।"
এসআইআর নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "পুরো কংগ্রেস এবং তাদের সহযোগী দলগুলো এসআইআর বন্ধ করার চেষ্টা করছে। কারণ, এই অনুপ্রবেশকারীরাই তাদের ভোটব্যাংক। কিন্তু ভারতীয় জনতা পার্টির কর্মীরা দৃঢ়ভাবে এসআইআরের পাশে রয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, দেশের ভোটাধিকার শুধু ভারতীয় নাগরিকদেরই থাকা উচিত। রাহুল গান্ধী ও তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা চালিয়ে যেতে পারেন। তবে বিজেপি নিশ্চিত করবে, ভোটার তালিকা থেকে অনুপ্রবেশকারীদের নাম বাদ দেওয়া হবে এবং তাদের দেশ থেকে বিতাড়িত করা হবে।
একইভাবে কলকাতায় কলেজ স্ট্রিট থেকে 'গণতন্ত্র বাঁচাও' স্লোগান দিয়ে পদযাত্রা শুরু করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। জাতীয় পতাকা কাঁধে নিয়ে প্রায় চার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে ধর্মতলায় গিয়ে পদযাত্রা শেষ করেন তারা।
কলকাতাতেও বাংলাদেশি অনুপ্রবেশের প্রসঙ্গ তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র সমালোচনা করেন নীতিন নবীন। 'গণতন্ত্র বাঁচাও' ও 'অরাজকতা হটাও' স্লোগান তুলে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এসআইআর সম্পন্ন করার ওপর জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পদযাত্রা শেষে জনসভায় সভাপতিত্ব করেন বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
জনসভায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে শুভেন্দু বলেন, "দুর্নীতি থেকে বাঁচার জন্য, জেলে যাওয়া থেকে বাঁচার জন্য, পরিবারকে টিকিয়ে রাখার জন্য, আর তোষণের রাজনীতিকে ফিরিয়ে আনার জন্য যারা এক হয়েছে, তাদের বলে রাখি, ভারতীয় জনতা পার্টি ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গে ২ কোটি ৯২ লাখ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছে। আর এসআইআর মানে, অনুপ্রবেশকারী হঠাও, ভারত বাঁচাও। তাই আজকে এরা অরাজকতা তৈরি করতে চাইছে।"
শুভেন্দু আরও বলেন, "দিমাগি নকশাল, জেহাদি, জঙ্গি, মাওবাদী, পরিবারবাদী, ভ্রষ্টাচারী—এসবকে উপড়ে ফেলার কাজ আমাদের করতে হবে। আরশোলা, ছারপোকা, টুকরে টুকরে গ্যাং থেকে সাবধান থাকবেন।"
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের পর আগামী মাসেই কলকাতা ও হাওড়াসহ পাঁচটি করপোরেশনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তার আগে কর্মীদের চাঙা করতে এবং দেশজুড়ে বিরোধীদের মোদিবিরোধী আন্দোলনের পাল্টা চাপ তৈরি করতে বিজেপি এই সমাবেশ ও পদযাত্রার আয়োজন করেছে বলে ধারণা রাজনৈতিক মহলের।
মন্তব্য (0)
আপনার মন্তব্য লিখুন
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!