উৎসবের রঙে সাজছে...
আন্তর্জাতিক

তুরস্কে সিরিয়া-হিজবুল্লাহর গোপন বৈঠকের দাবি, অস্বীকার আঙ্কারা-দামেস্কের

তুরস্কে সিরিয়া-হিজবুল্লাহর গোপন বৈঠকের দাবি, অস্বীকার আঙ্কারা-দামেস্কের
লেখা বড়/ছোট করুন:

তুরস্কে সিরিয়া সরকারের কর্মকর্তা ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিদের মধ্যে গোপন বৈঠক হয়েছে বলে সূত্রের বরাতে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। দীর্ঘদিন ধরে চলা দুই প্রতিপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা হিসেবে এই বৈঠক হয়েছে বলে ছয়টি সূত্র জানিয়েছে। তবে রয়টার্সের প্রতিবেদন প্রকাশের পর তুরস্ক ও সিরিয়া—দুই দেশই এমন বৈঠকের খবর অস্বীকার করেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসে অন্তত একবার গোপনে মুখোমুখি বৈঠকে বসেন সিরিয়ার কর্মকর্তা ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিরা। সূত্রগুলোর মধ্যে রয়েছেন দুই সিরীয় কর্মকর্তা, এক মার্কিন কর্মকর্তা এবং হিজবুল্লাহর ঘনিষ্ঠ লেবাননের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা।

তুরস্কের প্রেসিডেন্টের যোগাযোগ অধিদপ্তর এক বিবৃতিতে রয়টার্সের প্রতিবেদনকে 'সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন' বলে অভিহিত করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে তারা জানায়, বৈঠকের তারিখ, স্থান, বিষয়বস্তু ও যোগাযোগ নিয়ে এসব পোস্টে যে দাবি করা হয়েছে, তার কোনো বাস্তবতা নেই এবং এগুলো পুরোপুরি মনগড়া ও অনুমাননির্ভর। সিরিয়া সরকারের ইংরেজি ভাষার এক্স অ্যাকাউন্ট থেকেও এমন বৈঠকের খবর অস্বীকার করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, 'এসব দাবি মিথ্যা।'

উত্তেজনা কমাতে বৈঠক?

হিজবুল্লাহ বহু বছর ধরে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকারকে সমর্থন দিয়ে দেশটিতে যোদ্ধা পাঠিয়েছে। ২০২৪ সালের শেষ দিকে বিদ্রোহীদের আকস্মিক অভিযানে আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সিরিয়ার নতুন সরকার ও হিজবুল্লাহর মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে। দামেস্কের অভিযোগ, সিরিয়ার ভেতর দিয়ে অস্ত্র পাচার করছে গোষ্ঠীটি। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার সামরিক বাহিনীকে লেবাননে সেনা পাঠিয়ে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য উৎসাহ করে আসছে।

ছয়টি সূত্রের দাবি, উত্তেজনা কমাতে তুরস্কের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার আমন্ত্রণে গত মাসে ওই বৈঠক হয়। এতে হিজবুল্লাহর প্রতিনিধি ছাড়াও সিরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন। বৈঠক নিয়ে কথা বলা সব সূত্রই নাম প্রকাশ না করার শর্তে রয়টার্সকে তথ্য দিয়েছে।

তবে সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, তুরস্কের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বৈঠক নিয়ে রয়টার্সের প্রশ্নের জবাব দেয়নি। হিজবুল্লাহর গণমাধ্যম কার্যালয়ও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

নিরাপত্তা নিয়ে কী আলোচনা

মার্কিন কর্মকর্তা, সিরিয়ার দুই কর্মকর্তা এবং লেবাননের সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, বৈঠকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার বিষয়গুলো সমাধানের দিকে জোর দেওয়া হয় এবং বৈঠকটি ভালোভাবেই এগোয়। এক সিরীয় কর্মকর্তা জানান, উভয় পক্ষই একে অপরের প্রতি কোনো শত্রুতা নেই বলে সম্মত হয়। সিরিয়া হিজবুল্লাহকে এও আশ্বস্ত করে যে, গোষ্ঠীটিকে নিরস্ত্র করতে তারা লেবাননে সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করবে না।

