ইসরায়েলের নির্বাচনে নাটকীয় মোড়ের আভাস! বুথফেরত জরিপে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট ও বিরোধী জোট সমানসংখ্যক আসন পেতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। অন্যদিকে রেকর্ডসংখ্যক ফিলিস্তিনি ভোটারের অংশগ্রহণের মধ্যে আরব দলগুলো পেতে পারে ১৮টি আসন।
ফলে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে না পারলে ইসরায়েলের ক্ষমতার সমীকরণ বদলে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে আরব দলগুলো।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে আরব দলগুলো ১৮টি আসন পেতে পারে বলে বুথফেরত জরিপে আভাস পাওয়া গেছে। কয়েক দশকের মধ্যে এবারই ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি দেখা গেছে।
মঙ্গলবারের (২৭ অক্টোবর) ভোটের পর প্রকাশিত বুথফেরত জরিপের তথ্য অনুযায়ী, আরবদের নেতৃত্বাধীন প্রধান দুই দল জয়েন্ট লিস্ট ও রা'আম ১২০ আসনের নেসেটে (ইসরায়েলি পার্লামেন্ট) রেকর্ডসংখ্যক আসন পেতে যাচ্ছে।
সংশোধিত বুথফেরত জরিপে দেখা গেছে, সাবেক ইসরায়েলি সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের ইয়াশার পার্টির নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট—দুই পক্ষই ৫১টি করে আসন পেতে পারে।
ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ মঙ্গলবার জানিয়েছে, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের মধ্যে ভোটার উপস্থিতি প্রায় ৮০ শতাংশে পৌঁছেছে। ১৯৯৯ সালের রেকর্ড ছাড়িয়ে এই হার কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ।
ইউনাইটেড আরব লিস্ট বা রা'আমের নেতা মানসুর আব্বাস আশা প্রকাশ করেছেন, চূড়ান্ত ফলাফলে তার দলসহ নেতানিয়াহুবিরোধী জোট সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন পাবে।
ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-কে আব্বাস বলেন, "এখন আমাদের হাতে যে হিসাব রয়েছে, তাতে কোনো সরকার গঠন সম্ভব নয়।"
বর্তমানে নেসেটে রা'আমের পাঁচটি আসন রয়েছে। ২০২১ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলে ক্ষমতায় থাকা জোট সরকারেও দলটি অংশ নিয়েছিল। আব্বাস আরও বলেন, নির্বাচনের আগে ও পরে—দুই সময়েই প্রধান দুই জোট তার দলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
ইসরায়েলের সাবেক রাষ্ট্রদূত অ্যালন পিঙ্কাস আল জাজিরাকে বলেন, আইজেনকটের মতো দলগুলোর জন্য সরকার গঠন কঠিন হতে পারে। নির্বাচনের আগে তারা আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। অথচ আগের বুথফেরত জরিপগুলোতে আইজেনকটের জোট সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে ছিল।
পিঙ্কাস বলেন, "এর একটা মূল্য দিতে হবে।" তার মতে, "আরবদের বাইরে রাখা যাবে না, আবার শুধু ভোটের প্রয়োজন হলেই তাদের বিবেচনায় নেওয়া বা দলে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করাও ঠিক নয়।"
তিনি আরও বলেন, আরবদের নেতৃত্বাধীন দলগুলো সরকার গঠনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দাবি তুলবে, যা ইহুদিদের নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের পক্ষে মেনে নেওয়া কঠিন হতে পারে।
এদিকে সামগ্রিক ভোটার উপস্থিতির ক্ষেত্রেও এবারের নির্বাচন রেকর্ড গড়েছে। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবারের নির্বাচনে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন, যা ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ।
ইসরায়েলের এক কোটি জনসংখ্যার প্রায় ২১ শতাংশ ফিলিস্তিনি নাগরিক। ঐতিহাসিকভাবে ইহুদি ইসরায়েলিদের তুলনায় তাদের ভোট দেওয়ার হার কম থাকে।
অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লা থেকে আল জাজিরার নুর ওদেহ এই নির্বাচনকে "ইসরায়েলি ফিলিস্তিনিদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার মুহূর্ত" বলে অভিহিত করেন।
তিনি বলেন, ভোটারদের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উঠে আসা এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে এবার রেকর্ডসংখ্যক মানুষ ভোট দিয়েছেন। তাদের মধ্যে এমন ভোটারও রয়েছেন, যারা সাধারণত নির্বাচন বর্জন করেন। আগে তাদের ধারণা ছিল, ভোট দিয়ে কোনো প্রভাব তৈরি করা সম্ভব নয়, তাদের বাস্তবতার পরিবর্তন হবে না কিংবা তাদের প্রতি প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য কমবে না।
নুর ওদেহ বলেন, ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেট ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রতি বৈষম্যমূলক ১০০টিরও বেশি আইন পাস করেছে। রাষ্ট্রীয় তহবিল পাওয়ার ক্ষেত্রেও তারা বৈষম্যের শিকার হন।
মন্তব্য (0)
আপনার মন্তব্য লিখুন
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!