উৎসবের রঙে সাজছে...
আন্তর্জাতিক

ভোটকেন্দ্রের বাইরে ধর্মীয় নেতারা কেন দাঁড়াবেন? যুক্তরাষ্ট্রে এক নতুন প্রস্তুতির গল্প

ভোটকেন্দ্রের বাইরে ধর্মীয় নেতারা কেন দাঁড়াবেন? যুক্তরাষ্ট্রে এক নতুন প্রস্তুতির গল্প
লেখা বড়/ছোট করুন:

ভোট দিতে গিয়ে মানুষ সাধারণত নির্বাচনী কর্মী, প্রার্থীসমর্থক বা পর্যবেক্ষক দেখতে অভ্যস্ত। যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের ভোটকেন্দ্রের বাইরে আরেক ধরনের স্বেচ্ছাসেবক থাকবেন—বিভিন্ন ধর্মের নেতা ও প্রশিক্ষিত সাধারণ মানুষ। তাঁদের নাম দেওয়া হয়েছে ‘পোল চ্যাপলেইন’ ও ‘পিসকিপার’। ৩ নভেম্বরের ভোটের আগে এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো উত্তেজনা কমানো এবং ভয় পাওয়া ভোটারদের পাশে শান্তভাবে থাকা। তাঁদের কাজ ভোট নেওয়া, ভোটারকে নির্দিষ্ট প্রার্থী বেছে দিতে বলা বা ভোটকেন্দ্রের ভেতরে কর্তৃত্ব করা নয়।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ২০ অক্টোবরের প্রতিবেদনে কোয়েকার, খ্রিষ্টান যাজক, ইহুদি রাব্বি এবং বৌদ্ধ সন্ন্যাসিনীর অংশগ্রহণের পরিকল্পনার কথা এসেছে। ‘ফেইথস ইউনাইটেড টু সেভ ডেমোক্রেসি’ নামের নির্দলীয় জোটটি নয়টি অঙ্গরাজ্যে স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ ও সমন্বয়ে সহায়তা করছে। সেগুলো হলো অ্যারিজোনা, মিশিগান, জর্জিয়া, ওহাইও, পেনসিলভানিয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা, উইসকনসিন, ভার্জিনিয়া এবং টেক্সাস। নির্বাচনের আগে এসব অঞ্চলে উত্তেজনার আশঙ্কা আছে বলেই তাদের ওপর বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। পরিকল্পনা প্রকাশ আর সব জায়গায় সফল বাস্তবায়ন একই বিষয় নয়; ভোটের দিনের তথ্য পরে জানতে হবে।

জোটের নিজস্ব বিবরণে উদ্যোগটি বহুধর্মীয়, বহুজাতিক এবং বিভিন্ন বয়সের মানুষকে নিয়ে গড়া। ধর্মীয় পদে থাকা ব্যক্তির পাশাপাশি সাধারণ স্বেচ্ছাসেবীরাও ‘পিসকিপার’ হতে পারেন। তাঁরা নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রের বাইরে পরিচয়চিহ্নসহ থাকবেন এবং সংঘাত প্রশমনের কৌশল শিখছেন। কেউ উত্তেজিত হলে শান্ত কথায় পরিস্থিতি সামলানো, সহায়তা কোথায় পাওয়া যায় জানানো এবং ভয় পাওয়া মানুষকে স্বস্তি দেওয়া তাঁদের ঘোষিত ভূমিকা। নির্বাচনী আইন প্রয়োগের দায়িত্ব অবশ্যই সরকারি কর্তৃপক্ষের; স্বেচ্ছাসেবকেরা সেই ক্ষমতা নিজেদের হাতে নিচ্ছেন না।

