উৎসবের রঙে সাজছে...
আন্তর্জাতিক

১৮টি তদন্ত বন্ধ, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়কে কী মানতে হলো? নর্থ ক্যারোলিনার চুক্তির ভেতরে

১৮টি তদন্ত বন্ধ, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়কে কী মানতে হলো?  নর্থ ক্যারোলিনার চুক্তির ভেতরে
লেখা বড়/ছোট করুন:

 যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে একসঙ্গে ১৮টি ফেডারেল তদন্ত বন্ধ হচ্ছে—শিরোনামটি শুনে অনেকে হয়তো ভাববেন, সব অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত বা পুরোপুরি ভুল প্রমাণিত হয়েছে। বাস্তব চিত্র আরও জটিল। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ১৯ অক্টোবর জানিয়েছে, ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলাইনা অ্যাট চ্যাপেল হিলের সঙ্গে একটি স্বেচ্ছাসম্মত সমঝোতা হয়েছে। এর ফলে শিক্ষা বিভাগের নাগরিক অধিকার দপ্তর ১৮টি সক্রিয় তদন্ত বন্ধ করবে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়কে ভর্তি, অভিযোগের তদন্ত ও ক্যাম্পাস পরিচালনায় একাধিক নতুন শর্ত মেনে চলতে হবে।

সমঝোতার বিষয় ছিল জাতিগত বৈষম্য ও ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ। সরকার বলছে, ফেডারেল অর্থ পাওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সবাইকে সমানভাবে দেখার আইনি দায়িত্ব আছে। বিশ্ববিদ্যালয় চুক্তিতে সম্মত হলেও রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোনো অন্যায় বা আইনি দায় স্বীকার করেনি। চুক্তিতে আর্থিক জরিমানাও নেই এবং প্রতিষ্ঠানটি ফেডারেল অর্থের যোগ্যতা বজায় রাখছে। তাই ‘তদন্ত শেষ’ কথাটি দিয়ে বিচারিক রায় কিংবা দোষ স্বীকার বোঝানো যাবে না। এটি নির্দিষ্ট নিয়ম বাস্তবায়নের বিনিময়ে অনুসন্ধান সমাপ্ত করার ব্যবস্থা।

চুক্তির একটি অংশ ইহুদি ও ইসরায়েলি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বৈষম্য বা হয়রানির অভিযোগ সামলানো নিয়ে। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়কে এ বিষয়ে সমন্বয়কের পদ রাখতে, অভিযোগ দ্রুত যাচাই করতে এবং শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা দেওয়ার কথাও আছে। এসব দায়িত্বের উদ্দেশ্য নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা। তবে বাস্তবে অভিযোগ যাচাইয়ের পদ্ধতি কতটা নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ থাকে, সেটি ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের আস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।

ভর্তিনীতিতেও শর্ত রয়েছে। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় আবেদনকারীর জাতি ব্যবহার করে ভর্তি সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না; বৃত্তি ও শিক্ষার্থীদের সুবিধা বণ্টনেও জাতিগত ভিত্তি ব্যবহার করা যাবে না। রয়টার্সের প্রতিবেদনে চুক্তির আরেকটি সূক্ষ্ম দিক এসেছে: আবেদনকারী নিজের জীবনে দারিদ্র্য বা বাধা অতিক্রমের অভিজ্ঞতা জানালে, নিয়ম সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ করে সেই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বিবেচনা করা সম্ভব। অর্থাৎ ব্যক্তিগত জীবনকাহিনি শোনা এবং কেবল জাতিগত পরিচয়কে সিদ্ধান্তের মাপকাঠি করা এক বিষয় নয়।

ক্যাম্পাসে প্রতিবাদের ক্ষেত্রেও নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, সমঝোতায় বিক্ষোভের সময় পরিচয় গোপন করে এমন মুখঢাকা নিষিদ্ধ করার বিধান আছে। সরকার নিরাপত্তা ও জবাবদিহির যুক্তি দিতে পারে; অন্যদিকে মতপ্রকাশ ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও উঠতে পারে। ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলন, ইহুদি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বক্তব্যের স্বাধীনতা—বিতর্কের এই ক্ষেত্রগুলো এক বাক্যে মেটানো যায় না। নির্দিষ্ট আচরণ বৈষম্যমূলক কি না, তা প্রমাণ ও নিয়ম অনুসারে বিচার করা জরুরি।

সমঝোতা বাস্তবায়ন দেখার জন্য একটি প্রশাসনিক দায়িত্বও নির্ধারিত হয়েছে। বিচার বিভাগের বিবৃতি অনুযায়ী, ত্রিশ দিনের মধ্যে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাছাই করতে হবে; প্রতি তিন মাসে বৈষম্য ও ইহুদিবিদ্বেষসংক্রান্ত অভিযোগের তথ্য সরকারকে দিতে হবে। চুক্তিটি ২০২৮ সালের শেষ পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা। এর মানে আজকের ঘোষণা শেষ নয়; পরবর্তী দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে নীতির ব্যবহার ও রিপোর্টিং পর্যবেক্ষণের সুযোগ থাকবে। কাগজে নিয়ম লেখা আর শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতায় নিরাপদ পরিবেশ পাওয়া একই কথা নয়।

বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারের সম্পর্ক নিয়ে এ ঘটনা বড় একটি বিতর্কের অংশ। প্রশাসন বলছে, নাগরিক অধিকার আইন কার্যকর করাই তার লক্ষ্য। সমালোচকেরা আশঙ্কা করেন, ফেডারেল তহবিল ও তদন্তের চাপ একাডেমিক স্বাধীনতা এবং প্রতিবাদের পরিসর সংকুচিত করতে পারে। দুই দাবির মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে প্রত্যেক অভিযোগ, চুক্তির ভাষা এবং বাস্তব প্রয়োগ আলাদা করে দেখতে হবে। কোনো শিক্ষার্থীর ধর্মীয় বা জাতিগত পরিচয়ের কারণে হয়রানি উপেক্ষা করা যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক মতকেও প্রমাণ ছাড়া বৈষম্য বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

এই সমঝোতার সবচেয়ে কৌতূহলোদ্দীপক প্রশ্ন তাই ১৮টি তদন্ত বন্ধ হওয়া নয়। নতুন নিয়ম শিক্ষার্থীদের ন্যায্যতা, নিরাপত্তা ও কথা বলার অধিকার একসঙ্গে কতটা রক্ষা করবে? সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় এখন নিজ নিজ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আগামী দিনের ভর্তি সিদ্ধান্ত, অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ সামলানোর বাস্তব চিত্রই জানাবে চুক্তিটি সমস্যার সমাধান করেছে, নাকি নতুন টানাপোড়েন তৈরি করেছে।

আপনার প্রতিক্রিয়া কেমন?

শেয়ার করুন:

মন্তব্য (0)

আপনার মন্তব্য লিখুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!