উৎসবের রঙে সাজছে...
আন্তর্জাতিক

ইসরায়েলের সব সরকারের নীতিই এক, তবে কম ক্ষতিকর শাসককে দেখতে চান গাজাবাসী

ইসরায়েলের সব সরকারের নীতিই এক, তবে কম ক্ষতিকর শাসককে দেখতে চান গাজাবাসী
লেখা বড়/ছোট করুন:

যুদ্ধবিরতি চললেও গাজা উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চলে নিয়মিত ইসরায়েলি বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের নির্বাচনের ফলাফলের দিকে গভীর নজর রাখছেন খান ইউনিস শহরের বাসিন্দারা। তাদের আশা, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ছাড়া অন্য কেউ দেশটির পরবর্তী সরকার গঠন করবেন।

এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, খান ইউনিসের বাসিন্দা আইমান আহমেদ বলেন, "গাজা নিয়ে তাদের সবার নীতিই কঠোর। তবে আমরা দুটি মন্দের মধ্যে অপেক্ষাকৃত কম মন্দটিকে দেখতে চাই।" আহমেদ আশা করছেন, নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকট জয়ী হবেন। তিনি উল্লেখ করেন, গাজার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনার প্রতি তার সমর্থন রয়েছে।

ট্রাম্পের পরিকল্পনায় হামাসকে নিরস্ত্র করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনপুষ্ট নতুন সরকার প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইসরায়েলকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে এবং গাজায় পুনর্গঠন শুরুর সুযোগ দিতে হবে। গাজার ২০ লাখ মানুষের অধিকাংশই এখনও বাস্তুচ্যুত। তারা নিজেদের বোমায় বিধ্বস্ত বাড়িঘরের ধ্বংসস্তূপে অথবা অস্বাস্থ্যকর তাঁবুর শিবিরে বসবাস করছেন।

নেতানিয়াহু ট্রাম্পের পরিকল্পনায় সম্মতি দিয়েছিলেন। তবে হামাসের হাতে আটক সর্বশেষ জিম্মিদের ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে সেনাদের আংশিক প্রত্যাহার এবং মানবিক সহায়তা বাড়ানোর প্রাথমিক ধাপের বাইরে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করেননি তিনি। প্রায় এক বছর ধরে পরিকল্পনাটির অগ্রগতি কার্যত থমকে রয়েছে।

খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালের কাছের ধ্বংসস্তূপে ভরা সড়কে কথা বলেন মোহাম্মদ আবেদ। তার মতে, নেতানিয়াহু জয়ী হলে সেটিকে তার রাজনৈতিক এজেন্ডার বিজয় হিসেবে দেখা হবে। তবে ক্ষমতায় যেই আসুন না কেন, বড় ধরনের পরিবর্তন হবে বলে তিনি আশা করেন না।

আইজেনকট ইসরায়েলের সাবেক সেনাপ্রধান। দেশটির শত্রুদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষে তিনি। আবেদ বলেন, "আইজেনকট জয়ী হলেও পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তন হবে না। কারণ, তাদের নীতিগুলো প্রায় একই রকম। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি একই থাকবে।"

আবেদের এই হতাশার মধ্যেই বুধবার (২৮ অক্টোবর) খান ইউনিসে দুটি হামলায় বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে নাসের হাসপাতালের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।

ইসরায়েলের নির্বাচনে ৮৫ শতাংশের বেশি ভোটগণনা শেষে এগিয়ে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট। তারা ৫৩টি আসন লাভ করেছে। অন্যদিকে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৪৮ আসন। আর ইতিহাস গড়া আরব দলগুলোর ঝুলিতে এসেছে ১৯ আসন। ফলাফল এখনো চূড়ান্ত না হলেও আসনসংখ্যায় বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।

ইসরায়েলের ১২০ আসনবিশিষ্ট নেসেটে অন্তত ৬১ আসন পেলে এককভাবে সরকার গঠন করার সুযোগ মেলে। তবে সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হওয়ার পথে নেতানিয়াহু ও আইজেনকটের জোট। তাই ক্ষমতায় যেতে হলে তাদের এখন আরব রাজনৈতিক দলগুলোর জোট জয়েন্ট লিস্ট এবং মনসুর আব্বাসের দল রা'আমের সঙ্গে জোট বাঁধতে হবে।

আপনার প্রতিক্রিয়া কেমন?

শেয়ার করুন:

মন্তব্য (0)

আপনার মন্তব্য লিখুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!