উৎসবের রঙে সাজছে...
আন্তর্জাতিক

রাশিয়া বলছে শান্তির কথা, পুতিনের মাথায় অন্য হিসাব

রাশিয়া বলছে শান্তির কথা, পুতিনের মাথায় অন্য হিসাব
লেখা বড়/ছোট করুন:

ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে শান্তি আলোচনার কথা বলছে রাশিয়া, তবে মস্কোর অবস্থান ও সাম্প্রতিক বক্তব্যে স্পষ্ট হচ্ছে—শান্তি নয়, বরং নিজেদের সামরিক ও কৌশলগত সুবিধা নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য।

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্গেই লাভরভ অক্টোবরে স্পষ্ট করে বলেছেন, ইউক্রেনে এমন কোনো যুদ্ধবিরতি মস্কো মেনে নেবে না, যা কিয়েভকে পুনরায় সংগঠিত হওয়ার ও অস্ত্র সংগ্রহের সুযোগ দেয়। আজারবাইজানের বাকুতে সিআইসিএ সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, পশ্চিমা গণমাধ্যমে যে শান্তি পরিকল্পনার কথা বলা হচ্ছে, সে বিষয়ে রাশিয়া কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পায়নি। তিনি পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমের ওই প্রতিবেদনগুলোকে ফাঁস ও গুজবের ওপর ভিত্তি করে তৈরি বলে অভিহিত করেন।

তবে কремলিনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আলোচনার প্রতি মস্কো নীতিগতভাবে открыт। কремলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ অক্টোবরের শুরুতে জানান, ইউক্রেন সংকট সমাধানে আলোচনা চালিয়ে যেতে রাশিয়া প্রস্তুত। তবে আলোচনা কখন শুরু হবে বা পক্ষগুলোর মধ্যে কী ধরনের যোগাযোগ চলছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

এর মধ্যে অক্টোবরের মাঝামাঝি একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ঘটে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সেন্ট পিটার্সবার্গে প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠক হয়। বৈঠকের পর পুতিনের সহকারী ইউরি উশাকভ জানান, মস্কো নীতিগতভাবে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র-ইউক্রেনের ত্রিপক্ষীয় আলোচনা পুনরায় শুরুর জন্য প্রস্তুত। আলোচনার মূল বিষয় হবে সংঘাত-পরবর্তী সময়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনের জন্য একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

উশাকভের বরাত দিয়ে জানানো হয়, উইটকফ বলেছেন, ট্রাম্প এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানাবেন। তবে আলোচনা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। রুশ সংবাদমাধ্যমের খবরে আরও বলা হয়েছে, পুতিন চীনে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তাবও দিয়েছেন।

এদিকে লাভরভ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সমালোচনা করে বলেছেন, তিনি ডিজেল সংক্রান্ত একটি চুক্তি বারবার প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং এর বদলে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র চেয়েছেন, যাতে রাশিয়ার জ্বালানি খাত, বিশেষ করে তেল শোধনাগারগুলোতে হামলা চালানো যায়। লাভরভের অভিযোগ, জেলেনস্কি দীর্ঘদিন ধরে ইউক্রেনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনে আগ্রহ দেখাননি।

সামগ্রিকভাবে, রাশিয়ার বক্তব্যে শান্তির কথা থাকলেও শর্ত ও সামরিক বাস্তবতা বিবেচনায় তাদের অবস্থান কঠোরই রয়েছে। যুদ্ধবিরতির চেয়ে নিজেদের নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থ নিশ্চিত করাই মস্কোর প্রধান বিবেচনা বলে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।


আপনার প্রতিক্রিয়া কেমন?

শেয়ার করুন:

মন্তব্য (0)

আপনার মন্তব্য লিখুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!