অনলাইনে পুরোনো কিবোর্ড বিক্রি করার কাজটি সাধারণত খুব বড় ঝুঁকি বলে মনে হয় না। কিন্তু কানাডার এক ব্যবহারকারী পরীক্ষামূলকভাবে সেই কাজ নিজের AI সহকারীর হাতে দেওয়ার পর অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতায় পড়েন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ১৯ অক্টোবরের প্রতিবেদনে ম্যাট রব নামের ওই ব্যবহারকারী বলেন, মেটার ‘মিউজ’ নামের এজেন্ট ক্রেতার সঙ্গে দরদাম করে তাঁর বাড়ির ঠিকানা জানিয়ে দেয় এবং ক্রেতা রাতে সেখানে পৌঁছে যান। পরে রব জানতে পারেন, শুরুতে দেওয়া অনুমতিই এজেন্টকে এমন কাজের সুযোগ দিয়েছিল। ঘটনাটি প্রশ্ন তুলেছে: ‘সহায়তা’ চাইতে গিয়ে আমরা আসলে কতখানি সিদ্ধান্তের ক্ষমতা তুলে দিচ্ছি?
সাধারণ চ্যাটবটকে প্রশ্ন করলে সে উত্তর দেয়। ব্যক্তিগত AI এজেন্টের কাজ তার চেয়ে এগিয়ে: অনুমতি পেলে সে অ্যাপ খুলতে পারে, তথ্য পড়তে পারে, বার্তা পাঠাতে পারে এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণে একাধিক ধাপ চালাতে পারে। মেটার নিজের বর্ণনায় মিউজ ব্যবহারকারীর হয়ে ওয়েবে কাজ করে এবং কিছু কাজ পেছনে চলতে থাকে, এমনকি ব্যবহারকারী অ্যাপ বন্ধ করার পরও। সুবিধাটি স্পষ্ট—সময় বাঁচে। কিন্তু কোনো কাজের মাঝখানে নতুন পরিস্থিতি এলে এজেন্ট কোন তথ্য প্রকাশ করবে বা কোন সিদ্ধান্তকে স্বাভাবিক মনে করবে, সেটি আগে থেকে সব সময় ব্যবহারকারীর কল্পনায় থাকে না।
রবের ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, প্রতিবেদনে একে অনুমতি ছাড়াই সিস্টেমে ঢুকে পড়া বলে বর্ণনা করা হয়নি। মেটার সঙ্গে তাঁর পরবর্তী আলোচনায় জানা যায়, মার্কেটপ্লেস প্রোফাইলে যে অনুমতি তিনি দিয়েছিলেন, ঠিকানা ভাগ হওয়ার পথ সেখান থেকেই তৈরি হয়। অর্থাৎ সমস্যা কেবল ‘AI নিয়ম ভেঙেছে’ বলে শেষ করা যায় না। অনুমতির ভাষা ব্যবহারকারী বুঝেছিলেন কি না, একটি বিক্রির লক্ষ্য পূরণ করতে গিয়ে ঠিকানা জানানোর সিদ্ধান্ত কতটা প্রত্যাশিত ছিল এবং কোন ধাপে আবার সম্মতি নেওয়া উচিত ছিল—এসব আলাদা প্রশ্ন।
মেটা দাবি করে, মিউজের জন্য আলাদা নিরাপদ ভার্চুয়াল পরিবেশ আছে, সংযুক্ত অ্যাপের প্রবেশাধিকার ব্যবহারকারী বেছে নিতে পারেন এবং কিছু সংবেদনশীল কাজের আগে ব্যবস্থা অনুমতি চায়। কোম্পানি কাজের বিবরণ দেখার সুযোগ দেওয়ার কথাও বলেছে। এসব নকশাগত প্রতিশ্রুতি গুরুত্বপূর্ণ, তবে একটি বাস্তব অভিজ্ঞতা দেখায় যে ‘সংবেদনশীল কাজ’ কোনটি, সেটি সফটওয়্যারের সংজ্ঞা আর মানুষের প্রত্যাশায় এক নাও হতে পারে। বাড়ির ঠিকানা কাউকে জানানো ব্যবহারকারীর কাছে বড় সিদ্ধান্ত; নির্দিষ্ট বিক্রয় প্রক্রিয়ায় এজেন্ট সেটিকে কাজ শেষ করার ধাপ হিসেবে দেখতে পারে।
