ভারতের নয়াদিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনরত সর্বভারতীয় ছাত্র সংগঠন এআইএসএর সভাপতি নেহা বোরা বলেছেন, শান্তি বজায় রাখার মুচলেকায় তিনি সই করবেন না। তার মতে, এ ধরনের মুচলেকা গণতান্ত্রিকভাবে ভিন্নমত প্রকাশের অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। খবর দ্য ওয়্যারের।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এর এক দিন আগে দিল্লি হাইকোর্ট নেহার করা আবেদন খারিজ করে দেন। ওই আবেদনে দিল্লি পুলিশের দেওয়া শান্তি বজায় রাখার মুচলেকার নোটিশকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল।
পুলিশের নোটিশে তদন্ত চলাকালে শান্তি বজায় রাখার শর্তে ১০ হাজার রুপির বন্ডের সঙ্গে একজন জামিনদার রাখার কথা বলা হয়েছে। গত ১৭ অক্টোবর নেহাকে এই নোটিশ দেওয়া হয়। এর আগের দিন রাজধানীতে 'তিরঙ্গা মিছিল' চলাকালে তাকে আটক করেছিল পুলিশ।
নেহা ও তার সংগঠন নির্বাচন কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে আন্দোলন করছে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগও তুলেছে তারা।
সংবাদ সম্মেলনে নেহা প্রশ্ন তোলেন, সরকারের কাছে প্রশ্ন না করলে কাদের শান্তি বজায় রাখা হচ্ছে? তার বক্তব্য, গণতান্ত্রিক প্রতিবাদকে শান্তি ভঙ্গের শামিল হিসেবে দেখানো উচিত নয়।
তিনি বলেন, আদালতে তারা এই মুচলেকার প্রয়োগ ও ব্যাখ্যার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবেন। বর্তমান ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এআইএসএ বা তিনি কেউই এতে সই করবেন না।
পরে মন্দির মার্গ থানায় গিয়ে নেহা অভিযোগ করেন, সেখানে ৫০ থেকে ৬০ জন ডানপন্থী ব্যক্তি জড়ো হয়ে তার বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছিলেন। তার দাবি, পুলিশ তাদের সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেয়নি। অথচ নির্বাচন কমিশনের প্রধানের বিরুদ্ধে স্লোগান দিলেই সাধারণ মানুষের প্রতিবাদকে শান্তি ভঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
নেহার বক্তব্য, এ ধরনের দ্বৈত আচরণ গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে।
মন্তব্য (0)
আপনার মন্তব্য লিখুন
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!