উৎসবের রঙে সাজছে...
অন্যান্য

গুলশানে রেস্টহাউজে ডিএনসির অভিযান, ২৪৪ লিটার অবৈধ মদ-বিয়ার জব্দ

গুলশানে রেস্টহাউজে ডিএনসির অভিযান, ২৪৪ লিটার অবৈধ মদ-বিয়ার জব্দ
লেখা বড়/ছোট করুন:

রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় ‘সেভেনটি এইট রেস্টহাউজ সোসাইটি’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে ২৪৪ লিটার বিদেশি মদ ও বিয়ার জব্দ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার মো. আতাউর রহমান শামীমকে (৪২) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মো. ওমর জামিল (৪৫) নামে আরেক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পলাতক মামলা করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে রাজধানীর গুলশান-২-এর ১০৪ নম্বর সড়কের ২৪ নম্বর বাসায় অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

ডিএনসি সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে কোনো বৈধ বার লাইসেন্স ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বিদেশি মদ মজুত এবং পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করা হচ্ছিল—এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২২৩ বোতলে মোট ১৭৭ লিটার বিদেশি মদ এবং ২০৯টি বোতল ও ক্যানসহ ৬৭ লিটার বিয়ার জব্দ করা হয়। সব মিলিয়ে জব্দ করা মদ ও বিয়ারের পরিমাণ ২৪৪ লিটার।

প্রাথমিক তদন্তের বরাতে ডিএনসি জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি ‘জার্মান ক্লাব’ নামে পরিচিত হলেও এর প্রকৃত নাম ‘সেভেনটি এইট রেস্টহাউজ সোসাইটি’। সেখানে ‘জার্মান ক্লাব’ নামে কোনো প্রকৃত বা বৈধ প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।

অভিযানকালে ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার আতাউর রহমান শামীমকে আটক করা হয়। পরে অবৈধভাবে বিক্রির উদ্দেশ্যে মদ মজুত ও সংরক্ষণের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জব্দ করা মদ ও বিয়ারের বৈধতার সপক্ষে তিনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারেননি বলে জানিয়েছে ডিএনসি।

ডিএনসির প্রাথমিক অনুসন্ধান অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটিতে টিকিট বিক্রির মাধ্যমে ডিজে পার্টির আয়োজন করা হতো। এসব অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের কাছে অবৈধভাবে বিদেশি মদ, বিয়ারসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক সরবরাহ করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ওমর জামিলের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে অভিযানকালে তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। এ কারণে তার বিরুদ্ধে পলাতক মামলা করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতেও অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।

ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক জাহিদ হোসেন মোল্লার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ডিএনসির প্রধান কার্যালয়, ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয় এবং ঢাকা মেট্রো উত্তর ও দক্ষিণ কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার আতাউর রহমান শামীম, পলাতক ওমর জামিল এবং অজ্ঞাতনামা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারার সারণি ২৪(গ) ও ৪১ ধারায় গুলশান থানায় মামলা করা হয়েছে।

জব্দ করা আলামত ও রাসায়নিক পরীক্ষার নমুনা ডিএনসির হেফাজতে রয়েছে। পলাতক ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ‘জার্মান ক্লাব’ পরিচয়ের আড়ালে পরিচালিত কার্যক্রমের প্রকৃত চিত্র উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

ডিএনসি জানিয়েছে, অবৈধ মাদকদ্রব্যের মজুত, বিক্রি ও সরবরাহ বন্ধে নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হচ্ছে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।


আপনার প্রতিক্রিয়া কেমন?

শেয়ার করুন:

মন্তব্য (0)

আপনার মন্তব্য লিখুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!