ভারতের কর্ণাটক রাজ্য সরকারের সদর দপ্তর বিধান সৌধ বোমা বিস্ফোরণে গুঁড়িয়ে দেওয়ার একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে তৈরি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে ভারতজুড়ে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) এনডিটিভির খবরে বলা হয়, ওই এআই ভিডিও বানানো ও অনলাইনে ছড়ানোর অভিযোগে ২৫ বছর বয়সী এক পরিযায়ী শ্রমিককে গ্রেপ্তার করেছে বেঙ্গালুরু পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম হযরত আলি। পুলিশের ভাষ্য, তিনি বিহারের বাসিন্দা এবং গত কয়েক মাস ধরে বেঙ্গালুরুতে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে পাইপ ফিটারের কাজ করছিলেন।
গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি ট্রিগার টানার ভঙ্গি করছেন। এরপর একটি বিস্ফোরণ ঘটে, যাতে বিধান সৌধ ভবনটি ধ্বংস হয়ে যেতে দেখা যায়। জেএনএক্স কিং এইচজি নামের একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি শেয়ার করা হয়েছিল। ক্যাপশনে ব্যবহারকারী দাবি করেন, তিনি ভবনটি উড়িয়ে দিয়েছেন।
ভুয়া ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বেশ কয়েকজন ব্যবহারকারী বেঙ্গালুরু পুলিশকে ট্যাগ করেন। এরই মধ্যে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে ওই ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টটি।
পুলিশ জানিয়েছে, বাস্তবে কোনো বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেনি এবং ভিডিওটি কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর এ ঘটনায় এফআইআর নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। ভিডিও তৈরির পেছনে অভিযুক্তের উদ্দেশ্য কী ছিল, তা জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে তদন্তকারীরা।
বিধান সৌধ একটি উচ্চনিরাপত্তাবেষ্টিত সরকারি ভবন। এখানে কর্ণাটক রাজ্যের আইনসভা অবস্থিত। কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার দৃশ্য দেখিয়ে এ ধরনের ভুয়া ভিডিও তৈরি ও ছড়িয়ে দিলে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হতে পারে এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার করে হুমকিমূলক বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়েও সতর্ক করেছে পুলিশ।
মন্তব্য (0)
আপনার মন্তব্য লিখুন
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!