সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তিন বছর আগে আটক হয়েছিলেন দুই বাংলাদেশি। একজনের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ আইনে আটকের তথ্য রয়েছে। অন্যজন আটক হয়েছিলেন ব্যভিচারের অভিযোগে। কিন্তু তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, মক্কার একটি মসজিদে 'অনৈতিক কর্মকাণ্ডের' দায়ে তাদের দণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের পাঠানো একটি গোপনীয় স্মারকে উঠে এসেছে এই দুই বাংলাদেশির আটকের তথ্য। ১৮ অক্টোবর প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে পাঠানো স্মারকটি একাধিক সংবাদমাধ্যম সংগ্রহ করেছে।
স্মারক অনুযায়ী, নজরুল ইসলাম আবদুল বাসিরকে ২০২৩ সালের ১ আগস্ট সৌদি আরবের সাইবার অপরাধ আইনে আটক করা হয়। পরদিন সুইটি বা সুয়েতি আখতারকে ব্যভিচারের অভিযোগে আটক করা হয়েছিল। নজরুল ছিলেন জেদ্দা সংশোধনাগারে, আর সুইটি ছিলেন জেদ্দার নারী কারাগারে। দুজনই আল মাজাল কোম্পানিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন।
কনস্যুলেট ৩০ সেপ্টেম্বর সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বন্দিদের যে তালিকা পেয়েছিল, তাতে এই দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের কোনো উল্লেখ ছিল না। তালিকায় ৯৭ জন বন্দির অপরাধের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলেও এই দুজনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ঘরে কোনো বিবরণ ছিল না।
অন্যদিকে, সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘোষণা দিয়ে জানায়, মক্কার একটি মসজিদে 'অনৈতিক কর্মকাণ্ডের' দায়ে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল।
তবে আগে নথিভুক্ত অভিযোগের সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কারণের সম্পর্ক কী, তা কনস্যুলেটের স্মারকে ব্যাখ্যা করা হয়নি। তাদের বিচার, আইনজীবী পাওয়ার সুযোগ কিংবা আপিলের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যও নথিতে নেই।
কনস্যুলেট জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ডের রায় ও তা কার্যকরের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেটকে আগে থেকে জানায়নি। রায়ের অনুলিপি ও বিচারপ্রক্রিয়ার বিস্তারিত জানতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় কূটনৈতিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। রায় হাতে পাওয়ার পর আরও প্রতিবেদন পাঠানো হবে বলে স্মারকে উল্লেখ করা হয়েছে।
মন্তব্য (0)
আপনার মন্তব্য লিখুন
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!