উৎসবের রঙে সাজছে...
আন্তর্জাতিক

আগাম বিশ্ববিদ্যালয় আবেদনে তরুণ কম, ১৯ বছর বয়সীরা বেশি—যুক্তরাজ্যের নতুন সংখ্যায় কী ঘটছে?

আগাম বিশ্ববিদ্যালয় আবেদনে তরুণ কম, ১৯ বছর বয়সীরা বেশি—যুক্তরাজ্যের নতুন সংখ্যায় কী ঘটছে?
লেখা বড়/ছোট করুন:

যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্সে আবেদনের প্রথম হিসাব কমেছে। ভর্তি সংস্থা ইউকাস ২৯ অক্টোবর জানিয়েছে, ১৫ অক্টোবরের আগাম সময়সীমার মধ্যে আবেদন করা দেশটির ১৮ বছর বয়সী তরুণের সংখ্যা ৩৯ হাজার ২০ জন। আগের বছরে একই বয়সের আবেদনকারী ছিলেন ৪১ হাজার ১০ জন; অর্থাৎ ৪ দশমিক ৯ শতাংশ কম। সংখ্যাটি অক্সফোর্ড-কেমব্রিজে আগ্রহ কমার সরল প্রমাণ নয়। কারণ এই সময়সীমায় চিকিৎসা, দন্তচিকিৎসা ও পশুচিকিৎসার আবেদনও পড়ে। আরও বড় প্রশ্ন হলো, কমার মধ্যেই কেন ১৯ বছর বয়সী আবেদনকারী বাড়ছেন।

ইউকাসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯ বছর বয়সী ব্রিটিশ আবেদনকারী এবার ৬ হাজার ৮৮০ জন, গত বছর ছিলেন ৫ হাজার ৯২০ জন। বৃদ্ধি প্রায় ১৬ শতাংশ। ফলে প্রথমবার আবেদন করা স্কুলছাত্রের সংখ্যা কমলেও এক বছর পরে চেষ্টা করা তরুণের সংখ্যা বেড়েছে। কেন এমন হচ্ছে, তার চূড়ান্ত কারণ এই প্রাথমিক তথ্য থেকে জানা যায় না। কেউ আবার আবেদন করছেন, কেউ হয়তো পড়াশোনা বা কাজের জন্য বিরতি নিয়েছিলেন। ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের পেছনে অর্থনীতি, আত্মবিশ্বাস এবং প্রস্তুতির মতো নানা বিষয় থাকতে পারে।

চিকিৎসাশিক্ষার হিসাব এই উল্টো স্রোত আরও স্পষ্ট করে। সব বয়স ও সব দেশের আবেদনকারী মিলিয়ে মেডিসিনে আবেদন ২৫ হাজার ৮৪০, গত বছরের ২৫ হাজার ৭৭০ থেকে সামান্য বেশি। আবার মেডিসিনে পুনরায় আবেদনকারীর সংখ্যা ৩ হাজার ৩৮০ থেকে ৪ হাজার ৪২০ হয়েছে। এদের বড় অংশ ১৯ বছর বয়সী। তাই ‘চিকিৎসা পড়তে কেউ আগ্রহী নয়’ বলা তথ্যবিরুদ্ধ। সামগ্রিক কমার পাশে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ভিন্ন গতিও চলছে। ভর্তি নীতি নিয়ে আলোচনা করতে এই পার্থক্য জরুরি।

মোট আগাম আবেদনকারীর সংখ্যা, সব বয়স ও সব দেশের মানুষ মিলে, এবার ৭৬ হাজার ৬০০। গত বছর ছিল ৭৯ হাজার ১৬০; কমেছে ৩ দশমিক ২ শতাংশ। কিন্তু এগুলো পুরো ২০২৭ সালের বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির চূড়ান্ত সংখ্যা নয়। ১৫ অক্টোবরের সময়সীমা কেবল কিছু বিশেষ কোর্স এবং অক্সফোর্ড-কেমব্রিজের জন্য। অধিকাংশ অন্য কোর্সে সমান বিবেচনার মূল সময়সীমা ২০২৭ সালের ১৩ জানুয়ারি। ফলে এখনকার তথ্য দিয়ে আগামী শিক্ষাবর্ষে মোট কতজন বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবেন, তা বলা সম্ভব নয়।

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর আবেদনও নজর কাড়ছে। ইউকাসের মাধ্যমে আগাম আবেদন করা বিদেশি স্নাতকপ্রার্থীর সংখ্যা ২৪ হাজার ৩৫০ থেকে ২২ হাজার ৫৬০-তে নেমেছে, হ্রাস ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। চীন এখনো সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক উৎস, কিন্তু সেখানকার আবেদনকারী আগের বছরের তুলনায় ৫২০ কমে ৫ হাজার ২৩০। যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুর থেকেও সংখ্যা কমেছে। তবে বিদেশি শিক্ষার্থী অনেকে সরাসরি বা অন্য পথে আবেদন করেন; ইউকাসের এই আগাম তথ্যকে সব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর মোট অবস্থার প্রতীক ভাবা ঠিক হবে না।