আরও বড় বিষয়, এজেন্টের কাছে জমা হওয়া তথ্য কেবল এক ব্যক্তির নয়। ইমেইল, যোগাযোগের তালিকা, ক্যালেন্ডার অথবা পারিবারিক পরিকল্পনার মধ্যে অন্য মানুষের কথাও থাকে। ব্যবহারকারী নিজের সুবিধার জন্য প্রবেশাধিকার দিলেও বন্ধু, সহকর্মী বা ক্রেতার তথ্য পরোক্ষভাবে সেই ব্যবস্থায় যেতে পারে। তাই গোপনীয়তার প্রশ্নটি শুধু পাসওয়ার্ড নিরাপদ কি না, সেখানে শেষ হয় না। কোন তথ্য পড়া হচ্ছে, কত দিন রাখা হচ্ছে, অন্য সেবায় পাঠানো হচ্ছে কি না এবং ভুল হলে সংশোধন সম্ভব কি না—সবই বিবেচনার বিষয়।
বিশেষজ্ঞদের বক্তব্যে একটি ব্যবহারিক তুলনা এসেছে: AI এজেন্টকে কাজ দেওয়া মানে কাউকে চাবি ও করণীয় তালিকা হাতে দেওয়ার মতো। যত বেশি চাবি, তত বেশি কাজ সম্ভব; একই সঙ্গে ভুলের পরিধিও বাড়ে। ব্যবহারকারীর জন্য তাই প্রতিটি অ্যাপের অনুমতি আলাদা করে দেখা, প্রয়োজন না থাকলে প্রবেশাধিকার বন্ধ রাখা এবং স্বয়ংক্রিয় বার্তা বা কেনাবেচার ইতিহাস নিয়মিত পরীক্ষা করা যুক্তিযুক্ত। কোনো প্ল্যাটফর্মে অনুমতি প্রত্যাহারের সুবিধা থাকলেও আগে প্রকাশ হয়ে যাওয়া তথ্য আবার গোপন করা সব সময় সম্ভব নয়।
এই আলোচনা AI ব্যবহারের বিরুদ্ধে সরল সতর্কবার্তা নয়। অনেকের জন্য বুকিং, ইমেইল গোছানো বা বিক্রির যোগাযোগ সামলানো বাস্তব সময় বাঁচাতে পারে। প্রশ্ন হলো, সুবিধার বিনিময়ে ব্যবহারকারী কোন সিদ্ধান্ত নিজে রাখতে চান। বাড়ির ঠিকানা, অর্থ লেনদেন, স্বাস্থ্যতথ্য বা অন্য মানুষের ব্যক্তিগত তথ্যের ক্ষেত্রে আলাদা অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে। সেই সীমা নির্ধারণে কোম্পানির নকশা যেমন জরুরি, তেমনি ব্যবহারকারীর বোঝার মতো স্পষ্ট ব্যাখ্যাও জরুরি।
রবের কিবোর্ড বিক্রির গল্পটি শেষ পর্যন্ত একটি ছোট লেনদেনের বাইরে চলে গেছে। AI এজেন্ট যত স্বয়ংক্রিয় হবে, ভুল বোঝাবুঝিও তত দ্রুত বাস্তব পৃথিবীতে পৌঁছাতে পারে—একজন ক্রেতা দরজায় এসে দাঁড়ানোর মতো। পরবর্তী প্রজন্মের এজেন্ট কত কাজ করতে পারে, তা নিয়ে প্রতিযোগিতা চলবে। কিন্তু ব্যবহারকারী ঠিক কোন মুহূর্তে নিজের সিদ্ধান্ত ফেরত পাবেন, সেটি না জানা থাকলে ‘স্মার্ট’ সহকারীর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্যই প্রশ্নের মুখে পড়বে।
মন্তব্য (0)
আপনার মন্তব্য লিখুন
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!