যুক্তরাষ্ট্রের আগামী কংগ্রেস নির্বাচন ঘিরে ধর্মীয় পরিচয় ও রাজনৈতিক পছন্দ আবার আলোচনায় এসেছে। রয়টার্সের ২২ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি শ্বেতাঙ্গ ইভানজেলিকাল খ্রিষ্টানদের সমর্থন আগের তুলনায় কমলেও এই গোষ্ঠী রিপাবলিকান রাজনীতির একটি শক্ত ভিত্তি রয়ে গেছে। রয়টার্স ও ইপসোসের জরিপে তাঁদের মধ্যে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন চলতি মাসে ৬৩ শতাংশ, যেখানে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ছিল ৭৭ শতাংশ। সংখ্যাটি কমেছে—এটি স্পষ্ট। কিন্তু কমার পরও কেন এই ভোটারগোষ্ঠী গুরুত্বপূর্ণ, সেই প্রশ্নের উত্তর কেবল একটি শতাংশে নেই।
প্রথমে জরিপের ভাষা বুঝতে হবে। কোনো নেতাকে সমর্থন করা, তাঁর কাজ অনুমোদন করা এবং নির্বাচনে তাঁর দলের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার ইচ্ছা এক জিনিস নয়। মানুষ প্রেসিডেন্টের কিছু কাজে অসন্তুষ্ট হয়েও নিজ জেলার কংগ্রেস নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীকে বেছে নিতে পারেন। আবার একটি ধর্মীয় পরিচয়ের মানুষের রাজনৈতিক মত একরকমও নয়। শ্বেতাঙ্গ ইভানজেলিকালদের মধ্যে বয়স, অঞ্চল, অর্থনৈতিক অবস্থান ও রাজনৈতিক অগ্রাধিকার ভিন্ন। জরিপ একটি সময়ের সামষ্টিক ছবি দেয়, প্রত্যেক ব্যক্তির বিশ্বাস বা ভোটের নিশ্চয়তা নয়।
পিউ রিসার্চ সেন্টারের অক্টোবরের বিশ্লেষণ এখানে আরেকটি দিক দেখায়। প্রতিষ্ঠানটির জরিপ অনুযায়ী, নিবন্ধিত শ্বেতাঙ্গ ইভানজেলিকাল প্রোটেস্ট্যান্ট ভোটারদের প্রায় ৭৩ শতাংশ বলেছেন, তখন নির্বাচন হলে তাঁরা প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকান প্রার্থীকে ভোট দিতেন। এই সংখ্যা রয়টার্সের ৬৩ শতাংশের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করা ভুল, কারণ প্রশ্নের বিষয় আলাদা: একটি প্রেসিডেন্টের প্রতি সমর্থন, অন্যটি কংগ্রেসের প্রার্থী পছন্দ। তবু দুটি তথ্য একসঙ্গে বোঝায়, নেতৃত্ব নিয়ে সংশয় বাড়লেও দলীয় আনুগত্য দ্রুত ভেঙে পড়েছে—এমন প্রমাণ নেই।
কেন এই সম্পর্ক এত স্থায়ী? অনেক ভোটারের কাছে গর্ভপাত, ধর্মীয় স্বাধীনতা, বিচারক নিয়োগ, শিক্ষা এবং পরিবারের মূল্যবোধ গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয়। অন্যদের কাছে জীবনযাত্রার ব্যয়, চাকরি বা আন্তর্জাতিক সংঘাত বেশি জরুরি হতে পারে। ধর্মীয় পরিচয় এখানে ভোটের একমাত্র কারণ নয়; মানুষের বিশ্বাস, সামাজিক নেটওয়ার্ক, এলাকার রাজনীতি এবং দলীয় পরিচয় একসঙ্গে কাজ করে। রয়টার্সের মাঠপর্যায়ের সাক্ষাৎকারেও গির্জার পরিবেশ ও অর্থনৈতিক উদ্বেগ উভয়ের উপস্থিতি দেখা যায়। একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়কে শুধু এক ইস্যুর প্রতীক বানালে সেই জটিল বাস্তবতা হারিয়ে যায়।
নির্বাচন নিয়ে গির্জার ভূমিকা আবার সংবেদনশীল। কোনো ধর্মীয় নেতা নাগরিক দায়িত্ব, নৈতিকতা বা জননীতির কথা বলতে পারেন। কিন্তু প্রার্থীর প্রতি সমর্থনের প্রশ্নে সদস্যদের মধ্যে ভিন্নমতও থাকতে পারে। ধর্মীয় আচার ও রাজনৈতিক প্রচারের সীমানা নিয়ে বিতর্ক তাই নতুন নয়। রয়টার্স যে দক্ষিণ ক্যারোলাইনার একটি গির্জার সভার কথা লিখেছে, সেখানে ধর্ম ও রাজনীতি নিয়ে বক্তব্য হয়েছে; প্রতিবেদন অনুযায়ী যাজক কোনো প্রার্থী বা দলকে সমর্থন জানাননি। একটি স্থানীয় উদাহরণ দিয়ে সব গির্জার আচরণ বিচার করা উচিত নয়।
সামনের ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে এই গোষ্ঠীর গুরুত্ব শুধু কতজন কাকে পছন্দ করেন, তার ওপর নির্ভর করবে না। ভোটকেন্দ্রে কারা আসবেন, কোন অঙ্গরাজ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কতটা হাড্ডাহাড্ডি, এবং অন্য ভোটারগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ কেমন—এসবও ফল নির্ধারণ করবে। তাই সমর্থনের হার কমা থেকে সরাসরি আসনসংখ্যার ভবিষ্যদ্বাণী করা যায় না। প্রচারণায় দলগুলো ধর্মীয় ভাষা ব্যবহার করলেও ভোটার শেষ পর্যন্ত বহু বাস্তব প্রশ্ন মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নেন।
এই আলোচনার বড় শিক্ষা হলো, ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে সহজ সমীকরণ সংবাদকে দুর্বল করে। ‘সবাই একইভাবে ভাবেন’ যেমন ভুল, তেমনি ‘সমর্থন কিছুটা কমেছে, তাই সম্পর্ক শেষ’ বলাও ভুল। জরিপের প্রশ্ন, সময়, নমুনা ও মাপার বিষয় দেখে তবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার। নভেম্বরের ভোটের পর বোঝা যাবে কোন উদ্বেগ ভোটারকে বেশি নাড়িয়েছে। তার আগে সবচেয়ে নির্ভুল কথা হলো: শ্বেতাঙ্গ ইভানজেলিকালদের মধ্যে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সমর্থনে পতনের ইঙ্গিত আছে, কিন্তু রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে তাঁদের ঝোঁক এখনো শক্তিশালী।
ধর্মীয় পরিচয়কে সম্মানের সঙ্গে দেখার অর্থ রাজনৈতিক প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া নয়। বরং কোন নেতা কী বলেছেন, জরিপে কী মাপা হয়েছে এবং বাস্তবে ভোটার কী করছেন—এই তিনটি আলাদা তথ্য পরীক্ষা করা। তাতে গির্জার সদস্যদের একক রাজনৈতিক ব্লক হিসেবে দেখার প্রবণতা কমে এবং নির্বাচনী সিদ্ধান্তের পেছনের বাস্তব উদ্বেগগুলো স্পষ্ট হয়।
মন্তব্য (0)
আপনার মন্তব্য লিখুন
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!