এ উদ্যোগ ধর্মীয় প্রচারণা কি না, প্রশ্ন উঠতে পারে। সংগঠকেরা বলছেন, কাজটি নির্দলীয় এবং ভোটাধিকার প্রয়োগে সহায়তার জন্য। ধর্মীয় পরিচয় তাঁদের উপস্থিতির একটি উৎস, কিন্তু ভোটারের বিশ্বাস বা দলের পছন্দ যাচাই করার কথা নয়। নানা ধর্মের মানুষ একসঙ্গে থাকলে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর একক প্রভাবের আশঙ্কা কমানোর সুযোগ থাকে; তবে আচরণে সত্যিই নিরপেক্ষতা বজায় থাকছে কি না, সেটিই বাস্তব পরীক্ষা। ভোটকেন্দ্রের বাইরে তাঁদের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভেতরের ভোটপ্রক্রিয়া ও বাইরে নাগরিক সহায়তার সীমা আলাদা।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, উদ্যোগটির শিকড় কৃষ্ণাঙ্গ চার্চের ভোটাধিকার রক্ষার দীর্ঘ অভিজ্ঞতায়। এখন বিভিন্ন ধর্মীয় ও ধর্মনিরপেক্ষ অংশীদার যুক্ত হয়েছেন। ইতিহাসে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বহু দেশে সামাজিক সংগঠনের জায়গা হিসেবে কাজ করেছে; যুক্তরাষ্ট্রেও নাগরিক অধিকার আন্দোলনে এমন ভূমিকার উদাহরণ আছে। কিন্তু ইতিহাসের মর্যাদা বর্তমান কর্মসূচির ফল নিশ্চিত করে না। কোন কেন্দ্রের বাইরে কারা থাকবেন, তাঁরা কী প্রশিক্ষণ পেয়েছেন এবং স্থানীয় নিয়ম মেনে চলছেন কি না, সেসব খোলা চোখে দেখতেই হবে।

সংঘাত কমানোর প্রশিক্ষণের প্রয়োজন কেন? নির্বাচনের সময়ে উত্তেজনাপূর্ণ কথা, অনলাইনের গুজব বা প্রতিপক্ষ সম্পর্কে ভয় মানুষের সাধারণ নাগরিক কাজে প্রভাব ফেলতে পারে। ভোটার যদি লাইনে দাঁড়ানোই অনিরাপদ মনে করেন, তাহলে আইনগত অধিকার থাকলেও তা প্রয়োগ কঠিন হয়। আবার নিরাপত্তার নামে অতিরিক্ত উপস্থিতি যদি উল্টো চাপ সৃষ্টি করে, উদ্দেশ্য ব্যর্থ হতে পারে। তাই স্বেচ্ছাসেবীদের শান্ত আচরণ, স্পষ্ট পরিচয় এবং প্রয়োজন হলে প্রকৃত নির্বাচনী কর্মকর্তার কাছে বিষয় পাঠানোর নিয়ম গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশি পাঠকের কাছে ঘটনাটি ধর্ম ও গণতন্ত্রের সম্পর্ক নিয়ে কৌতূহল জাগাতে পারে। ধর্মীয় নেতাদের উপস্থিতি নিজে ভালো বা খারাপের নিশ্চয়তা নয়; তাঁরা কাকে সাহায্য করছেন এবং কতটা নিরপেক্ষ থাকছেন, তা আসল। বহুধর্মীয় সহযোগিতা ভিন্ন বিশ্বাসের মানুষকে একই নাগরিক অধিকারের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ দেয়। একই সঙ্গে এই মডেল অন্য দেশে হুবহু নকল করা যায় না; প্রতিটি দেশের নির্বাচনী আইন, স্থানীয় ইতিহাস ও ধর্মীয় পরিবেশ আলাদা।

৩ নভেম্বরের আগে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, প্রশিক্ষিত উপস্থিতি বাস্তবে ভোটারদের আস্থা বাড়াবে কি না। তার উত্তর পেতে ভোটের দিনে অভিযোগ, পর্যবেক্ষণ এবং ভোটারদের অভিজ্ঞতা দেখতে হবে। এখন যা নিশ্চিত, তা হলো বিভিন্ন ধর্মের মানুষ যৌথভাবে শান্ত পরিবেশ তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ভোটকেন্দ্রের দরজার বাইরে তাঁদের নীরব উপস্থিতি কার্যকর হবে কি না, সেটিই দেখার বিষয়।

আপনার প্রতিক্রিয়া কেমন?

শেয়ার করুন:

মন্তব্য (0)

আপনার মন্তব্য লিখুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!