এর বিনিময়ে সিরিয়ার কর্মকর্তারা হিজবুল্লাহকে সীমান্তপারের অস্ত্র চোরাচালান বন্ধে এবং সিরিয়ায় থাকা তাদের অবশিষ্ট স্লিপার সেলগুলো, বিশেষ করে দক্ষিণ সিরিয়ায়, ভেঙে দিতে সহায়তা করার অনুরোধ করেন। বৈঠক ও এর ফলাফল সম্পর্কে সরাসরি জানেন এমন লেবাননের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, 'দুই পক্ষ নিরাপত্তা ইস্যুতে অনেক এগিয়েছে।'

তিনি বলেন, 'হিজবুল্লাহ তাদ পার্শ্বভাগ সুরক্ষিত রাখতে চায়।' তার এই বক্তব্যের অর্থ, লেবাননের ভেতরে সিরিয়া হিজবুল্লাহর ওপর হামলা চালাতে পারে—এমন আশঙ্কা রয়েছে গোষ্ঠীটির। সিরিয়ার ওই কর্মকর্তা ও লেবাননের সূত্র—দুজনই জানিয়েছেন, কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি এবং এ নিয়ে কোনো ঘোষণা দেওয়ার পরিকল্পনাও ছিল না।

লেবাননের ওই সূত্র রয়টার্সকে আরও জানায়, তুরস্কের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ শুরু হয়েছিল প্রায় দুই মাস আগে। তবে সেপ্টেম্বরে তুরস্কে ঠিক কোথায় বৈঠকটি হয়েছিল, কতক্ষণ চলেছিল এবং এর আগে বা পরে আরও কোনো বৈঠক হয়েছে কি না—তা নিশ্চিত করতে পারেনি রয়টার্স।

বৈঠকের উদ্যোগ তুরস্কের, ছিল না ইরান

হিজবুল্লাহ ও সিরিয়া সরকার—দুই পক্ষই একে অপরের সঙ্গে আলোচনায় বসার ব্যাপারে আগ্রহের ইঙ্গিত দিয়েছিল। জুলাইয়ে সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসআদ আল-শিবানি জানিয়েছিলেন, দামেস্ক হিজবুল্লাহর সঙ্গে বৈঠকে বসতে প্রস্তুত। এক মাস পর টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে হিজবুল্লাহর প্রধান নাঈম কাসেমও সিরিয়ার নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে আপত্তি নেই বলে জানান।

সিরিয়া পুনর্গঠন ও স্থিতিশীল করার ক্ষেত্রে তুরস্ক নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক পক্ষ হিসেবে তুলে ধরছে। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের নেতৃত্বে দেশটি আঞ্চলিক আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা করছে এবং অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বাড়াতে আগ্রহী।

তিনটি সূত্র জানিয়েছে, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার গুরুত্বপূর্ণ মিত্র তুরস্কই বৈঠকটি আয়োজনের উদ্যোগ নেয়। কারণ এ ধরনের প্রচেষ্টায় তুরস্ক সরাসরি যুক্ত থাকতে চেয়েছিল। তবে বৈঠকে হিজবুল্লাহর প্রধান পৃষ্ঠপোষক ইরান উপস্থিত ছিল না।

লেবাননের ওই নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, ইরানের জ্ঞাতসারেই হিজবুল্লাহ বৈঠকে অংশ নেয়। তবে তেহরান অসন্তুষ্ট ছিল, কারণ তারা সরাসরি বৈঠকে অংশ নিতে পারেনি এবং সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট শারা আপাতত ইরানের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক গড়ার ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছেন।


আপনার প্রতিক্রিয়া কেমন?

শেয়ার করুন:

মন্তব্য (0)

আপনার মন্তব্য লিখুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!