টাইমস হায়ার এডুকেশনের প্রতিবেদনে সংখ্যাগুলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য উদ্বেগের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়েছে। ব্রিটেনে বিদেশি শিক্ষার্থী নীতি, ভিসা নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং খরচের আলোচনা চলছে। কিন্তু এক বছরের আবেদন হ্রাসকে একটিমাত্র নীতির ফল বলে প্রমাণ করা যায় না। কারণ আবেদনকারীর বয়স, দেশ, কোর্স ও অর্থনৈতিক অবস্থার ভিন্নতা আছে। ভবিষ্যৎ মাসগুলোর তথ্য না দেখে কারণ নির্ধারণ করলে বিভ্রান্তি বাড়বে। বিশেষত গত বছর রেকর্ড উচ্চ সংখ্যা ছিল, তাই তুলনার ভিত্তিও অস্বাভাবিক উঁচু।

সামাজিক বৈষম্যের দিকটি আরও গভীর। ইউকাস জানিয়েছে, সবচেয়ে বঞ্চিত এলাকার আবেদনকারীর সংখ্যা উত্তর আয়ারল্যান্ড ছাড়া যুক্তরাজ্যের অন্য অংশে কমেছে। ইংল্যান্ডে দুই নিম্ন আয়ের এলাকার গোষ্ঠী মিলিয়ে আবেদনকারী ১৫ হাজার ৭৩০, গত বছরের চেয়ে ৩৫০ কম। এই সংখ্যা ছোট মনে হতে পারে, কিন্তু উচ্চশিক্ষায় সুযোগের ব্যবধান বোঝার জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ। কারা আগাম আবেদন করতে পারছেন, আর কারা প্রস্তুতি, পরামর্শ বা অর্থের অভাবে পিছিয়ে যাচ্ছেন—সেই প্রশ্ন এখনই তোলা দরকার।

বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন কমার খবর অনেক সময় এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি করে: যেন তরুণেরা পড়াশোনা ছেড়ে দিচ্ছেন। তথ্য সেটি বলে না। ১৯ বছর বয়সী এবং প্রাপ্তবয়স্ক আবেদনকারীর বৃদ্ধিও আছে। ২১ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্রিটিশ আবেদনকারী এবার ৬ হাজার ৮১০, গত বছর ছিলেন ৬ হাজার ৬০০। উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের বয়স একটাই হতে হবে—এ ধারণা বদলাচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণের বিষয়। তবে এ পর্যায়ে এটিকে স্থায়ী প্রবণতা বলা তাড়াহুড়া হবে।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও খবরটি মন দিয়ে পড়তে পারেন, বিশেষত যারা যুক্তরাজ্যে চিকিৎসা বা শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন ভাবছেন। আগাম সময়সীমা পেরিয়ে গেলে সেই কোর্সগুলোর নিয়ম আলাদা; অন্য অনেক কোর্সের মূল সময়সীমা পরে। কোন কোর্সে কোন তারিখ প্রযোজ্য, তা ইউকাস ও সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান নির্দেশনা দেখে নিশ্চিত করা জরুরি। আবেদনসংখ্যা কমেছে বলে ভর্তি নিশ্চয়তা বেড়েছে, এমন ধারণাও ভুল। আসন, যোগ্যতা এবং নির্বাচনের মানদণ্ড একই সঙ্গে বিবেচ্য।

এখন সবচেয়ে সৎ উপসংহার হলো, নতুন তথ্য একটি পরিবর্তনের সংকেত দিয়েছে, উত্তর নয়। ১৮ বছর বয়সীদের আগাম আবেদন কমেছে; ১৯ বছর বয়সী, প্রাপ্তবয়স্ক এবং মেডিসিনে পুনরায় আবেদনকারী কিছু গোষ্ঠী বেড়েছে। আন্তর্জাতিক আবেদনে নিম্নগতি আছে। পরের পর্যায়ের তথ্য দেখাবে, এটি সাময়িক সময়বদল, নীতির প্রভাব, নাকি উচ্চশিক্ষা বেছে নেওয়ার বড় পরিবর্তন। শিরোনামের প্রশ্নের উত্তর পেতে তাই জানুয়ারির মূল আবেদন হিসাব এবং পরে ভর্তি ফলও দেখতে হবে।

আপনার প্রতিক্রিয়া কেমন?

শেয়ার করুন:

মন্তব্য (0)

আপনার মন্তব্য লিখুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!