উৎসবের রঙে সাজছে...
টেকনোলজি

এআইতে বিপুল খরচ, কর্মীদের সামনে বিদায়ের প্রস্তাব: মাইক্রোসফটে কী বদলাচ্ছে?

এআইতে বিপুল খরচ, কর্মীদের সামনে বিদায়ের প্রস্তাব: মাইক্রোসফটে কী বদলাচ্ছে?
লেখা বড়/ছোট করুন:

মাইক্রোসফট যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য নতুন ডেটা সেন্টার, চিপ ও সফটওয়্যারে অর্থ ঢালছে, তখন একই প্রতিষ্ঠানের বিপুলসংখ্যক কর্মীকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ২৬ অক্টোবর কোম্পানির প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা অ্যামি কোলম্যান একটি ‘ভলান্টারি এক্সিট অফার’ ঘোষণা করেন। সংবাদ সংস্থা এপির হিসাবে, প্রায় ৬০ হাজার কর্মী এই সুযোগের আওতায় পড়তে পারেন; জুনের শেষে কোম্পানির মোট পূর্ণকালীন কর্মী ছিলেন প্রায় ২ লাখ ২৩ হাজার। অর্থাৎ প্রস্তাবটি কর্মীবাহিনীর প্রায় ২৭ শতাংশের জন্য। তবে ৬০ হাজার মানুষকে চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে—এমন দাবি তথ্যের সঙ্গে মেলে না।

এই ব্যবস্থায় যোগ্য কর্মীরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে স্বেচ্ছায় বিদায়ের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। কোম্পানির বিবৃতি বলছে, তাঁদের আর্থিক সহায়তা ও পরবর্তী কর্মজীবন পরিকল্পনার সহায়তা দেওয়া হবে। কানাডা, ভারত, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অংশের কর্মীদের জন্য প্রস্তাবটি খোলা হয়েছে বলে এপি জানিয়েছে। সব দেশে, সব বিভাগে বা প্রত্যেক কর্মীর জন্য একই শর্ত নেই। কতজন প্রস্তাব গ্রহণ করবেন, সেটিও এখনও জানা যায়নি। সম্ভাব্য অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা আর বাস্তবে চাকরি ছাড়ার সংখ্যা এক করা তাই বড় ভুল।

প্রশ্ন উঠছে, এআইতে বিনিয়োগ বাড়ার সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের সম্পর্ক কী? মাইক্রোসফটের কর্মীসংক্রান্ত ঘোষণায় প্রতিষ্ঠান বদলানোর প্রয়োজন, নতুন দক্ষতা এবং ভেতরে অন্য কাজের সুযোগের কথা বলা হয়েছে। সংবাদমাধ্যম এই সিদ্ধান্তকে কোম্পানির বিপুল এআই ব্যয়ের প্রেক্ষাপটে দেখছে। কিন্তু শুধু এই ঘোষণার ভিত্তিতে প্রত্যেক সম্ভাব্য চাকরি বিদায়ের সরাসরি কারণ এআই বলে নিশ্চিত করা যায় না। ব্যবসার খরচ, পণ্যের অগ্রাধিকার, সাংগঠনিক কাঠামো এবং প্রযুক্তিগত পরিবর্তন—একাধিক বিষয় একসঙ্গে কাজ করতে পারে।

এখানে একটি অস্বস্তিকর দ্বৈত ছবি আছে। একদিকে প্রতিষ্ঠান এআইকে ভবিষ্যতের উৎপাদনশীলতার হাতিয়ার বলছে; অন্যদিকে কর্মীদের নতুন দক্ষতা অর্জন বা অন্য ভূমিকা খোঁজার তাগিদ দিচ্ছে। কোনও সফটওয়্যার কোম্পানি যদি একই সময়ে দ্রুত অবকাঠামো বানায় এবং কর্মীসংখ্যা কমানোর সুযোগ দেয়, বিনিয়োগকারী যেমন লাভের সম্ভাবনা দেখবেন, কর্মীরা তেমনি কাজের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন। প্রযুক্তি ব্যবহার করে কাজের ধরণ বদলাতে পারে, কিন্তু ঠিক কোন পেশার কত কাজ হারাবে, এই ঘোষণা তা নির্ধারণ করে না।

সংবাদটি বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতের কাছেও প্রাসঙ্গিক। মাইক্রোসফটের পণ্য, ক্লাউড সেবা ও কোপাইলট ব্যবহার করে বহু প্রতিষ্ঠান কাজ করে। বড় কোম্পানির সংগঠন বদলের খবর দেখে ছোট প্রতিষ্ঠানও ভাবতে পারে, এআই দিয়ে একই কাজ কম মানুষে করা যায় কি না। কিন্তু সফটওয়্যার কেনা আর কর্মীদের দক্ষতা বদলানো একই বিষয় নয়। কোনও কাজ স্বয়ংক্রিয় করার আগে মান যাচাই, তথ্য সুরক্ষা, গ্রাহকের চাহিদা এবং মানুষের দায়িত্ব কোথায় থাকবে, তা ঠিক করা প্রয়োজন। একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত স্থানীয় চাকরির বাজারে হুবহু প্রয়োগ করা যায় না।

কর্মীদের জন্যও সিদ্ধান্তটি সহজ নয়। আর্থিক প্রস্তাব কতটা যথেষ্ট, নতুন কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা কেমন, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্য সুবিধা কীভাবে বদলাবে—এসব ব্যক্তি ও দেশভেদে ভিন্ন। স্বেচ্ছায় বিদায়ের সুযোগ থাকলেও প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। আবার কেউ কেউ এই সুযোগে নতুন প্রতিষ্ঠান শুরু করতে বা অন্য ক্ষেত্রে যেতে পারেন। কোম্পানির ঘোষণায় সবাইকে একই রকম অভিজ্ঞতার মানুষ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো, স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব কোনও বাধ্যতামূলক ছাঁটাইয়ের নোটিশ নয়। প্রস্তাব গ্রহণের সময়সীমা, শর্ত এবং সম্ভাব্য সুবিধা না জেনে কর্মীদের অবস্থান সম্পর্কে এক রকম সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না। কোম্পানি কতগুলো পদ পরে পূরণ করবে বা কোন দক্ষতায় নতুন নিয়োগ দেবে, সেটিও প্রকাশিত তথ্য থেকে স্পষ্ট নয়।

এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাইক্রোসফট চলতি সপ্তাহে ত্রৈমাসিক আর্থিক ফল প্রকাশ করার কথা। সেই হিসাব থেকে এআই অবকাঠামোয় ব্যয়, আয় এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা মিলতে পারে। এই মুহূর্তে নিশ্চিত হলো, প্রায় এক-চতুর্থাংশের বেশি কর্মী স্বেচ্ছায় বিদায়ের প্রস্তাব পাওয়ার আওতায় আসতে পারেন। কতজন যাবেন এবং কোম্পানির কাজে তার প্রকৃত প্রভাব কী হবে, তা পরের তথ্য ছাড়া বলা যাবে না।

আপনার প্রতিক্রিয়া কেমন?

শেয়ার করুন:

মন্তব্য (0)

আপনার মন্তব্য লিখুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!