স্কটল্যান্ডের ডান্ডি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য ক্লাসে ফেরার খবরটি স্বস্তির। কিন্তু সেই স্বস্তির আড়ালে একটি বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে: বাধ্যতামূলক চাকরিচ্যুতির পরিকল্পনা কি সত্যিই বদলাবে? টানা পাঁচ সপ্তাহের শ্রমবিরতির পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চাকরিচ্যুতি প্রক্রিয়ার পরের ধাপ দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছে। ইউনিয়ন শেষ দিনের ধর্মঘট বাতিল করেছে। এই বিরতি আলোচনা করার সুযোগ দিয়েছে, চূড়ান্ত সমাধান নয়। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, কর্মীদের ভবিষ্যৎ এবং প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা—তিনটি বিষয়ই এখন একই আলোচনার টেবিলে।
টাইমস হায়ার এডুকেশনের ২৩ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন উপাচার্য অ্যাঞ্জেলা স্কট বাধ্যতামূলক চাকরিচ্যুতির প্রক্রিয়া সাময়িক থামানোর সিদ্ধান্ত নেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও ডান্ডি ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড কলেজ ইউনিয়ন, সংক্ষেপে ডিইউসিইউ, আরও আলোচনায় বসবে। ইউনিয়নের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রকাশিত বার্তায় বলা হয়েছে, ২৩ অক্টোবরের ধর্মঘট স্থগিত হয়েছে এবং সাধারণ নিয়মে ক্লাস হওয়ার কথা; নির্দিষ্ট ক্লাসের সময় পরিবর্তন থাকলে আলাদা ঘোষণা দেখতে হবে। কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রক্রিয়া ৫ নভেম্বর পর্যন্ত থামানোর কথাও ইউনিয়ন জানিয়েছে।
সমস্যাটি হঠাৎ তৈরি হয়নি। টাইমস হায়ার এডুকেশন জানিয়েছে, আরও প্রায় ২০০ পদ কমানোর পরিকল্পনা ঘিরে প্রতিবাদ চলছিল। ইউনিয়নের হিসাবে, ২০২৪ সালে বড় আর্থিক ঘাটতির খবর সামনে আসার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি অনেক কর্মী হারিয়েছে। এই সংখ্যা ইউনিয়নের দাবি হিসেবে পড়া উচিত; একই প্রতিবেদনে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যালেঞ্জ হিসেবে আর্থিক টেকসই অবস্থায় ফেরার প্রয়োজনও তুলে ধরা হয়েছে। অর্থাৎ কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য খরচ ও ভবিষ্যৎ পরিচালনা সামলানো, আর ইউনিয়নের উদ্বেগ হলো কর্মী কমলে শিক্ষা ও সেবার মানে আরও চাপ পড়বে।
শিক্ষার্থীদের ওপর ধর্মঘটের সরাসরি প্রভাব বোঝা সহজ। পাঠদান বন্ধ বা পিছিয়ে গেলে কোর্সের গতি বদলায়, মূল্যায়নের পরিকল্পনা অনিশ্চিত হয়, আর বিদেশি শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও ভিসা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। ডান্ডির ছাত্রসংসদ পূর্বের নির্দেশনায় জানিয়েছিল, ধর্মঘটের কারণে ক্লাস বাতিল হলে সেটি উপস্থিতির রেকর্ডে শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে গণনা হওয়ার কথা নয়। তবে নির্দিষ্ট কোর্সে কীভাবে কাজ পুষিয়ে নেওয়া হবে, তা বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণার ওপর নির্ভর করে। তাই ধর্মঘট থামা মানেই হারানো পাঁচ সপ্তাহের সব একাডেমিক কাজ সঙ্গে সঙ্গে পূরণ হয়ে যাবে—এমন ধরে নেওয়া যায় না।
নতুন উপাচার্যের বক্তব্যে দুটি সীমা স্পষ্ট। তিনি কর্মী ও শিক্ষার্থীদের স্থিতি ফেরাতে একটি সমাধান খুঁজতে চান, কিন্তু অনিশ্চয়তা অনির্দিষ্টকাল চলতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক স্থায়িত্বের প্রয়োজনও আগের মতোই আছে। এই দুই বাক্য একসঙ্গে পড়লে বোঝা যায়, আলোচনায় চাকরিচ্যুতির সংখ্যা কমানো বা বিকল্প পথ খোঁজা হতে পারে, কিন্তু কর্তৃপক্ষ এখনই সব পরিকল্পনা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দেয়নি। ইউনিয়নও বিরতিকে ইতিবাচক বলেছে, তবে চাকরি হারানোর আশঙ্কা পুরোপুরি দূর হয়েছে বলে দাবি করেনি।
এখানে একটি বড় শিক্ষা হলো, বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক হিসাব শুধু প্রশাসনিক সংখ্যা নয়। একটি পদ বাদ গেলে গবেষণা, পাঠদান, গ্রন্থাগার, প্রযুক্তিসেবা বা শিক্ষার্থীদের সহায়তা—কোথাও তার প্রভাব পড়তে পারে। আবার আয় ও ব্যয়ের সমস্যা অমীমাংসিত রেখে প্রতিষ্ঠান দীর্ঘমেয়াদে ভালো সেবা দিতে পারবে না। তাই আলোচনায় কোন কাজ অপরিহার্য, কোন খরচ কমানো সম্ভব, এবং কর্মীদের ওপর বোঝা কীভাবে কমানো যায়—এসব প্রশ্নের বাস্তব হিসাব প্রয়োজন।
পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ তারিখ ৫ নভেম্বর, যখন বর্তমান স্থগিতাদেশ শেষ হওয়ার কথা। তার আগে ইউনিয়ন ও কর্তৃপক্ষ আলোচনায় কী অগ্রগতি করে, সেটিই নির্ধারণ করবে সাময়িক বিরতি স্থায়ী সমাধানের দিকে গেল কি না। শিক্ষার্থীদের জন্য এখন সবচেয়ে কার্যকর পথ হলো নিজের কোর্সের হালনাগাদ বিজ্ঞপ্তি দেখা এবং বাতিল ক্লাস বা মূল্যায়ন নিয়ে বিভাগে প্রশ্ন করা। ডান্ডির ঘটনাটি দেখাচ্ছে, একটি ধর্মঘট শেষ হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরের সংকটের শেষ অধ্যায় তখনই লেখা হয় না।
বিশ্ববিদ্যালয়টি কী সিদ্ধান্ত নেয়, তা অন্য আর্থিক চাপে থাকা প্রতিষ্ঠানের জন্যও নজির হতে পারে। কর্মী প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার ফল, প্রস্তাবিত বিকল্প এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিকল্পনা প্রকাশ্যে পরিষ্কার হলে সবাই পরিস্থিতি ভালোভাবে বুঝতে পারবেন।
মন্তব্য (0)
আপনার মন্তব্য লিখুন
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!